ঢাকা ০১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের বাসার বাবুর্চিও কোটিপতি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৪৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৮ বার পড়া হয়েছে

দিনমজুর বাবার সন্তান মো. বাবুল মিয়া। নিজের নামের বাইরে কিছু লিখতে পারেন না। অভাবের তাড়নায় ঢাকায় এসে প্রথমে বিভিন্ন কাঁচাবাজার আড়তে কুলির কাজ করতেন। এক যুগ আগে ফার্মগেটের আওলাদ হোসেন মার্কেটে শহীদুল নামের এক ব্যক্তির ভাতের হোটেলে দৈনিক ২৫০ টাকা মজুরিতে রান্নার কাজ নেন। সেখান থেকে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসায় ৯ হাজার টাকা বেতনে ভাত রান্নার কাজ পান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানুয়ারি ২৪, জারিকৃত অফিস আদেশে দেখা যায়, বাবুল মিয়াকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রাধিকারভূক্ত কর্মচারী হিসেবে কুক পদে চুক্তিভিত্তিক মাসিক বেতন সাড়ে ১৫ হাজার টাকা হিসেবে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া হয়। এই সামান্য বেতনে তিনি ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন, সন্তানদের পড়াশোনা করিয়েছেন।

শেরপুর জেলার নকলা থানাধীন টালকি ইউনিয়নের পোয়াভাগ মধ্য দিনমজুর আব্দুল ওয়াহেদ মিয়ার পাঁচ ছেলে এবং দুই মেয়ের মধ্যে তৃতীয় সন্তান বাবুল মিয়া। কামালের বাসায় যুক্ত হওয়ার পর থেকে বাবুল মিয়াকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। গ্রাম থেকে শহর সব জায়গায় রয়েছে তার জমি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়, জমি দখল, মাদক কারবারিদের থেকে মাসোয়ারা আদায়সহ বিভিন্ন তদবির বাণিজ্য, চাকরির তদবিরসহ নানা অপকর্ম করে বিপুল সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন তিনি। বিভিন্ন রিসোর্টে বিনোদনে মেতে থাকতেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মোটা অংকের অর্থ সহযোগিতা করেন। বিভিন্ন ভুক্তভোগীর সাথে কথা হলে তারা জানান, তাদের কারো থেকে পুলিশ, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, কারারক্ষী, ফায়ার সার্ভিস, পাসপোর্ট অধিদফতরে চাকরি দেয়ার কথা বলে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরে তাদের কারো কারো টাকা ফেরত দিয়েছেন, এখনো টাকা ফেরতের দাবিতে তার বাড়িতে আসেন অনেকে।

ভুক্তভোগীরা জানান, বসিলা-কেরানীগঞ্জ সড়কের পাশে মিলেনিয়াম সিটি সংলগ্ন সাড়ে পাঁচ শতাংশের দৃষ্টিনন্দন প্লট, গাজীপুরের মাওনাতে রয়েছে মার্কেটের শেয়ার। কালিয়াকৈরে রয়েছে সাত শতাংশ জমি। তার গ্রামের বাড়ি স্থানীয় রামেরকান্দি মোড় বাজারে তিন বছর আগে দোকান কিনেছেন। রয়েছে মাছের পুকুর ও ধানের ক্ষেত। মন্ত্রীর বাড়ির কুক হলেও পরিচয় দিতেন পুলিশের কর্মকর্তা হিসেবে। আবার স্থানীয়রা তাকে মন্ত্রীর স্ত্রীর বডিগার্ড হিসেবে চেনেন। তার একক প্রতারণায় ভাগ্য ফিরেছে নিজের ভ্যানচালক ভাইয়েরও। এসব সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালের বাসার বাবুর্চিও কোটিপতি

আপডেট সময় ০১:৪৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

দিনমজুর বাবার সন্তান মো. বাবুল মিয়া। নিজের নামের বাইরে কিছু লিখতে পারেন না। অভাবের তাড়নায় ঢাকায় এসে প্রথমে বিভিন্ন কাঁচাবাজার আড়তে কুলির কাজ করতেন। এক যুগ আগে ফার্মগেটের আওলাদ হোসেন মার্কেটে শহীদুল নামের এক ব্যক্তির ভাতের হোটেলে দৈনিক ২৫০ টাকা মজুরিতে রান্নার কাজ নেন। সেখান থেকে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার মাধ্যমে ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসায় ৯ হাজার টাকা বেতনে ভাত রান্নার কাজ পান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জানুয়ারি ২৪, জারিকৃত অফিস আদেশে দেখা যায়, বাবুল মিয়াকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রাধিকারভূক্ত কর্মচারী হিসেবে কুক পদে চুক্তিভিত্তিক মাসিক বেতন সাড়ে ১৫ হাজার টাকা হিসেবে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়া হয়। এই সামান্য বেতনে তিনি ছয় সদস্যের পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করতেন, সন্তানদের পড়াশোনা করিয়েছেন।

শেরপুর জেলার নকলা থানাধীন টালকি ইউনিয়নের পোয়াভাগ মধ্য দিনমজুর আব্দুল ওয়াহেদ মিয়ার পাঁচ ছেলে এবং দুই মেয়ের মধ্যে তৃতীয় সন্তান বাবুল মিয়া। কামালের বাসায় যুক্ত হওয়ার পর থেকে বাবুল মিয়াকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। গ্রাম থেকে শহর সব জায়গায় রয়েছে তার জমি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মামলার ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায়, জমি দখল, মাদক কারবারিদের থেকে মাসোয়ারা আদায়সহ বিভিন্ন তদবির বাণিজ্য, চাকরির তদবিরসহ নানা অপকর্ম করে বিপুল সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন তিনি। বিভিন্ন রিসোর্টে বিনোদনে মেতে থাকতেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মোটা অংকের অর্থ সহযোগিতা করেন। বিভিন্ন ভুক্তভোগীর সাথে কথা হলে তারা জানান, তাদের কারো থেকে পুলিশ, মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, কারারক্ষী, ফায়ার সার্ভিস, পাসপোর্ট অধিদফতরে চাকরি দেয়ার কথা বলে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পরে তাদের কারো কারো টাকা ফেরত দিয়েছেন, এখনো টাকা ফেরতের দাবিতে তার বাড়িতে আসেন অনেকে।

ভুক্তভোগীরা জানান, বসিলা-কেরানীগঞ্জ সড়কের পাশে মিলেনিয়াম সিটি সংলগ্ন সাড়ে পাঁচ শতাংশের দৃষ্টিনন্দন প্লট, গাজীপুরের মাওনাতে রয়েছে মার্কেটের শেয়ার। কালিয়াকৈরে রয়েছে সাত শতাংশ জমি। তার গ্রামের বাড়ি স্থানীয় রামেরকান্দি মোড় বাজারে তিন বছর আগে দোকান কিনেছেন। রয়েছে মাছের পুকুর ও ধানের ক্ষেত। মন্ত্রীর বাড়ির কুক হলেও পরিচয় দিতেন পুলিশের কর্মকর্তা হিসেবে। আবার স্থানীয়রা তাকে মন্ত্রীর স্ত্রীর বডিগার্ড হিসেবে চেনেন। তার একক প্রতারণায় ভাগ্য ফিরেছে নিজের ভ্যানচালক ভাইয়েরও। এসব সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।