ঢাকা ০৬:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডারের মৃত্যু নিশ্চিত করল ইরান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:২৬:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ৮৬ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের নৌবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরির মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসি-র একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার এক ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি নিহত হন।

তাংসিরি ছিলেন আইআরজিসি-র একজন অভিজ্ঞ ও কট্টরপন্থী নেতা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ও রণকৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। তার এই মৃত্যু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক নেতৃত্বের জন্য একটি বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তাংসিরির ওপর ২০১৯ এবং ২০২৩ সালে দুই দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তিনি আইআরজিসি নৌবাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তদারকি করতেন এবং সশস্ত্র ড্রোন তৈরির একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন।

তাংসিরির অধীনেই ইরান বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়েছিল। বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ এই পথ দিয়ে সম্পন্ন হয়, যা তাংসিরির নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানের ফলে বর্তমানে প্রায় সব ধরনের নৌ-চলাচলের জন্য রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

অ্যাডমিরাল তাংসিরির মৃত্যু এমন এক সময়ে নিশ্চিত করা হলো যখন ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যে সংঘাত চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজে তার একটি ছবি প্রকাশ করে তাকে একজন নিবেদিতপ্রাণ যোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাংসিরির অনুপস্থিতি পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নৌ-তৎপরতায় সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে অঙ্গীকার করেছে, তাদের এই শীর্ষ কমান্ডারের মৃত্যু বৃথা যাবে না এবং তার দেখানো পথেই তারা প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ কেবল আকাশপথ বা স্থলভাগেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং সমুদ্রপথেও এর ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। তাংসিরির নেতৃত্বে ইরান যেভাবে সমুদ্রসীমায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল, তা এখন নতুন কোনো কমান্ডারের হাতে ন্যস্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলের এই লক্ষ্যভেদী হামলা তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে চলমান উত্তজনাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আপাতত ইরান এই উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে এবং প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডারের মৃত্যু নিশ্চিত করল ইরান

আপডেট সময় ০৬:২৬:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের নৌবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরির মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসি-র একটি বিবৃতিতে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার এক ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি নিহত হন।

তাংসিরি ছিলেন আইআরজিসি-র একজন অভিজ্ঞ ও কট্টরপন্থী নেতা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ও রণকৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। তার এই মৃত্যু বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক নেতৃত্বের জন্য একটি বড় ধরনের আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তাংসিরির ওপর ২০১৯ এবং ২০২৩ সালে দুই দফায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তিনি আইআরজিসি নৌবাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার তদারকি করতেন এবং সশস্ত্র ড্রোন তৈরির একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন।

তাংসিরির অধীনেই ইরান বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়েছিল। বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ এই পথ দিয়ে সম্পন্ন হয়, যা তাংসিরির নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানের ফলে বর্তমানে প্রায় সব ধরনের নৌ-চলাচলের জন্য রুদ্ধ হয়ে পড়েছে।

অ্যাডমিরাল তাংসিরির মৃত্যু এমন এক সময়ে নিশ্চিত করা হলো যখন ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলি জোটের মধ্যে সংঘাত চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজে তার একটি ছবি প্রকাশ করে তাকে একজন নিবেদিতপ্রাণ যোদ্ধা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাংসিরির অনুপস্থিতি পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নৌ-তৎপরতায় সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে অঙ্গীকার করেছে, তাদের এই শীর্ষ কমান্ডারের মৃত্যু বৃথা যাবে না এবং তার দেখানো পথেই তারা প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ কেবল আকাশপথ বা স্থলভাগেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং সমুদ্রপথেও এর ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। তাংসিরির নেতৃত্বে ইরান যেভাবে সমুদ্রসীমায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছিল, তা এখন নতুন কোনো কমান্ডারের হাতে ন্যস্ত করা হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইসরায়েলের এই লক্ষ্যভেদী হামলা তেহরান ও তেল আবিবের মধ্যে চলমান উত্তজনাকে আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আপাতত ইরান এই উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে এবং প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান