ঢাকা ০১:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে ৪টা, মার্কেট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায় Logo ব্যাংক-অফিসের সময় কমছে, স্কুল-কলেজের বিষয়ে সিদ্ধান্ত কবে Logo শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান : জর্জিয়া অঙ্গরাজ্য থেকে বিশেষ সম্মাননা Logo হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহনে ‘মানবিক করিডোর’ চালুর আহ্বান ইতালির Logo হাজিদের যাতায়াত সহজ করতে মক্কায় হচ্ছে বিমানবন্দর Logo একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন-ইরান যুদ্ধ Logo ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও রাষ্ট্রগঠনে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিকল্প নেই’ Logo সত্যকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: শফিকুর রহমান Logo বিশ্বে তেল-শূন্য প্রথম দেশ হওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ Logo ইরানে হামলার উসকানি দেওয়া মার্কিন সিনেটর এখন যুদ্ধ ‘গুটিয়ে নেওয়ার পক্ষে’

কাটছে জ্বালানি সংকটের মেঘ, আসছে বড় চালান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:১৫:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

দেশের জ্বালানি বাজারে জেঁকে বসা অস্থিরতা ও মজুত সংকটের আশঙ্কা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে সাময়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি ও সফল কূটনৈতিক তৎপরতার সুফল আসতে শুরু করেছে। চলতি এপ্রিল মাসেই ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের বেশ কয়েকটি বড় চালান দেশে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, আগামীকাল শুক্রবারই (৩ এপ্রিল) প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া পুরো মাসজুড়ে পর্যায়ক্রমে আরও কয়েক লাখ টন জ্বালানি তেল আসার সময়সূচি চূড়ান্ত হয়েছে। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ ডিজেল মজুত আছে, তার সঙ্গে নতুন এই আমদানিকৃত তেল যুক্ত হলে সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মধ্যপ্রাচ্যের ওপর একক নির্ভরশীলতা কমাতে নাইজেরিয়া, কাজাখস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো থেকে তেল সংগ্রহের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। এমনকি রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল হওয়ার সুযোগে দেশটি থেকেও ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলে ডিজেলের চাহিদা মেটাতে সিঙ্গাপুরের ইউনিপ্যাক এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি কোম্পানি থেকে বড় অংকের তেল আমদানির নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ সচল রয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, শুধু ডিজেল নয়, অকটেন ও পেট্রোলের মজুত নিয়েও কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। এ মাসে ৩৭ হাজার টন অকটেনের চাহিদার বিপরীতে স্থানীয় বেসরকারি শোধনাগার থেকেই আসছে ৩০ হাজার টন। বাকি চাহিদা আমদানিকৃত তেল দিয়ে মেটানো হচ্ছে। অন্যদিকে, ৪৪ হাজার টন পেট্রোলের চাহিদার বড় অংশই স্থানীয় উৎস থেকে মেটানো সম্ভব হচ্ছে।

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপ সফল হয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের তথ্যমতে, বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী ছয়টি জাহাজকে ওই পথ দিয়ে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দর থেকে বিকল্পভাবে কেনা এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আগামী মাসের শুরুতেই দেশে পৌঁছাবে।

বিপিসি কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানোর পরিকল্পনা আগেই নিশ্চিত করা আছে। বর্তমানে তিন মাসের অগ্রিম মজুত গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার, যাতে আন্তর্জাতিক যেকোনো সংকটেও অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখা যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে ৪টা, মার্কেট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায়

কাটছে জ্বালানি সংকটের মেঘ, আসছে বড় চালান

আপডেট সময় ১১:১৫:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

দেশের জ্বালানি বাজারে জেঁকে বসা অস্থিরতা ও মজুত সংকটের আশঙ্কা কাটিয়ে ওঠার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে সাময়িক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানি ও সফল কূটনৈতিক তৎপরতার সুফল আসতে শুরু করেছে। চলতি এপ্রিল মাসেই ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের বেশ কয়েকটি বড় চালান দেশে পৌঁছানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য অনুযায়ী, আগামীকাল শুক্রবারই (৩ এপ্রিল) প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দুটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এছাড়া পুরো মাসজুড়ে পর্যায়ক্রমে আরও কয়েক লাখ টন জ্বালানি তেল আসার সময়সূচি চূড়ান্ত হয়েছে। বর্তমানে দেশে যে পরিমাণ ডিজেল মজুত আছে, তার সঙ্গে নতুন এই আমদানিকৃত তেল যুক্ত হলে সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

মধ্যপ্রাচ্যের ওপর একক নির্ভরশীলতা কমাতে নাইজেরিয়া, কাজাখস্তান, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলো থেকে তেল সংগ্রহের ওপর জোর দিচ্ছে সরকার। এমনকি রাশিয়ার ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল হওয়ার সুযোগে দেশটি থেকেও ডিজেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিলে ডিজেলের চাহিদা মেটাতে সিঙ্গাপুরের ইউনিপ্যাক এবং ইন্দোনেশিয়ার বিএসপি কোম্পানি থেকে বড় অংকের তেল আমদানির নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ সচল রয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, শুধু ডিজেল নয়, অকটেন ও পেট্রোলের মজুত নিয়েও কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। এ মাসে ৩৭ হাজার টন অকটেনের চাহিদার বিপরীতে স্থানীয় বেসরকারি শোধনাগার থেকেই আসছে ৩০ হাজার টন। বাকি চাহিদা আমদানিকৃত তেল দিয়ে মেটানো হচ্ছে। অন্যদিকে, ৪৪ হাজার টন পেট্রোলের চাহিদার বড় অংশই স্থানীয় উৎস থেকে মেটানো সম্ভব হচ্ছে।

যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকারের কূটনৈতিক পদক্ষেপ সফল হয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূতের তথ্যমতে, বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী ছয়টি জাহাজকে ওই পথ দিয়ে আসার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দর থেকে বিকল্পভাবে কেনা এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল আগামী মাসের শুরুতেই দেশে পৌঁছাবে।

বিপিসি কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানোর পরিকল্পনা আগেই নিশ্চিত করা আছে। বর্তমানে তিন মাসের অগ্রিম মজুত গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার, যাতে আন্তর্জাতিক যেকোনো সংকটেও অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখা যায়।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481