ঢাকা ০২:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ আগে কখনো নেয়নি ইরানি জনতা Logo রাজধানীতে তাপমাত্রা আরও বাড়ার আভাস Logo ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান Logo হরমুজ প্রণালি সচল করতে ৪০ দেশ একজোট, নেই যুক্তরাষ্ট্র Logo মার্কিন সেনাপ্রধানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠালেন ট্রাম্প Logo যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বান Logo ইরান নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা ডেমোক্র্যাট নেতাদের Logo যেখানেই প্রতারণা, সেখানেই ইউনূস সরকার Logo দুবাইয়ে ওরাকল ডেটা সেন্টারে হামলার দাবি ইরানের Logo ইরানের হামলা ঠেকাতে প্যাট্রিয়ট বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, দেয়নি পোল্যান্ড

ভূমধ্যসাগরে অনাহারে মৃত্যু হলো সুনামগঞ্জের আরেক তরুণের

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৫৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের আরেক তরুণের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই নৌকায় মারা যাওয়া সুনামগঞ্জের ১২ জনের সঙ্গে ওই তরুণও ছিলেন। তাঁর নাম মহিবুর রহমান (২০)। ছেলের শোকে কাতর মা শয্যাশায়ী, আর ছোট ভাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মহিবুর রহমানের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের ঘাগলাজুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম নুরুল আমিন, মায়ের নাম মহিমা বেগম। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মহিবুর ছিলেন বড়। দেশে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি। তাঁর আয়েই চলত বিশাল সংসার।

গত শনিবার ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো সুনামগঞ্জের ১২ জনের খবর দেশে আসার পর থেকেই মহিবুর রহমানের পরিবার দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন। দালাল তাঁর কোনো খবর নিশ্চিত করেনি। পরে সোমবার একই বোটে থাকা সুনামগঞ্জের আরেক যুবক মারুফ আহমদ গ্রিস থেকে মহিবুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর পরিবারকে নিশ্চিত করেন। দেশ থেকে মহিবুর ও মারুফ আহমদ নামের ওই যুবক একই সঙ্গে গিয়েছিলেন। উদ্ধারের পর মারুফ এখন গ্রিসের একটি ক্যাম্পে আছেন। তাঁর ভাষ্য, বোটে অনাহারে দুর্বল হয়ে প্রথমেই মারা যান মহিবুর। এরপর একে একে অন্যদের মৃত্যু হয়।

মহিবুর রহমানের চাচাতো ভাই ভাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ সুনু মিয়া বলেন, মহিবুর চার মাস আগে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন। এরপর সৌদি আরব হয়ে লিবিয়া যান। মাঝখানে তিনি খুব কষ্টে আছেন জানিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছিলেন পরিবারের কাছে।

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা এলাকার নবী হোসেনের মাধ্যমে তিনি গ্রিসে যেতে চেয়েছিলেন।

সুনু জানান, নবী হোসেন লিবিয়ায় আছেন। দেশে নবী হোসেনের বাবা আবদুল মন্নান সব লেনদেন করেছেন। ছেলেকে গ্রিসে পাঠাতে দরিদ্র নুরুল আমিন জমি বিক্রি করেছেন, মহাজনি সুদে টাকা এনেছেন পাঁচ লাখ। মোট ১৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে দালালকে। রাজমিস্ত্রির কাজের সুবাদে নবী হোসেনের বাবা আবদুল মন্নানের পরিচয় হয়। পরে মন্নানই মহিবুরকে গ্রিসে যেতে উৎসাহিত করেন।

মহিবুরের মৃত্যুর খবরে তাঁর মা শয্যাশায়ী। তিনি বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ছোট ভাই হাফিজুর রহমান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং বুধবার পাঠানো হয়েছে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

ছাতক থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি বুধবার বিকেলে সামাজিক মাধ্যমে দেখেছি। আমাকে কেউ জানায়নি।

গত শনিবার ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া সুনামগঞ্জের ১২ জনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। এর মধ্যে দিরাই উপজেলার ছয়জন, জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার একজন ছিলেন। এখন ছাতক উপজেলার আরেকজনের মৃত্যুর বিষয়টি জানাল পরিবার।

ভূমধ্যসাগরের এই মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জের দুটি থানায় ৯ দালালের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। জগন্নাথপুর থানায় পাঁচজন এবং দিরাই থানার মামলায় আসামি আছেন চারজন। ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া দুই তরুণের বাবা সোমবার রাতে এই দুটি মামলা করেছেন। আসামিদের মধ্যে কেউ কেউ লিবিয়া, গ্রিস ও ইতালিতে রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ আগে কখনো নেয়নি ইরানি জনতা

ভূমধ্যসাগরে অনাহারে মৃত্যু হলো সুনামগঞ্জের আরেক তরুণের

আপডেট সময় ১২:৫৩:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

ভূমধ্যসাগরে সুনামগঞ্জের আরেক তরুণের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। একই নৌকায় মারা যাওয়া সুনামগঞ্জের ১২ জনের সঙ্গে ওই তরুণও ছিলেন। তাঁর নাম মহিবুর রহমান (২০)। ছেলের শোকে কাতর মা শয্যাশায়ী, আর ছোট ভাইকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মহিবুর রহমানের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের ঘাগলাজুর গ্রামে। তাঁর বাবার নাম নুরুল আমিন, মায়ের নাম মহিমা বেগম। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে মহিবুর ছিলেন বড়। দেশে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন তিনি। তাঁর আয়েই চলত বিশাল সংসার।

গত শনিবার ভূমধ্যসাগরে প্রাণ হারানো সুনামগঞ্জের ১২ জনের খবর দেশে আসার পর থেকেই মহিবুর রহমানের পরিবার দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকেন। দালাল তাঁর কোনো খবর নিশ্চিত করেনি। পরে সোমবার একই বোটে থাকা সুনামগঞ্জের আরেক যুবক মারুফ আহমদ গ্রিস থেকে মহিবুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর পরিবারকে নিশ্চিত করেন। দেশ থেকে মহিবুর ও মারুফ আহমদ নামের ওই যুবক একই সঙ্গে গিয়েছিলেন। উদ্ধারের পর মারুফ এখন গ্রিসের একটি ক্যাম্পে আছেন। তাঁর ভাষ্য, বোটে অনাহারে দুর্বল হয়ে প্রথমেই মারা যান মহিবুর। এরপর একে একে অন্যদের মৃত্যু হয়।

মহিবুর রহমানের চাচাতো ভাই ভাতগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ সুনু মিয়া বলেন, মহিবুর চার মাস আগে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন। এরপর সৌদি আরব হয়ে লিবিয়া যান। মাঝখানে তিনি খুব কষ্টে আছেন জানিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনার আকুতি জানিয়েছিলেন পরিবারের কাছে।

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা এলাকার নবী হোসেনের মাধ্যমে তিনি গ্রিসে যেতে চেয়েছিলেন।

সুনু জানান, নবী হোসেন লিবিয়ায় আছেন। দেশে নবী হোসেনের বাবা আবদুল মন্নান সব লেনদেন করেছেন। ছেলেকে গ্রিসে পাঠাতে দরিদ্র নুরুল আমিন জমি বিক্রি করেছেন, মহাজনি সুদে টাকা এনেছেন পাঁচ লাখ। মোট ১৩ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে দালালকে। রাজমিস্ত্রির কাজের সুবাদে নবী হোসেনের বাবা আবদুল মন্নানের পরিচয় হয়। পরে মন্নানই মহিবুরকে গ্রিসে যেতে উৎসাহিত করেন।

মহিবুরের মৃত্যুর খবরে তাঁর মা শয্যাশায়ী। তিনি বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন। তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ছোট ভাই হাফিজুর রহমান অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং বুধবার পাঠানো হয়েছে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

ছাতক থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বিষয়টি বুধবার বিকেলে সামাজিক মাধ্যমে দেখেছি। আমাকে কেউ জানায়নি।

গত শনিবার ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া সুনামগঞ্জের ১২ জনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করে পুলিশ। এর মধ্যে দিরাই উপজেলার ছয়জন, জগন্নাথপুর উপজেলার পাঁচজন এবং দোয়ারাবাজার উপজেলার একজন ছিলেন। এখন ছাতক উপজেলার আরেকজনের মৃত্যুর বিষয়টি জানাল পরিবার।

ভূমধ্যসাগরের এই মৃত্যুর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জের দুটি থানায় ৯ দালালের বিরুদ্ধে দুটি মামলা হয়েছে। জগন্নাথপুর থানায় পাঁচজন এবং দিরাই থানার মামলায় আসামি আছেন চারজন। ভূমধ্যসাগরে মারা যাওয়া দুই তরুণের বাবা সোমবার রাতে এই দুটি মামলা করেছেন। আসামিদের মধ্যে কেউ কেউ লিবিয়া, গ্রিস ও ইতালিতে রয়েছে।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481