ঢাকা ০৮:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রয়োজন

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৫৪:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ৬৪ বার পড়া হয়েছে

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্রমবর্ধমান মানবিক ও স্বাস্থ্য সংকট নিরসনে বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে ড. মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি এখন আর শুধু শরণার্থী সমস্যা নয়। এটি ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক ও জাতীয় জনস্বাস্থ্য-বিষয়ক উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।

রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে ড. মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশনের সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। এতে বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ক্যাপ্টেন একেএম গোলাম কিবরিয়া ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন বিভাগের সাবেক পরিচালক ড. সুলতানা খানম।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর ভেতর দ্রুত অবনতিশীল স্বাস্থ্য পরিস্থিতির তথ্য তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রোহিঙ্গা শিবিরে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব, অপুষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা এবং অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে, যা বিশেষজ্ঞদের ভাষায় একটি ‘জৈবিক টাইম বোমা’ তৈরি করছে। অবিলম্বে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তা সেখানকার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও জাতীয় স্থিতিশীলতা রক্ষার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

সংবাদ সম্মেলনে শরণার্থী শিবিরে যুবকদের সম্পৃক্ততা ও শিক্ষার জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করে বলা হয়, দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্ব, শিক্ষার অভাব ও কাঠামোগত সুযোগের অনুপস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ যুবকদের অপরাধ চক্র, মাদকাসক্তি, মাদক ও মানব পাচার, সাইবার অপরাধ, চরমপন্থা ও সামাজিক অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এতে জানানো হয়, গত ৫ থেকে ৭ মে কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে ড. মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশন পরিচালিত তিন দিনব্যাপী জরুরি চিকিৎসা মিশনে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি রোগীকে ওষুধপত্র ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগের লক্ষ্য শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মানবিক সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা।

গোলাম কিবরিয়া বলেন, মানবিক পরিবর্তন কেবল আর্থিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক সংহতির ওপর নির্ভর করতে পারে না। বরং এ জন্য প্রয়োজন সরাসরি মানবিক অংশগ্রহণ ও স্বেচ্ছাসেবা। রোহিঙ্গা শিবিরে নানামুখী সহায়তা দিয়ে ড. মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশন সে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব সম্প্রদায়কে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এগুলো হলো– শরণার্থী শিবিরে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা হস্তক্ষেপ; টেকসই শিক্ষা ও উদ্বাস্তু যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন; শক্তিশালী আন্তর্জাতিক দায়ভার ভাগাভাগি ব্যবস্থা; রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক জবাবদিহি।

এ সময় রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে এ সংকটের প্রতি বিশ্বব্যাপী সচেতনতা ও নীতিগত মনোযোগ আকর্ষণে সহায়তা করার জন্য সাংবাদিক ও গণমাধ্যম সংস্থার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বৈশ্বিক পদক্ষেপ প্রয়োজন

আপডেট সময় ১২:৫৪:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্রমবর্ধমান মানবিক ও স্বাস্থ্য সংকট নিরসনে বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে ড. মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি বলেছে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি এখন আর শুধু শরণার্থী সমস্যা নয়। এটি ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক ও জাতীয় জনস্বাস্থ্য-বিষয়ক উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।

রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনী মিলনায়তনে ড. মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশনের সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। এতে বক্তব্য দেন ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ক্যাপ্টেন একেএম গোলাম কিবরিয়া ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) স্বাস্থ্য ব্যবস্থা উন্নয়ন বিভাগের সাবেক পরিচালক ড. সুলতানা খানম।

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর ভেতর দ্রুত অবনতিশীল স্বাস্থ্য পরিস্থিতির তথ্য তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রোহিঙ্গা শিবিরে সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব, অপুষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা এবং অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে, যা বিশেষজ্ঞদের ভাষায় একটি ‘জৈবিক টাইম বোমা’ তৈরি করছে। অবিলম্বে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তা সেখানকার বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও জাতীয় স্থিতিশীলতা রক্ষার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

সংবাদ সম্মেলনে শরণার্থী শিবিরে যুবকদের সম্পৃক্ততা ও শিক্ষার জরুরি প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করে বলা হয়, দীর্ঘস্থায়ী বেকারত্ব, শিক্ষার অভাব ও কাঠামোগত সুযোগের অনুপস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ যুবকদের অপরাধ চক্র, মাদকাসক্তি, মাদক ও মানব পাচার, সাইবার অপরাধ, চরমপন্থা ও সামাজিক অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এতে জানানো হয়, গত ৫ থেকে ৭ মে কক্সবাজারের কুতুপালং ক্যাম্পে ড. মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশন পরিচালিত তিন দিনব্যাপী জরুরি চিকিৎসা মিশনে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি রোগীকে ওষুধপত্র ও স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগের লক্ষ্য শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও মানবিক সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা।

গোলাম কিবরিয়া বলেন, মানবিক পরিবর্তন কেবল আর্থিক সহযোগিতা এবং বৈশ্বিক সংহতির ওপর নির্ভর করতে পারে না। বরং এ জন্য প্রয়োজন সরাসরি মানবিক অংশগ্রহণ ও স্বেচ্ছাসেবা। রোহিঙ্গা শিবিরে নানামুখী সহায়তা দিয়ে ড. মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশন সে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্ব সম্প্রদায়কে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এগুলো হলো– শরণার্থী শিবিরে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা হস্তক্ষেপ; টেকসই শিক্ষা ও উদ্বাস্তু যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন; শক্তিশালী আন্তর্জাতিক দায়ভার ভাগাভাগি ব্যবস্থা; রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক জবাবদিহি।

এ সময় রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরে এ সংকটের প্রতি বিশ্বব্যাপী সচেতনতা ও নীতিগত মনোযোগ আকর্ষণে সহায়তা করার জন্য সাংবাদিক ও গণমাধ্যম সংস্থার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।