ঢাকা ০৯:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

নিউইয়র্কে বাঙালি হিন্দু কমিউনিটির মন্দিরে প্রশাসনিক জটিলতা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:০০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
  • ১২৭ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার:

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন আমেরিকান বাঙালি হিন্দু ফাউন্ডেশন ২০০৭ সালে দিলীপ নাথ, শ্যামল চক্রবর্তী ও প্রদীপ দাসের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে সংগঠনটি দুর্গাপূজা, বনভোজন, বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

সংগঠনের নিজস্ব উপাসনালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০১১ সালে নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় 104-14 Liverpool Street-এ অবস্থিত বর্তমান মহামায়া মন্দির ক্রয়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং একই বছর মন্দিরটি ক্রয় করা হয়। পরবর্তীতে মন্দিরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানের জন্য প্রথমবারের মতো একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়।

২০১৯ সালে মন্দির-সংক্রান্ত মর্টগেজ সম্পূর্ণ পরিশোধের পর দিলীপ নাথ ও শ্যামল চক্রবর্তী তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। এরপর রঞ্জিত সাহা সভাপতি এবং গোবিন্দ দাস সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে ২০২১ সালে রঞ্জিত সাহা ও গোবিন্দ দাসের পক্ষ থেকে একতরফাভাবে অতিরিক্ত ট্রাস্টি অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে, যা বোর্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য অনুমোদন করেননি। এ প্রেক্ষিতে বিষয়টি আদালতে গড়ায় এবং আদালতের হস্তক্ষেপে প্রস্তাবিত নতুন ট্রাস্টিদের অন্তর্ভুক্তি স্থগিত হয়।

২০২২ সালে রঞ্জিত সাহা, গোপাল সাহা ও তাদের সহযোগীরা মহামায়া মন্দির থেকে পৃথক হয়ে “যুগমায়া” নামে একটি পৃথক সংগঠন গঠন করেন এবং আলাদাভাবে দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে কমিউনিটির বিভিন্ন সদস্যের অনুরোধে পুনর্মিলন ও সাংগঠনিক ঐক্যের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর অংশ হিসেবে একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে গোপাল সাহা, তাপস দে, পরিমল কর্মকার ও দীপক দাসসহ অন্যান্যরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। পরে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি আদালতে দাখিল করা হয় এবং মামলার নিষ্পত্তি ঘটে।

তবে অভিযোগ রয়েছে যে, আদালতের সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী প্রশাসনিক দায়িত্ব, ব্যাংক হিসাব এবং আর্থিক নথিপত্র নতুন কমিটির নিকট যথাসময়ে হস্তান্তর করা হয়নি। আরও অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সাল থেকে সংগঠনের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব ও আর্থিক বিবরণী সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ৩১ আগস্ট ২০২২ সালে সকল পক্ষের অংশগ্রহণে এক বছরের মেয়াদে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয় এবং উভয় পক্ষের এটর্নিদের উপস্থিতিতে বোর্ড সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত সমঝোতা আদালতে দাখিল করা হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সাত দিনের মধ্যে মন্দিরের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক নথি নতুন কমিটির কাছে হস্তান্তরের কথা থাকলেও তা এখনও সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়াও অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, অপপ্রচার এবং মন্দিরের কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এমনকি ধর্মীয় কীর্তন অনুষ্ঠান বন্ধের অপচেষ্টার অভিযোগও করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মন্দিরের ভাবমূর্তি, ঐক্য ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট পক্ষ আদালতের মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত সমাধানের প্রত্যাশা করছে এবং ভক্ত ও কমিউনিটির সদস্যদের সঠিক তথ্য জানাতেই এ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

নিউইয়র্কে বাঙালি হিন্দু কমিউনিটির মন্দিরে প্রশাসনিক জটিলতা

আপডেট সময় ১২:০০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন আমেরিকান বাঙালি হিন্দু ফাউন্ডেশন ২০০৭ সালে দিলীপ নাথ, শ্যামল চক্রবর্তী ও প্রদীপ দাসের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে সংগঠনটি দুর্গাপূজা, বনভোজন, বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

সংগঠনের নিজস্ব উপাসনালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০১১ সালে নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় 104-14 Liverpool Street-এ অবস্থিত বর্তমান মহামায়া মন্দির ক্রয়ের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং একই বছর মন্দিরটি ক্রয় করা হয়। পরবর্তীতে মন্দিরের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও তত্ত্বাবধানের জন্য প্রথমবারের মতো একটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়।

২০১৯ সালে মন্দির-সংক্রান্ত মর্টগেজ সম্পূর্ণ পরিশোধের পর দিলীপ নাথ ও শ্যামল চক্রবর্তী তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন। এরপর রঞ্জিত সাহা সভাপতি এবং গোবিন্দ দাস সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

পরবর্তীতে ২০২১ সালে রঞ্জিত সাহা ও গোবিন্দ দাসের পক্ষ থেকে একতরফাভাবে অতিরিক্ত ট্রাস্টি অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে, যা বোর্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য অনুমোদন করেননি। এ প্রেক্ষিতে বিষয়টি আদালতে গড়ায় এবং আদালতের হস্তক্ষেপে প্রস্তাবিত নতুন ট্রাস্টিদের অন্তর্ভুক্তি স্থগিত হয়।

২০২২ সালে রঞ্জিত সাহা, গোপাল সাহা ও তাদের সহযোগীরা মহামায়া মন্দির থেকে পৃথক হয়ে “যুগমায়া” নামে একটি পৃথক সংগঠন গঠন করেন এবং আলাদাভাবে দুর্গাপূজার আয়োজন করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে কমিউনিটির বিভিন্ন সদস্যের অনুরোধে পুনর্মিলন ও সাংগঠনিক ঐক্যের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর অংশ হিসেবে একটি নতুন কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে গোপাল সাহা, তাপস দে, পরিমল কর্মকার ও দীপক দাসসহ অন্যান্যরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। পরে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি আদালতে দাখিল করা হয় এবং মামলার নিষ্পত্তি ঘটে।

তবে অভিযোগ রয়েছে যে, আদালতের সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী প্রশাসনিক দায়িত্ব, ব্যাংক হিসাব এবং আর্থিক নথিপত্র নতুন কমিটির নিকট যথাসময়ে হস্তান্তর করা হয়নি। আরও অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সাল থেকে সংগঠনের আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব ও আর্থিক বিবরণী সদস্যদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি।

উল্লেখ্য, ৩১ আগস্ট ২০২২ সালে সকল পক্ষের অংশগ্রহণে এক বছরের মেয়াদে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয় এবং উভয় পক্ষের এটর্নিদের উপস্থিতিতে বোর্ড সদস্যদের স্বাক্ষরযুক্ত সমঝোতা আদালতে দাখিল করা হয়। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সাত দিনের মধ্যে মন্দিরের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক নথি নতুন কমিটির কাছে হস্তান্তরের কথা থাকলেও তা এখনও সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

এছাড়াও অভিযোগ করা হয়েছে, কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, অপপ্রচার এবং মন্দিরের কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এমনকি ধর্মীয় কীর্তন অনুষ্ঠান বন্ধের অপচেষ্টার অভিযোগও করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, মন্দিরের ভাবমূর্তি, ঐক্য ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট পক্ষ আদালতের মাধ্যমে ন্যায়সঙ্গত সমাধানের প্রত্যাশা করছে এবং ভক্ত ও কমিউনিটির সদস্যদের সঠিক তথ্য জানাতেই এ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে।