ঢাকা ০৮:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বিশ্বে তেল-শূন্য প্রথম দেশ হওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:০৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পর্যন্ত টানা ৩৩ দিনে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। তেলের দাম হয়েছে আকাশচুম্বী। তেলের সংকট মোকাবিলায় বিশ্বের অনেক দেশই নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট- এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের প্রথম তেল শেষ হয়ে যাওয়া দেশ হতে পারে বাংলাদেশ। বুধবার (১ এপ্রিল) ইনডিপেনডেন্ট এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশে। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশে মোট জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি-সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বহু মোটরসাইকেলচালক ও পরিবহনকর্মী ঘণ্টার পর ঘণ্টা সারিতে দাঁড়িয়ে সীমিত পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। কেউ কেউ ফিরছেন খালি হাতে।

কারণ, পাম্পে জ্বালানি ফুরিয়ে যাচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি হয়েছে। রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতেও যানবাহনের সংখ্যা কমে এসেছে।

অন্যদিকে যুদ্ধ কবে নাগাদ শেষ হবে এবং ইরান হরমুজ প্রণালি আবার খুলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পারস্য উপসাগর থেকে ভারত মহাসাগরে যাওয়ার এই পথ দিয়ে এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি রেশনিং চালু করতে যাচ্ছে। ডিজেল বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নির্দেশনা, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপের কথাও ভাবা হচ্ছে। ঈদুল ফিতরের সময় সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলীয় একমাত্র শোধনাগার ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে’ মজুত অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ খুবই সীমিত। মাত্র দুই সপ্তাহের মতো চাহিদা মেটানো সম্ভব এই তেল দিয়ে।

একইভাবে ডিজেল ও অকটেনের মজুতও দ্রুত কমে আসছে। মার্চের শুরুর হিসাব অনুযায়ী, ডিজেলের মজুত ছিল মাত্র ৯ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো।

যুদ্ধে উদ্বিগ্ন চীন, মধ্যস্থতায় কতটা সফল হবেন শি? যুদ্ধে উদ্বিগ্ন চীন, মধ্যস্থতায় কতটা সফল হবেন শি?
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার নতুন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এ ছাড়া রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের অনুরোধও জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার দাবি করছে, দেশে কোনো জ্বালানি-সংকট নেই। তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।

আমরা সবাই জুলাই প্রোডাক্ট— ডা. শফিকুর রহমান

বিশ্বে তেল-শূন্য প্রথম দেশ হওয়ার ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

আপডেট সময় ০৭:০৫:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পর্যন্ত টানা ৩৩ দিনে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। তেলের দাম হয়েছে আকাশচুম্বী। তেলের সংকট মোকাবিলায় বিশ্বের অনেক দেশই নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট- এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বের প্রথম তেল শেষ হয়ে যাওয়া দেশ হতে পারে বাংলাদেশ। বুধবার (১ এপ্রিল) ইনডিপেনডেন্ট এই রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে সবচেয়ে বড় ধাক্কা লাগতে পারে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশে। প্রায় ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশে মোট জ্বালানির প্রায় ৯৫ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

ইতোমধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জ্বালানি-সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বহু মোটরসাইকেলচালক ও পরিবহনকর্মী ঘণ্টার পর ঘণ্টা সারিতে দাঁড়িয়ে সীমিত পরিমাণ জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। কেউ কেউ ফিরছেন খালি হাতে।

কারণ, পাম্পে জ্বালানি ফুরিয়ে যাচ্ছে। এতে করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় চাপ তৈরি হয়েছে। রাজধানীর ব্যস্ত সড়কগুলোতেও যানবাহনের সংখ্যা কমে এসেছে।

অন্যদিকে যুদ্ধ কবে নাগাদ শেষ হবে এবং ইরান হরমুজ প্রণালি আবার খুলবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পারস্য উপসাগর থেকে ভারত মহাসাগরে যাওয়ার এই পথ দিয়ে এশিয়ার প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ সরকার জ্বালানি রেশনিং চালু করতে যাচ্ছে। ডিজেল বিক্রিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নির্দেশনা, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার মতো পদক্ষেপের কথাও ভাবা হচ্ছে। ঈদুল ফিতরের সময় সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চলীয় একমাত্র শোধনাগার ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে’ মজুত অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ খুবই সীমিত। মাত্র দুই সপ্তাহের মতো চাহিদা মেটানো সম্ভব এই তেল দিয়ে।

একইভাবে ডিজেল ও অকটেনের মজুতও দ্রুত কমে আসছে। মার্চের শুরুর হিসাব অনুযায়ী, ডিজেলের মজুত ছিল মাত্র ৯ দিনের চাহিদা মেটানোর মতো।

যুদ্ধে উদ্বিগ্ন চীন, মধ্যস্থতায় কতটা সফল হবেন শি? যুদ্ধে উদ্বিগ্ন চীন, মধ্যস্থতায় কতটা সফল হবেন শি?
এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকার নতুন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, আজারবাইজানসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এ ছাড়া রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের অনুরোধও জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার দাবি করছে, দেশে কোনো জ্বালানি-সংকট নেই। তবে বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481