ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

অনলাইন জুয়ার ফাঁদে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন গ্রামের মানুষ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:৫৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫
  • ৭৪ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার গ্রামাঞ্চলে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়া নামক সামাজিক ব্যাধি। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে এখন গ্রামের তরুণ থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক অনেকেই অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, স্থানীয় বিকাশ দোকান, হাট-বাজার কিংবা চায়ের দোকানেও মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়া খেলার দৃশ্য। এক বিকাশ এজেন্টের দোকানে দেখা যায়, অটোরিকশা চালক নিজের একাউন্টে টাকা জমা দিতে এসে ফোনে ব্যস্ত। তার মোবাইল স্ক্রিনে খোলা ছিল একটি অনলাইন জুয়ার সাইট। বোঝা যায়, তিনি টাকা রিচার্জ করে জুয়া খেলছেন। দেখতে ভিডিও গেমের মতো হলেও, সেখানে প্রতিনিয়ত হারাচ্ছেন তার কষ্টার্জিত টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, লোভের বশবর্তী হয়ে অনেক যুবক এই জুয়ার জগতে পা রেখেছেন। কেউ কেউ ভাগ্যের জোরে কিছু টাকা জিতে হঠাৎ ধনী হয়ে পড়ছেন, আবার অনেকেই সব হারিয়ে পথে বসছেন। এলাকায় এমন অনেকের দেখা মেলে যারা কোনো দৃশ্যমান কাজ না করেও হঠাৎ বাড়ি, গাড়ির মালিক হয়েছেন। ফলে অনেক তরুণ তাদের অনুকরণ করে লোভে পড়ে সব হারিয়ে ফেলছেন।

সিএনজি চালক আব্দুল হালিম বলেন, আগে আমার দুটি সিএনজি ছিল। এক পরিচিত বন্ধুর মাধ্যমে অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়ি। প্রথমে কিছু টাকা জিতেছিলাম, পরে হারতে হারতে সব শেষ। এখন আমি একেবারে নিঃস্ব।

দিনমজুর রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন কাজ করে ১২০০ টাকা আয় করতাম, যা দিয়ে সংসার ভালোভাবেই চলতো। একদিন এক বন্ধুকে দেখি ১০ মিনিটে ১০০ টাকার বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা জিতলো। এটা দেখে লোভে পড়ে আমিও জুয়া খেলতে শুরু করি। এখন ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আমি পালিয়ে বেড়াই।

স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জুয়া খেলার পেছনে কাজ করছে একাধিক স্থানীয় এজেন্ট। তারা মূলত অনলাইন জুয়া সাইটের প্রতিনিধিত্ব করে। একজন খেলোয়াড় যত বেশি টাকা হারান, তার নির্দিষ্ট একটি শতাংশ সরাসরি ওই এজেন্টের একাউন্টে জমা হয়। ফলে দিন দিন এজেন্টের সংখ্যা বাড়ছে এবং তারাই এই জুয়ার নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে গ্রামে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অনলাইন জুয়া বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক ভূমিকা নিতে হবে। একই সঙ্গে টেলিকম ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে এসব অবৈধ অ্যাপ ও লেনদেন বন্ধ করা যায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

অনলাইন জুয়ার ফাঁদে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন গ্রামের মানুষ

আপডেট সময় ০২:৫৬:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার গ্রামাঞ্চলে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইন জুয়া নামক সামাজিক ব্যাধি। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে এখন গ্রামের তরুণ থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্ক অনেকেই অনলাইন জুয়ার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।

বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, স্থানীয় বিকাশ দোকান, হাট-বাজার কিংবা চায়ের দোকানেও মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়া খেলার দৃশ্য। এক বিকাশ এজেন্টের দোকানে দেখা যায়, অটোরিকশা চালক নিজের একাউন্টে টাকা জমা দিতে এসে ফোনে ব্যস্ত। তার মোবাইল স্ক্রিনে খোলা ছিল একটি অনলাইন জুয়ার সাইট। বোঝা যায়, তিনি টাকা রিচার্জ করে জুয়া খেলছেন। দেখতে ভিডিও গেমের মতো হলেও, সেখানে প্রতিনিয়ত হারাচ্ছেন তার কষ্টার্জিত টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, লোভের বশবর্তী হয়ে অনেক যুবক এই জুয়ার জগতে পা রেখেছেন। কেউ কেউ ভাগ্যের জোরে কিছু টাকা জিতে হঠাৎ ধনী হয়ে পড়ছেন, আবার অনেকেই সব হারিয়ে পথে বসছেন। এলাকায় এমন অনেকের দেখা মেলে যারা কোনো দৃশ্যমান কাজ না করেও হঠাৎ বাড়ি, গাড়ির মালিক হয়েছেন। ফলে অনেক তরুণ তাদের অনুকরণ করে লোভে পড়ে সব হারিয়ে ফেলছেন।

সিএনজি চালক আব্দুল হালিম বলেন, আগে আমার দুটি সিএনজি ছিল। এক পরিচিত বন্ধুর মাধ্যমে অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়ি। প্রথমে কিছু টাকা জিতেছিলাম, পরে হারতে হারতে সব শেষ। এখন আমি একেবারে নিঃস্ব।

দিনমজুর রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন কাজ করে ১২০০ টাকা আয় করতাম, যা দিয়ে সংসার ভালোভাবেই চলতো। একদিন এক বন্ধুকে দেখি ১০ মিনিটে ১০০ টাকার বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা জিতলো। এটা দেখে লোভে পড়ে আমিও জুয়া খেলতে শুরু করি। এখন ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আমি পালিয়ে বেড়াই।

স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, জুয়া খেলার পেছনে কাজ করছে একাধিক স্থানীয় এজেন্ট। তারা মূলত অনলাইন জুয়া সাইটের প্রতিনিধিত্ব করে। একজন খেলোয়াড় যত বেশি টাকা হারান, তার নির্দিষ্ট একটি শতাংশ সরাসরি ওই এজেন্টের একাউন্টে জমা হয়। ফলে দিন দিন এজেন্টের সংখ্যা বাড়ছে এবং তারাই এই জুয়ার নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে গ্রামে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অনলাইন জুয়া বন্ধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সবাইকে সতর্ক ভূমিকা নিতে হবে। একই সঙ্গে টেলিকম ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও কঠোর নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে এসব অবৈধ অ্যাপ ও লেনদেন বন্ধ করা যায়।