ঢাকা ০৫:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মুখোমুখি বিএনপি-আ. লীগ, বিপাকে স্থানীয় বাসিন্দারা দেশীয় রাজনীতির কেন্দ্র এখন জ্যাকসন হাইটস

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:৫১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৪৯ বার পড়া হয়েছে

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আগমনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের বাঙালিপাড়া খ্যাত কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস এখন সরগরম। শুধু সরগরম নয়, বাংলাদেশি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই এলাকাটি। গেল সপ্তাহের অধিকাংশ দিন ও রাত ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। ঘটেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা। আর এতে বিচলিত ছিলেন এখানকার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর সফরসঙ্গীরা নিউইয়র্কে আসেন ২২ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকেলে। তার আগের রাতে জ্যাকসন হাইটসে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। ২১ সেপ্টেম্বর রোববার রাত আটটার পর জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেন। দুই দলের অন্তত ৫ শতাধিক মানুষের জমায়েত এবং স্লোগানে এলাকাটিতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্লোগান দিয়ে এলাকা প্রদক্ষিণ করেন দুই দলের নেতা-কর্মীরা। কর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে নিউইয়র্ক পুলিশ এসে দুই দলের নেতা-কর্মীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
ডাইভারসিটি প্লাজার পাশে বাংলাদেশ স্ট্রিট। রোববার রাতে দুই দলের উত্তেজনার মধ্যে সেখানে নিজস্ব উদ্যোগে আসেন আওয়ামী লীগবিরোধী ইউটিউবার মাসুম রহমান। তাঁকে দেখে যুবলীগের এক কর্মী অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ডাক দেন। তখন সেই ইউটিউবার গাড়ি থেকে নেমে আওয়ামী লীগের কর্মীকে ধমক দিয়ে পুলিশে কল দেন। একই সঙ্গে  যুবলীগ কর্মীও পুলিশে কল দেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি স্লোগানের মধ্যে পুলিশ এসে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দেয়।
পাঁচ মিনিটের মধ্যে অন্তত ১০ জন করে পুলিশের দুটি দল ঘটনাস্থলে আসে। একপর্যায়ে পুলিশ জ্যাকসন হাইটসের ওই এলাকা থেকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সরিয়ে দেয়। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়। এদিন কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এদিকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ২২ সেপ্টেম্বর সোমবার বিমানবন্দরে বিক্ষোভ শেষে সন্ধ্যার পর জ্যাকসন হাইটসে সমবেত হন। রাতে সাড় ৯টার দিকে বিএনপিসমর্থিত এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, যুবলীগ নেতা মিজান তাঁকে ছুরি দিয়ে মারতে এসেছেন। এরপর জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ স্ট্রিট (৭৩ স্ট্রিট) থেকে পুলিশ মিজানকে আটক করে। এসময় তিনি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। তাঁর সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও স্লোগান দেন। ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন মিজান।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সেপ্টেম্বর এলেই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মুখর থাকে জ্যাকসন হাইটস। কিন্তু কিছু মানুষের উচ্ছৃঙ্খল আচরণে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়। সাধারণ পথচারী ও এলাকার বাসিন্দারা বিপাকে পড়েন। এতে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পথচারিরা বিব্রত হন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

আমাদের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না, ১২ ফেব্রুয়ারি বিজয় উদযাপন: নুর

মুখোমুখি বিএনপি-আ. লীগ, বিপাকে স্থানীয় বাসিন্দারা দেশীয় রাজনীতির কেন্দ্র এখন জ্যাকসন হাইটস

আপডেট সময় ০৭:৫১:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আগমনকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কের বাঙালিপাড়া খ্যাত কুইন্সের জ্যাকসন হাইটস এখন সরগরম। শুধু সরগরম নয়, বাংলাদেশি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে এই এলাকাটি। গেল সপ্তাহের অধিকাংশ দিন ও রাত ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। ঘটেছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা। আর এতে বিচলিত ছিলেন এখানকার ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর সফরসঙ্গীরা নিউইয়র্কে আসেন ২২ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকেলে। তার আগের রাতে জ্যাকসন হাইটসে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। ২১ সেপ্টেম্বর রোববার রাত আটটার পর জ্যাকসন হাইটসের ডাইভারসিটি প্লাজায় বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেন। দুই দলের অন্তত ৫ শতাধিক মানুষের জমায়েত এবং স্লোগানে এলাকাটিতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্লোগান দিয়ে এলাকা প্রদক্ষিণ করেন দুই দলের নেতা-কর্মীরা। কর্মীদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। একপর্যায়ে নিউইয়র্ক পুলিশ এসে দুই দলের নেতা-কর্মীদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
ডাইভারসিটি প্লাজার পাশে বাংলাদেশ স্ট্রিট। রোববার রাতে দুই দলের উত্তেজনার মধ্যে সেখানে নিজস্ব উদ্যোগে আসেন আওয়ামী লীগবিরোধী ইউটিউবার মাসুম রহমান। তাঁকে দেখে যুবলীগের এক কর্মী অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের ডাক দেন। তখন সেই ইউটিউবার গাড়ি থেকে নেমে আওয়ামী লীগের কর্মীকে ধমক দিয়ে পুলিশে কল দেন। একই সঙ্গে  যুবলীগ কর্মীও পুলিশে কল দেন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি স্লোগানের মধ্যে পুলিশ এসে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সরিয়ে দেয়।
পাঁচ মিনিটের মধ্যে অন্তত ১০ জন করে পুলিশের দুটি দল ঘটনাস্থলে আসে। একপর্যায়ে পুলিশ জ্যাকসন হাইটসের ওই এলাকা থেকে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সরিয়ে দেয়। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়। এদিন কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
এদিকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা ২২ সেপ্টেম্বর সোমবার বিমানবন্দরে বিক্ষোভ শেষে সন্ধ্যার পর জ্যাকসন হাইটসে সমবেত হন। রাতে সাড় ৯টার দিকে বিএনপিসমর্থিত এক ব্যক্তি পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, যুবলীগ নেতা মিজান তাঁকে ছুরি দিয়ে মারতে এসেছেন। এরপর জ্যাকসন হাইটসের বাংলাদেশ স্ট্রিট (৭৩ স্ট্রিট) থেকে পুলিশ মিজানকে আটক করে। এসময় তিনি ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। তাঁর সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও স্লোগান দেন। ২৩ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রাতে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হন মিজান।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, সেপ্টেম্বর এলেই রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মুখর থাকে জ্যাকসন হাইটস। কিন্তু কিছু মানুষের উচ্ছৃঙ্খল আচরণে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়। সাধারণ পথচারী ও এলাকার বাসিন্দারা বিপাকে পড়েন। এতে তাদের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পথচারিরা বিব্রত হন।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481