আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এক হুঙ্কার দিয়ে জানিয়েছেন, ইরান আর ‘যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা’ বরদাস্ত করবে না। তেহরান এখন যুদ্ধের চিরস্থায়ী অবসান চায় এবং তারা এমন কোনো চক্রে আর পা দেবে না যেখানে যুদ্ধ, যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে যখন বারুদের গন্ধ, তখন তেহরান থেকে ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্যে এমন সব কড়া বার্তা ছুড়লেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ।মঙ্গলবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে কালিবাফ ঝাঁঝালো ভাষায় বলেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, কিন্তু একবার যুদ্ধ শুরু হলে তারা আর কোনো নড়বড়ে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হবে না। তা!র ভাষায়, আমরা আর যুদ্ধ, যুদ্ধবিরতি এবং আলোচনার এই পুরনো চক্রে ফিরে যাব না।
কালিবাফ বিদ্রূপ করে বলেন, আমেরিকা ভেবেছিল ৭২ ঘণ্টার মধ্যেই তারা বিজয় ছিনিয়ে নেবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ওই অঞ্চলের প্রতিটি মার্কিন ঘাঁটি এখন ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে তিনি বলেন, উপায়ান্তর না দেখে মিস্টার ট্রাম্প এখন মরিয়া হয়ে দিনে কয়েক ডজন মিথ্যা কথা বলছেন।
হরমুজ প্রণালী আর আগের মতো ফিরবে না
পারস্য উপসাগরের প্রাণকেন্দ্র ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ হওয়া নিয়ে কালিবাফ স্পষ্ট করে বলেন, এটি ইরানের শখের সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি একটি প্রতিরক্ষামূলক আবশ্যকতা। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালীর আইনগত এবং নৌ-চলাচলের পরিস্থিতি আর কখনোই আগের অবস্থায় ফিরবে না। কারণ ওই অঞ্চলের আগের সেই নিরাপত্তা এখন আর নেই। তিনি আরও যোগ করেন, প্রতিবেশী দেশগুলোকে টার্গেট করা ইরানের লক্ষ্য নয়, কিন্তু যখন ইরানের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র আসবে, তখন চুপ করে বসে থাকা হবে না।
ইসরাইলি ফাঁদে ‘অপরিণত’ আমেরিকা
কলিবফ দাবি করেন, ইসরাইল মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র পাল্টে দেয়ার যে স্বপ্ন দেখেছিল, তা পূরণ হচ্ছে ঠিকই, তবে আমেরিকার আধিপত্যে নয়। তিনি বলেন, ইসরাইল আসলে ওয়াশিংটনের জন্য একটি ফাঁদ পেতেছিল এবং মার্কিন প্রশাসন তাদের ‘অপরিণত’ বুদ্ধির কারণে সেই ফাঁদে পা দিয়েছে।
এর ফলে শুধু মধ্যপ্রাচ্যই নয়, বরং পূর্ব এশিয়া থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এমনকি স্বয়ং আমেরিকার নিরাপত্তাও এখন হুমকির মুখে।
মার্কিন ও ইসরাইলি শক্তির সমালোচনা করে স্পিকার বলেন, তারা এই অঞ্চলের খনিজ ও জ্বালানি সম্পদ কুক্ষিগত করতে চেয়েছিল। কিন্তু ইরান এবং আঞ্চলিক দেশগুলো প্রমাণ করে দেবে, এই সম্পদ ও সুযোগ শুধু এই অঞ্চলের মানুষের। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে বলেন, আমরা তাদের লোভের হাত কেটে দেব; এই অঞ্চলে এই পরিবর্তন নিশ্চিতভাবেই ঘটবে।
কালিবাফের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার যে, ইরান এখন দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং তারা পশ্চিমাদের চাপিয়ে দেওয়া কোনো শর্তহীন যুদ্ধবিরতিতে যাবে না। বরং তারা এই অঞ্চলের মুসলিম দেশগুলোকে নিয়ে একটি নিজস্ব অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছে।

নিজস্ব সংবাদ : 






















