ঢাকা ১১:৩১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ ভাঙচুরের অভিযোগ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:০২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭৭ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথ দিঘী ইউনিয়নের ফকির বাজারে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ ভাঙচুর ও নেতাকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।গতকাল রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের। আজ সোমবার বিকেলে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এসব অভিযোগ করা হয়।

সভায় জগন্নাথদিঘী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গির হোসন চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনের পর উত্তর দক্ষিণ চৌদ্দগ্রামে যে সহিংস ঘটনা শুরু হয়েছে তা আমাদের কারোই কাম্য ছিল না।

নির্বাচনে হার, জিত থাকবে। যিনি জয় লাভ করবেন তিনি সকল জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নিরাপত্তার দায়িত্বে ও কল্যাণে কাজ করেন। আপনারা অবগত আছেন জগন্নাথ দীঘি ইউনিয়নে নির্বাচনের আগে এবং পরে কেমন সহিংস ঘটনা ঘটেছে।’তিনি আরো বলেন, ‘গতকাল রাতে জগন্নাথদীঘি ইউনিয়ন ফকির বাজার আমাদের শহীদ জিয়ার স্মৃতি সংসদ ভাঙচুর, লুটপাট করেছে।

নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে কোনো এজেন্ট প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, পথে পথে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদেরকে হুমকি, ভোট প্রদানের বাঁধা প্রদান করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন এমন কোনো কাজ নেই তারা করেনি। নির্বাচন শেষ করার পর দক্ষিণ চৌদ্দগ্রামে জগন্নাথ দীঘি ইউনিয়নে তারা তাণ্ডব চালিয়েছে। আরাফাত রহমান কোকো নির্বাচনী অফিস ও শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ ভেঙে ক্রমান্বয়ে তারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে।
’চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবির আব্দুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘৫ই আগস্টের পর সারা দেশ যখন স্বাধীন, তখনো চৌদ্দগ্রাম স্বাধীন হয়নি। ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হওয়ার পরে এখনো চৌদ্দগ্রামে বিএনপি পরিবার স্বাধীন না। রবিবার রাতে ঢাকাতে জামায়াত আমিরের বাসায় তারেক রহমান চৌদ্দগ্রামের এমপি নায়বে আমির ডা. তাহেরকে যেভাবে বুকে জড়িয়ে নিলেন আর এমপি সাহাবের লোকজন রাতেই সেই বিএনপি অফিস ভাঙচুর করলো। এটাই হচ্ছে তাদের আসল রূপ। আমরা বিএনপি পরিবার তারেক রহমানের নিকট দৃষ্টি আকর্ষণ করছি চৌদ্দগ্রামের দিকে দৃষ্টি দেন, আপনার নেতাকর্মীরা ভালো নেই।

’উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহামমদ আলি খোকন বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দুদিন আগেই জামায়াত শিবিরের লোক পায়ের খোলার ছাত্তার মিয়ার ছেলে রনি আমার গলায় চুরি ধরে বলে নির্বাচনে এজেন্টের দায়িত্বে থাকা যাবে না। নির্বাচনের দিন মাগরিবের সময় আমাকে একা পেয়ে কিল ঘুসি লাঠি দিয়ে প্রহার ও ছুরি দিয়ে গুরুতর আঘাত করে। ভয়ে আমি অন্যের বাড়ির ছাদের উপরে একদিন-একরাত অবস্থান করি। পরে আমি পুলিশের নিকট ফোন করলে তারা ঘটনাস্থলে এসে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে চলে যায়। আমি প্রশাসনের নিকট সঠিক বিচার চাই।’

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য মুখলেসুর রহমান রানা, ইকবাল হোসেন সোহেল, পাভেল হাসান, শ্রমিক দলে সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম মেম্বার, ওয়াড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলমসহ প্রমুখ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামাতের সাধারণ সম্পাদক মু. বেলাল হোসাইন। তিনি জানান, রবিবার রাতের ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে তা তারা জানেন না। অন্য কেউ ওই ঘটনা ঘটিয়ে তাদেরকে দোষারোপও করা হতে পারে। এটি রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির জন্য চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের এই নেতা।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মোহাম্মদ কাউসার জানান, নির্বাচন পূর্বে সহিংস্রতার ঘটনা থানায় লিখিত অভিযোগ অনুসারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে গতকাল রবিবার রাতের ঘটনা তার জানা নেই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ ভাঙচুরের অভিযোগ

আপডেট সময় ১১:০২:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথ দিঘী ইউনিয়নের ফকির বাজারে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ ভাঙচুর ও নেতাকর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।গতকাল রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের। আজ সোমবার বিকেলে শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদের প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় এসব অভিযোগ করা হয়।

সভায় জগন্নাথদিঘী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গির হোসন চৌধুরী বলেন, ‘নির্বাচনের পর উত্তর দক্ষিণ চৌদ্দগ্রামে যে সহিংস ঘটনা শুরু হয়েছে তা আমাদের কারোই কাম্য ছিল না।

নির্বাচনে হার, জিত থাকবে। যিনি জয় লাভ করবেন তিনি সকল জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে নিরাপত্তার দায়িত্বে ও কল্যাণে কাজ করেন। আপনারা অবগত আছেন জগন্নাথ দীঘি ইউনিয়নে নির্বাচনের আগে এবং পরে কেমন সহিংস ঘটনা ঘটেছে।’তিনি আরো বলেন, ‘গতকাল রাতে জগন্নাথদীঘি ইউনিয়ন ফকির বাজার আমাদের শহীদ জিয়ার স্মৃতি সংসদ ভাঙচুর, লুটপাট করেছে।

নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে কোনো এজেন্ট প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, পথে পথে বিএনপি দলীয় নেতাকর্মীদেরকে হুমকি, ভোট প্রদানের বাঁধা প্রদান করা হয়েছে। নির্বাচনের দিন এমন কোনো কাজ নেই তারা করেনি। নির্বাচন শেষ করার পর দক্ষিণ চৌদ্দগ্রামে জগন্নাথ দীঘি ইউনিয়নে তারা তাণ্ডব চালিয়েছে। আরাফাত রহমান কোকো নির্বাচনী অফিস ও শহীদ জিয়া স্মৃতি সংসদ ভেঙে ক্রমান্বয়ে তারা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে।
’চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আবির আব্দুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘৫ই আগস্টের পর সারা দেশ যখন স্বাধীন, তখনো চৌদ্দগ্রাম স্বাধীন হয়নি। ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হওয়ার পরে এখনো চৌদ্দগ্রামে বিএনপি পরিবার স্বাধীন না। রবিবার রাতে ঢাকাতে জামায়াত আমিরের বাসায় তারেক রহমান চৌদ্দগ্রামের এমপি নায়বে আমির ডা. তাহেরকে যেভাবে বুকে জড়িয়ে নিলেন আর এমপি সাহাবের লোকজন রাতেই সেই বিএনপি অফিস ভাঙচুর করলো। এটাই হচ্ছে তাদের আসল রূপ। আমরা বিএনপি পরিবার তারেক রহমানের নিকট দৃষ্টি আকর্ষণ করছি চৌদ্দগ্রামের দিকে দৃষ্টি দেন, আপনার নেতাকর্মীরা ভালো নেই।

’উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহামমদ আলি খোকন বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দুদিন আগেই জামায়াত শিবিরের লোক পায়ের খোলার ছাত্তার মিয়ার ছেলে রনি আমার গলায় চুরি ধরে বলে নির্বাচনে এজেন্টের দায়িত্বে থাকা যাবে না। নির্বাচনের দিন মাগরিবের সময় আমাকে একা পেয়ে কিল ঘুসি লাঠি দিয়ে প্রহার ও ছুরি দিয়ে গুরুতর আঘাত করে। ভয়ে আমি অন্যের বাড়ির ছাদের উপরে একদিন-একরাত অবস্থান করি। পরে আমি পুলিশের নিকট ফোন করলে তারা ঘটনাস্থলে এসে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে চলে যায়। আমি প্রশাসনের নিকট সঠিক বিচার চাই।’

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য মুখলেসুর রহমান রানা, ইকবাল হোসেন সোহেল, পাভেল হাসান, শ্রমিক দলে সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম মেম্বার, ওয়াড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলমসহ প্রমুখ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামাতের সাধারণ সম্পাদক মু. বেলাল হোসাইন। তিনি জানান, রবিবার রাতের ঘটনা কে বা কারা ঘটিয়েছে তা তারা জানেন না। অন্য কেউ ওই ঘটনা ঘটিয়ে তাদেরকে দোষারোপও করা হতে পারে। এটি রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির জন্য চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের এই নেতা।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মোহাম্মদ কাউসার জানান, নির্বাচন পূর্বে সহিংস্রতার ঘটনা থানায় লিখিত অভিযোগ অনুসারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে গতকাল রবিবার রাতের ঘটনা তার জানা নেই।