ঢাকা ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

তিন দশক ধরে ঐতিহ্যের স্বাদ বহন করছে চুনিলাল মিষ্টি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ৭৭ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারের ছোট্ট এক দোকান আজ পরিচিত সারা দেশে। কারণ, সেখানে তৈরি হয় বিখ্যাত চুনিলাল মিষ্টি। যা স্থানীয়দের কাছে ‘রাজভোগ’ নামে পরিচিত। প্রায় তিন দশক ধরে সুনামের সঙ্গে এই মিষ্টি তৈরি করে আসছেন এলাকার প্রবীণ মিষ্টি কারিগর সুনীল মল্লিক ওরফে চুনিলাল (৭০)।

দেখতে সাধারণ হলেও সম্পূর্ণ দুধের ছানায় তৈরি এই মিষ্টির ভেতরটা নরম ও তুলতুলে। মুখে দিলেই গলে যায়। প্রতিটি রাজভোগের ওজন প্রায় ১৫০ গ্রাম এবং বর্তমানে এর দাম রাখা হয়েছে ৫০ টাকা।

চুনিলাল জানান, পাশের নাসিরনগর উপজেলার গৌরাঙ্গ রায়ের কাছ থেকে দুধের ছানায় রাজভোগ তৈরির কৌশল শেখেন তিনি। ১৯৮৮ সালে অরুয়াইল বাজারে চায়ের দোকান দিয়ে তার ব্যবসার শুরু হয়। শুরুতে চা, পুরি ও সিঙ্গারা বিক্রি করলেও পরবর্তীতে রাজভোগ তৈরিই তার মূল পেশা হয়ে ওঠে। এখন তার ছেলে গোপাল মল্লিক এই কাজে সহযোগিতা করছেন।

প্রতিদিন সকালে ছানা তৈরি থেকে শুরু করে বিকেল নাগাদ বিক্রি শেষ হয়ে যায় সব মিষ্টি। একেকটি কড়াইয়ে প্রায় ৮০টি মিষ্টি তৈরি হয়। দুপুর দেড়টার পর বিক্রি শুরু হয়, আর সন্ধ্যার আগেই সব বিক্রি শেষ হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, চুনিলালের মিষ্টির স্বাদ অন্য কোনো মিষ্টিতে পাওয়া যায় না। কেউ কেউ বলেন, এই মিষ্টি খেলে মনে হয় স্বাদের কোনো শেষ নেই। অনেকেই আত্মীয়-স্বজনের জন্য উপহার হিসেবে এই মিষ্টি নিয়ে যান দেশের নানা প্রান্তে, এমনকি বিদেশেও পাঠানো হয়।

চুনিলাল বলেন, “আমি চেষ্টা করি নির্ভেজালভাবে মিষ্টি বানানোর জন্য। মানুষ ভালো বললে আমার ভালো লাগে। প্রতিদিন যতটা বানাই, ততটাই বিক্রি হয়।”

স্থানীয়রা মনে করেন, চুনিলাল মিষ্টি এখন শুধু একটি মিষ্টি নয়, বরং অরুয়াইল বাজারের পরিচিতি, ঐতিহ্য ও গর্ব।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

তিন দশক ধরে ঐতিহ্যের স্বাদ বহন করছে চুনিলাল মিষ্টি

আপডেট সময় ১১:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার অরুয়াইল বাজারের ছোট্ট এক দোকান আজ পরিচিত সারা দেশে। কারণ, সেখানে তৈরি হয় বিখ্যাত চুনিলাল মিষ্টি। যা স্থানীয়দের কাছে ‘রাজভোগ’ নামে পরিচিত। প্রায় তিন দশক ধরে সুনামের সঙ্গে এই মিষ্টি তৈরি করে আসছেন এলাকার প্রবীণ মিষ্টি কারিগর সুনীল মল্লিক ওরফে চুনিলাল (৭০)।

দেখতে সাধারণ হলেও সম্পূর্ণ দুধের ছানায় তৈরি এই মিষ্টির ভেতরটা নরম ও তুলতুলে। মুখে দিলেই গলে যায়। প্রতিটি রাজভোগের ওজন প্রায় ১৫০ গ্রাম এবং বর্তমানে এর দাম রাখা হয়েছে ৫০ টাকা।

চুনিলাল জানান, পাশের নাসিরনগর উপজেলার গৌরাঙ্গ রায়ের কাছ থেকে দুধের ছানায় রাজভোগ তৈরির কৌশল শেখেন তিনি। ১৯৮৮ সালে অরুয়াইল বাজারে চায়ের দোকান দিয়ে তার ব্যবসার শুরু হয়। শুরুতে চা, পুরি ও সিঙ্গারা বিক্রি করলেও পরবর্তীতে রাজভোগ তৈরিই তার মূল পেশা হয়ে ওঠে। এখন তার ছেলে গোপাল মল্লিক এই কাজে সহযোগিতা করছেন।

প্রতিদিন সকালে ছানা তৈরি থেকে শুরু করে বিকেল নাগাদ বিক্রি শেষ হয়ে যায় সব মিষ্টি। একেকটি কড়াইয়ে প্রায় ৮০টি মিষ্টি তৈরি হয়। দুপুর দেড়টার পর বিক্রি শুরু হয়, আর সন্ধ্যার আগেই সব বিক্রি শেষ হয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, চুনিলালের মিষ্টির স্বাদ অন্য কোনো মিষ্টিতে পাওয়া যায় না। কেউ কেউ বলেন, এই মিষ্টি খেলে মনে হয় স্বাদের কোনো শেষ নেই। অনেকেই আত্মীয়-স্বজনের জন্য উপহার হিসেবে এই মিষ্টি নিয়ে যান দেশের নানা প্রান্তে, এমনকি বিদেশেও পাঠানো হয়।

চুনিলাল বলেন, “আমি চেষ্টা করি নির্ভেজালভাবে মিষ্টি বানানোর জন্য। মানুষ ভালো বললে আমার ভালো লাগে। প্রতিদিন যতটা বানাই, ততটাই বিক্রি হয়।”

স্থানীয়রা মনে করেন, চুনিলাল মিষ্টি এখন শুধু একটি মিষ্টি নয়, বরং অরুয়াইল বাজারের পরিচিতি, ঐতিহ্য ও গর্ব।