ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশটির প্রধান দুই দল– ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিকান পার্টির আইনপ্রণেতারা এ নিয়ে বিভাজিত। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা করে তাঁকে পরাজিত বলছেন। তাদের অনেকেই ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধে জড়ানোরই বিরোধিতা করেছিলেন। তবে নিজ দলের ভেতরে কিছুটা সমর্থন পাচ্ছেন ট্রাম্প। তারা যুদ্ধবিরতিকে ম্লান সুরে স্বাগত জানাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির খবরকে রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা মৃদু করতালি ও কিছুটা সংশয়ের সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে, তাদের ডেমোক্র্যাট প্রতিপক্ষরা এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিশাল পরাজয় বলে অভিহিত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও যুদ্ধের প্রাথমিক সমর্থক রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এক্সে লিখেছেন, তিনি চান এ চুক্তির শেষে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করবে না। তিনি বলেন, ‘আমি পুনরায় নিশ্চিত করতে চাই– প্রায় ৯০০ পাউন্ড উচ্চসমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রতিটি আউন্স যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকতে হবে। ইরান থেকে তা অপসারণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে তারা ডার্টি বোমা তৈরি করতে বা সমৃদ্ধকরণের ব্যবসায় ফিরতে না পারে।’
রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কট যুদ্ধবিরতিকে ‘চমৎকার খবর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ইরানকে জবাবদিহি করার দিকে এটি একটি শক্তিশালী প্রথম পদক্ষেপ এবং বিশৃঙ্খলা ও দুর্বল তোষণ নীতির পরিবর্তে যখন একজন নেতা শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন, তখন এমনটাই ঘটে।’
রিপাবলিকানরা ট্রাম্পের পেছনে সারিবদ্ধ হলেও সেই সব ভাষ্যকার, যাদের মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুদ্ধের সময় পরামর্শদাতা হিসেবে ব্যবহার করেছেন, তারা এ যুদ্ধবিরতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। সিন্ডিকেটেড রেডিও ও ফক্স নিউজের উপস্থাপক মার্ক লেভিন এক্সে লিখেছেন, ‘এ ১০টি দফা একটি চরম বিপর্যয়।’ লেভিন এ যুদ্ধকে সমর্থন করেছেন। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মিত্র। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ আলোচনা থেকে ইসরায়েলকে ‘বাদ দিয়ে দিয়েছে’।
কিছুটা পরিহাসের বিষয় হলো, ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা লেভিনের সঙ্গে একমত বলে মনে হয়েছে। তাদের মতে, এ যুদ্ধবিরতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত ভুলকে পাকাপোক্ত করেছে। সিনেটর ক্রিস মারফি প্রকাশ্যে ইরানের ওপর মার্কিন হামলার বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি এ চুক্তিকে ইরানের বিজয়কে পাকাপোক্ত করা হিসেবে তীব্রভাবে সমালোচনা করেছেন।
মারফি এক্সে লিখেছেন, ‘ইরান কেন এত উৎসাহের সঙ্গে এ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল, তার রূপরেখা আমরা এখন দেখতে পাচ্ছি। তারা প্রথমবারের মতো প্রণালিটি নিয়ন্ত্রণ করবে এবং এর ওপর টোল আরোপ করবে। তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি বজায় রাখবে। তারা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র বজায় রাখবে। কী এক বিপর্যয়!’
সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার, যিনি সাধারণত ইসরায়েলের একজন কট্টর সমর্থক, তিনিও এ যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ চালানোর ক্ষমতা সীমিত করতে সিনেটের একটি ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন’ (যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাব) পাস করা প্রয়োজন।
গত মাসে সিনেটে এ প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি ব্যর্থ হয়। কারণ, প্রায় সব রিপাবলিকানই এর বিরোধিতা করেছিলেন। শুমার এক্সে লিখেছেন, ‘ট্রাম্প একজন সামরিক নির্বোধ। তাঁর এ যুদ্ধ, যার ব্যয় ৪৪ বিলিয়ন ডলার এবং গ্যাসের দাম ৪ ডলারেরও বেশি, আমাদের অবস্থাকে আজ তার শুরুর সময়ের চেয়েও খারাপ করে দিয়েছে।’ তিনি বলেন, আর যদি তিনি এ যুদ্ধ আবার শুরু করেন, তাহলে আমাদের অবস্থা আরও খারাপ হবে। এ যুদ্ধ চিরতরে শেষ করতে আমাদের অবশ্যই ‘ওয়ার পাওয়ারস রেজল্যুশন’ পাস করতে হবে।

নিজস্ব সংবাদ : 



























