ঢাকা ০৭:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

পরিচালককে দোসর আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ, কক্ষে তালা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৪৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামানের যোগদানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে এই বিক্ষোভ করেন বিএনপিপন্থি পরিচয়ধারী একদল চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে তাঁর কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষুব্ধরা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, বিভাগীয় পরিচালকের দপ্তরের নিচতলায় মেডিকেল কলেজের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে নবনিযুক্ত পরিচালকের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁদের ব্যানারে লেখা ছিল–‘বরিশাল বিভাগের সর্বস্তরের চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী ও সাধারণ জনগণ’। তবে বিক্ষোভকারীদের বেশিরভাগই ছিলেন বেসরকারি সাউথ অ্যাপোলো মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষক। তাঁদের দাবি, ডা. মনিরুজ্জামান ছিলেন আওয়ামী লীগের দোসর। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপিপন্থি চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরোধে একপক্ষের প্ররোচনায় এই বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।

সাউথ অ্যাপোলো মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী শাকিলুর রহমানের ভাষ্য, বিগত আওয়ামী লীগ আমলে নিরাপদে চাকরি করেছেন ডা. মনিরুজ্জামান। কয়েক বছর শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের উপপরিচালক ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিকে বিভাগীয় পরিচালক পদে দেখতে চান না তারা। তাঁকে এখানে যোগদান করতে দেওয়া হবে না।

পরিচালকের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, গত রোববার নিয়োগ আদেশ পেয়ে সোমবার নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন ডা. মনিরুজ্জামান। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় অফিসে পৌঁছে ৫ দিনের ছুটিতে সকাল ১০টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। বিক্ষোভের সময়ে দপ্তরে ছিলেন না তিনি।

ফোনে যোগাযোগ করা হলে ডা. মনিরুজ্জামান জানান, ২০২১ সালে গঠিত জেলা ড্যাবের কমিটিতে ৮৮ নম্বর সদস্য তিনি। বরিশাল ড্যাবে অভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে। তিনি একপক্ষের আগ্রহে পরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। অপরপক্ষের প্ররোচনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করা হয়েছে। এটি এক ধরনের মব।

বরিশাল জেলা ড্যাব সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামানের ভাষ্য, ডা. মনিরুজ্জামান ছাত্রজীবনে ছাত্রদল করেছেন। আওয়ামী লীগের আমলেও ড্যাবের সঙ্গে ছিলেন। শেবাচিম হাসপাতালে প্রশাসনিক পদে থাকায় আওয়ামী লীগ আমলে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হন।

সাধারণ সম্পাদক ডা. মোনায়েম সাদ বলেন, ডা. মনিরুজ্জামান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় তাঁকে পরিচালক পদে নিয়োগ মানতে পারছেন না অনেকে। তাই বিক্ষোভ হয়েছে।
উল্লেখ্য, ডা. মনিরুজ্জামান শেবাচিম হাসপাতালে ৪ বছর সহকারী পরিচালক ও দুই বছর উপপরিচালক পদে ছিলেন। ২০২৫ সালে তাঁকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়। সর্বশেষ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

পরিচালককে দোসর আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ, কক্ষে তালা

আপডেট সময় ০১:৪৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামানের যোগদানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের দোসর আখ্যা দিয়ে এই বিক্ষোভ করেন বিএনপিপন্থি পরিচয়ধারী একদল চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে তাঁর কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন বিক্ষুব্ধরা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, বিভাগীয় পরিচালকের দপ্তরের নিচতলায় মেডিকেল কলেজের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে নবনিযুক্ত পরিচালকের বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। তাঁদের ব্যানারে লেখা ছিল–‘বরিশাল বিভাগের সর্বস্তরের চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী ও সাধারণ জনগণ’। তবে বিক্ষোভকারীদের বেশিরভাগই ছিলেন বেসরকারি সাউথ অ্যাপোলো মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী ও কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষক। তাঁদের দাবি, ডা. মনিরুজ্জামান ছিলেন আওয়ামী লীগের দোসর। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপিপন্থি চিকিৎসক সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরোধে একপক্ষের প্ররোচনায় এই বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে।

সাউথ অ্যাপোলো মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী শাকিলুর রহমানের ভাষ্য, বিগত আওয়ামী লীগ আমলে নিরাপদে চাকরি করেছেন ডা. মনিরুজ্জামান। কয়েক বছর শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের উপপরিচালক ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। জুলাইয়ের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিকে বিভাগীয় পরিচালক পদে দেখতে চান না তারা। তাঁকে এখানে যোগদান করতে দেওয়া হবে না।

পরিচালকের কার্যালয় থেকে জানা গেছে, গত রোববার নিয়োগ আদেশ পেয়ে সোমবার নতুন কর্মস্থলে যোগদান করেছেন ডা. মনিরুজ্জামান। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় অফিসে পৌঁছে ৫ দিনের ছুটিতে সকাল ১০টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। বিক্ষোভের সময়ে দপ্তরে ছিলেন না তিনি।

ফোনে যোগাযোগ করা হলে ডা. মনিরুজ্জামান জানান, ২০২১ সালে গঠিত জেলা ড্যাবের কমিটিতে ৮৮ নম্বর সদস্য তিনি। বরিশাল ড্যাবে অভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে। তিনি একপক্ষের আগ্রহে পরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। অপরপক্ষের প্ররোচনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করা হয়েছে। এটি এক ধরনের মব।

বরিশাল জেলা ড্যাব সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামানের ভাষ্য, ডা. মনিরুজ্জামান ছাত্রজীবনে ছাত্রদল করেছেন। আওয়ামী লীগের আমলেও ড্যাবের সঙ্গে ছিলেন। শেবাচিম হাসপাতালে প্রশাসনিক পদে থাকায় আওয়ামী লীগ আমলে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হন।

সাধারণ সম্পাদক ডা. মোনায়েম সাদ বলেন, ডা. মনিরুজ্জামান বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করায় তাঁকে পরিচালক পদে নিয়োগ মানতে পারছেন না অনেকে। তাই বিক্ষোভ হয়েছে।
উল্লেখ্য, ডা. মনিরুজ্জামান শেবাচিম হাসপাতালে ৪ বছর সহকারী পরিচালক ও দুই বছর উপপরিচালক পদে ছিলেন। ২০২৫ সালে তাঁকে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি করা হয়। সর্বশেষ সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ছিলেন।