নিউজ ডেস্ক:
নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস জাপানে ছয় দিনের সফর শেষে গতকাল ঢাকায় ফিরেছেন। সোমবার তিনি রাজধানীর মিরপুরে ইউনূস সেন্টারে তার কার্যালয়ে যোগ দেন।
এই সফরে তিনি টোকিওতে ‘হারমোনি বাই ডিজাইন: এশিয়া ডায়লগ’ এ অংশ নেন। এটি সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন আয়োজন করে। এসময় সাবেক থাই প্রধানমন্ত্রী চুয়ান লিকপাইসহ আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রফেসর ইউনূস।
এ সফরে সাবেক ফার্স্ট লেডি আকি আবেসহ ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রফেসর ইউনূস ‘নেক্সট জেনারেশন এশিয়া পিসবিল্ডিং’ ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, যেখানে তিনি তরুণদের সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে অর্থনৈতিক সুযোগকে শান্তি প্রতিষ্ঠার সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানান।
এছাড়া, জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি শূন্য-খরচে অভিবাসনের আওতায় বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা করেন।
গত ২৬শে মার্চ তিনি জাপানের অ্যানিমেশন, মাঙ্গা, গেমিং ও ডিজিটাল শিক্ষা খাতে অবদান রাখা একদল নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকে সৃজনশীলতা, প্রযুক্তি এবং সামাজিক ব্যবসার সমন্বয়ে কীভাবে তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করা যায় তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
একইসঙ্গে জিইএমএস-নেট উদ্যোগের আওতায় নৈতিক অভিবাসন বিষয়ক একটি গোলটেবিল বৈঠকেও অংশ নেন তিনি। ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটিতে সামাজিক ব্যবসা নিয়ে এক প্রাণবন্ত আলোচনায় অংশ নেন প্রফেসর ইউনূস। পরে ইউনূস গ্লোবাল ফোরাম ২০২৬-এ “তিন শূন্যের পৃথিবী” (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ) গঠনের ওপর বক্তব্য দেন।
গত ২৭ মার্চ ইবারাকি প্রিফেকচারের সাকাই শহর পরিদর্শন করেন প্রফেসর ইউনূস, যেখানে মেয়র মাসাহিরো হাসিমোতো তাঁকে স্বাগত জানান। সেখানে তিনি “থ্রি জিরো স্মার্ট সিটি” ধারণা নিয়ে আলোচনা করেন এবং স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পাশাপাশি বান্ডো টারো কো. লিমিটেডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তাদের সামাজিক প্রভাবভিত্তিক ব্যবসায়িক মডেল পর্যবেক্ষণ করেন।
সফরকালে জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা তার সঙ্গে নৈশভোজে অংশ নেন এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
২৭ মার্চ টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত “ইনভেস্টমেন্ট ইন দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ” শীর্ষক এক সেমিনারে যোগ দেন প্রফেসর ইউনূস; যা জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন আয়োজন করে, এর সহ-আয়োজক ছিলেন রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী। এতে প্রায় ১০০ জন ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারী অংশ নেন।
প্রফেসর ইউনূস তার বক্তব্যে বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা তুলে ধরেন, জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এই সফরে তার সঙ্গী ছিলেন গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান, ইউনূস সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক লামিয়া মোরশেদ এবং ওয়াইওয়াই ভেঞ্চার্সের প্রতিষ্ঠাতা সজীব এম. খায়রুল ইসলাম।

নিজস্ব সংবাদ : 


























