ঢাকা ০৫:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায় ‘বিপজ্জনক নজির’ হবে: জাতিসংঘ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:৫৭:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

বিশ্ববাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল বা মাশুল আদায়ের প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থা (আইএমও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিপরীতে অর্থ দাবি করা বৈশ্বিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং এটি একটি ‘বিপজ্জনক নজির’ হয়ে থাকবে।

আইএমও-র একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, বিশ্বের কোনো আন্তর্জাতিক প্রণালী পারাপারের জন্য টোল চালু করার মতো কোনো বৈধ আন্তর্জাতিক চুক্তি নেই। সমুদ্র আইন বিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশন (ইউএনসিএলওএস) অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক নৌপথে প্রতিটি দেশের জাহাজের অবাধ যাতায়াতের অধিকার রয়েছে।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, প্রণালীর সীমান্তবর্তী রাষ্ট্রগুলো (যেমন ইরান বা ওমান) এই যাতায়াতের অধিকারে কোনো বাধা দিতে পারবে না বা চলাচলের ওপর মাশুল আরোপ করতে পারবে না।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশই এই সরু প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। সম্প্রতি ইরানের গণমাধ্যমগুলোতে খবর বেরিয়েছে, ইরান প্রতিটি জাহাজের কাছ থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত মাশুল আদায়ের পরিকল্পনা করছে, যা ওমানের সাথে ভাগ করে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, ইরান প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে টোল নির্ধারণের কথা ভাবছে, যা ইতিমধ্যে বিটকয়েন বা ইউয়ানে আদায় শুরু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

জাতিসংঘের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মাত্র দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং অন্যান্য দেশগুলোকেও এ ধরনের ‘অবৈধ’ পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করতে পারে। তথ্যসূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায় ‘বিপজ্জনক নজির’ হবে: জাতিসংঘ

আপডেট সময় ১০:৫৭:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ববাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের টোল বা মাশুল আদায়ের প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থা (আইএমও)। সংস্থাটি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক এই জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিপরীতে অর্থ দাবি করা বৈশ্বিক নৌ-চলাচলের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ এবং এটি একটি ‘বিপজ্জনক নজির’ হয়ে থাকবে।

আইএমও-র একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, বিশ্বের কোনো আন্তর্জাতিক প্রণালী পারাপারের জন্য টোল চালু করার মতো কোনো বৈধ আন্তর্জাতিক চুক্তি নেই। সমুদ্র আইন বিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশন (ইউএনসিএলওএস) অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক নৌপথে প্রতিটি দেশের জাহাজের অবাধ যাতায়াতের অধিকার রয়েছে।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, প্রণালীর সীমান্তবর্তী রাষ্ট্রগুলো (যেমন ইরান বা ওমান) এই যাতায়াতের অধিকারে কোনো বাধা দিতে পারবে না বা চলাচলের ওপর মাশুল আরোপ করতে পারবে না।

উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ২০ শতাংশই এই সরু প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। সম্প্রতি ইরানের গণমাধ্যমগুলোতে খবর বেরিয়েছে, ইরান প্রতিটি জাহাজের কাছ থেকে ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত মাশুল আদায়ের পরিকল্পনা করছে, যা ওমানের সাথে ভাগ করে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

অন্য একটি সূত্রে জানা গেছে, ইরান প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১ ডলার করে টোল নির্ধারণের কথা ভাবছে, যা ইতিমধ্যে বিটকয়েন বা ইউয়ানে আদায় শুরু হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

জাতিসংঘের এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মাত্র দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইরানের এই পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এবং অন্যান্য দেশগুলোকেও এ ধরনের ‘অবৈধ’ পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করতে পারে। তথ্যসূত্র: আলজাজিরা, রয়টার্স


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481