আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হতে পারে, এমন আভাস মিললেও শেষ মুহূর্তে অনিশ্চয়তা কাটেনি। যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মুখে থাকায় পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আশাবাদ ব্যক্ত করেছে যে আলোচনা এগোবে। অন্যদিকে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি ‘ইতিবাচকভাবে বিবেচনা’ করছে, তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে বুধবার নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। সংশ্লিষ্ট এক পাকিস্তানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ‘আলোচনা এগোচ্ছে এবং আগামীকালই শুরু হওয়ার পথে।’ এমনকি কোনো চুক্তি হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি বা ভার্চুয়ালি যোগ দিতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
একই সঙ্গে ইরানও আলোচনায় প্রতিনিধিদল পাঠাতে পারে বলে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরা জানিয়েছে।
সম্ভাব্য আলোচনা নিয়ে আশাবাদের কারণে আন্তর্জাতিক তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ ডলারের বেশি কমে ৯৪ ডলারের ঘরে নেমেছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও কমেছে প্রায় ২ শতাংশ।
তবে উত্তেজনা কমেনি। ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ, বিশেষ করে একটি ইরানি জাহাজ আটক ও বন্দর অবরোধকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
ইরানের ‘তুস্কা’ নামের একটি বাণিজ্যিক জাহাজ জব্দের ঘটনায় তেহরান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, জাহাজটিতে সামরিক কাজে ব্যবহারের উপযোগী পণ্য থাকতে পারে এবং সতর্কবার্তা অমান্য করায় এটি আটক করা হয়েছে।
ইরান এ ঘটনাকে ‘অবৈধ’ উল্লেখ করে জাহাজ ও নাবিকদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছে।
একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, প্রয়োজনে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নিজস্ব সংবাদ : 





















