ঢাকা ১২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

বাংলাদেশকে বিনিয়োগ-বান্ধব করতে সরকার সবকিছু করবে: মাহ্দী আমিন

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:৪১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশকে একটি বিশ্বমানের বিনিয়োগ-বান্ধব দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানী বনানীর শেরাটন হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) – বাংলাদেশ-এর ৩১তম বার্ষিক কাউন্সিলে তিনি একথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশকে একটি বিনিয়োগ-বান্ধব দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আমরা সম্ভাব্য সবকিছু করব।’ ব্যবসার ব্যয় কমিয়ে আনার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি বলেন, সরকারের মূলনীতি হলো আমলাতন্ত্র এবং নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণের একটি উন্নত নীতি কাঠামোর মাধ্যমে ব্যবসা করার খরচ কমানো, যার ফলে ব্যবসা করার সহজতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস তথা ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই সুস্পষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেশ কিছু দৃশ্যমান সাফল্য এসেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তবে এসব লক্ষ্যমাত্রা ও পরিকল্পনা দেশজুড়ে বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়ন করতে বেসরকারি খাতের ব্যাপক সমর্থন প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশ উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বেসরকারি খাত-চালিত দেশ হিসেবে এগিয়ে যাক। কিন্তু কোনো সরকারই একা এটা করতে পারে না। ঐতিহাসিকভাবে আমরা দেখেছি, শীর্ষস্থানীয় বহু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের গল্প রয়েছে। আমরা চাই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের হাত ধরে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এই ধারা বেসরকারি খাত থেকে সরকারি খাতে স্থানান্তরিত হোক এবং সরকার হিসেবে আমরা তা আনন্দের সাথে গ্রহণ করব।’

বাজেট ও অর্থনৈতিক নীতিমালার কথা উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথম বাজেটের মাধ্যমেই সরকারের ভবিষ্যৎ রূপকল্প অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দৈনন্দিন খরচ ও দ্রব্যমূল্য কমানোর ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সরকারের মূল নীতি হলো বাংলাদেশকে যথাসম্ভব আত্মনির্ভরশীল করে তোলা। দেশের যেসকল খাতে রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে, সেখানে কাঁচামালের দাম কমানো নিশ্চিত করতে বর্তমানে বন্ডেড সুবিধা আরও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতাকে সুরক্ষা দিতে ইনপুট ট্যাক্স বৃদ্ধি করা এবং দেশীয় পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের সুবিধা নিতে পারে। স্থানীয় ব্যবসা যেন আরও উন্নতি লাভ করতে পারে, সরকার সেই পরিবেশ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর।’

মাহ্দী আমিন আরও বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করতে নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ এবং অর্থনৈতিক উদারীকরণের জন্য সরকার বড় ধরনের উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।’ আগামী দিনগুলোতে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে সঙ্গতি রেখে এর আরও বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারি খাতের নীতিমালার সাথে সংগতি রেখে, বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে সম্মিলিতভাবে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মাহ্দী আমিন। বার্ষিক কাউন্সিলে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-আইসিসিসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

বাংলাদেশকে বিনিয়োগ-বান্ধব করতে সরকার সবকিছু করবে: মাহ্দী আমিন

আপডেট সময় ০২:৪১:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশকে একটি বিশ্বমানের বিনিয়োগ-বান্ধব দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানী বনানীর শেরাটন হোটেলে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) – বাংলাদেশ-এর ৩১তম বার্ষিক কাউন্সিলে তিনি একথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, ‘বাংলাদেশকে একটি বিনিয়োগ-বান্ধব দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে আমরা সম্ভাব্য সবকিছু করব।’ ব্যবসার ব্যয় কমিয়ে আনার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি বলেন, সরকারের মূলনীতি হলো আমলাতন্ত্র এবং নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণের একটি উন্নত নীতি কাঠামোর মাধ্যমে ব্যবসা করার খরচ কমানো, যার ফলে ব্যবসা করার সহজতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস তথা ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার আগেই সুস্পষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেশ কিছু দৃশ্যমান সাফল্য এসেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তবে এসব লক্ষ্যমাত্রা ও পরিকল্পনা দেশজুড়ে বৃহৎ পরিসরে বাস্তবায়ন করতে বেসরকারি খাতের ব্যাপক সমর্থন প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা চাই বাংলাদেশ উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বেসরকারি খাত-চালিত দেশ হিসেবে এগিয়ে যাক। কিন্তু কোনো সরকারই একা এটা করতে পারে না। ঐতিহাসিকভাবে আমরা দেখেছি, শীর্ষস্থানীয় বহু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের গল্প রয়েছে। আমরা চাই দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের হাত ধরে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এই ধারা বেসরকারি খাত থেকে সরকারি খাতে স্থানান্তরিত হোক এবং সরকার হিসেবে আমরা তা আনন্দের সাথে গ্রহণ করব।’

বাজেট ও অর্থনৈতিক নীতিমালার কথা উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রথম বাজেটের মাধ্যমেই সরকারের ভবিষ্যৎ রূপকল্প অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন। যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দৈনন্দিন খরচ ও দ্রব্যমূল্য কমানোর ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সরকারের মূল নীতি হলো বাংলাদেশকে যথাসম্ভব আত্মনির্ভরশীল করে তোলা। দেশের যেসকল খাতে রপ্তানিযোগ্য পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে, সেখানে কাঁচামালের দাম কমানো নিশ্চিত করতে বর্তমানে বন্ডেড সুবিধা আরও সম্প্রসারিত করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতাকে সুরক্ষা দিতে ইনপুট ট্যাক্স বৃদ্ধি করা এবং দেশীয় পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের সুবিধা নিতে পারে। স্থানীয় ব্যবসা যেন আরও উন্নতি লাভ করতে পারে, সরকার সেই পরিবেশ তৈরি করতে বদ্ধপরিকর।’

মাহ্দী আমিন আরও বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে গতিশীল করতে নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ এবং অর্থনৈতিক উদারীকরণের জন্য সরকার বড় ধরনের উদ্যোগ হাতে নিয়েছে।’ আগামী দিনগুলোতে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে সঙ্গতি রেখে এর আরও বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারি খাতের নীতিমালার সাথে সংগতি রেখে, বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে সম্মিলিতভাবে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন মাহ্দী আমিন। বার্ষিক কাউন্সিলে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-আইসিসিসহ বেশ কয়েকটি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।