মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালি–তে সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে চীন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে। বেইজিং বলেছে, পরিষদ যদি কোনো ‘অননুমোদিত’ সামরিক অভিযানকে বৈধতা দেয়, তবে তা পুরো অঞ্চলে ‘অন্তহীন দুর্দশা’ ডেকে আনতে পারে।
বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি–এর প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সৌদি আরব ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনালাপে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ওয়াং ই বলেন, চলমান সংঘাত বন্ধ না হলে হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ–এর এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল বা সহিংস করে তুলতে পারে।
তিনি আরও সতর্ক করেন, এ ধরনের পদক্ষেপের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে ছোট ও মাঝারি শক্তির দেশগুলো, যারা সরাসরি সংঘাতে জড়িয়ে না থেকেও এর প্রভাব বহন করতে বাধ্য হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে বারুদ ঠাসা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেসিসহ ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হওয়ার পর তেহরান প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে। ইরান বর্তমানে ইসরাইল, জর্ডান, ইরাক এবং পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালাচ্ছে।
এছাড়া ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কার্যত নিজের হাতে নিয়েছে। বর্তমানে তেহরান শুধুমাত্র তাদের ভাষায় ‘বন্ধুপ্রতিম’ দেশগুলোর জাহাজকেই এই পথ দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি দিচ্ছে। এর ফলে এশীয় দেশগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, ইরানের শিরাজ এলাকায় একটি চীনা ‘উইং লুং-২’ ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনাটি নতুন রহস্যের জন্ম দিয়েছে। চীন সরাসরি ইরানের বন্ধু রাষ্ট্র হলেও এই ড্রোনটি সৌদি আরব বা আমিরাতের হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। চীন নিজেই এখন এই অঞ্চলে শান্তি ফেরাতে সক্রিয় কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়।

নিজস্ব সংবাদ : 

























