ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo কুয়েতে ইরানের হামলায় ভারতীয় নিহত Logo এক ফ্যাসিস্ট পালায় আরেক ফ্যাসিস্ট জন্মায়: এনসিপি নেত্রী ডা. মিতু Logo আরব আমিরাতে মার্কিন রাডারে ড্রোন হামলা করেছে ইরান Logo জাপান সফর শেষে ঢাকায় ফিরেছেন প্রফেসর ইউনূস Logo ইরানে যুদ্ধ থামাতে গিয়ে আহত হলেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার Logo ইরানে ব্যবহার করা হবে পারমাণবিক অস্ত্র, প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতিসংঘ Logo আইআরজিসি নৌবাহিনীর কমান্ডারের মৃত্যু নিশ্চিত করল ইরান Logo ইরানে হামলায় ব্যবহৃত মার্কিন যুদ্ধবিমানের জন্য আকাশসীমা বন্ধ করলো স্পেন Logo জুলাইযোদ্ধাদের আইনি সুরক্ষা দিতে সংসদে বিল পাস হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার মানহানি মামলা

ইরানে ব্যবহার করা হবে পারমাণবিক অস্ত্র, প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতিসংঘ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:২৮:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চলমান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে তেহরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হবে বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘে প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশনের (পিভিএ) স্থায়ী প্রতিনিধি মোহামাদ সাফা। সোমবার (৩০ মার্চ) সামাজিক মাধ্যম এক্সে তিনি দাবি করেছেন, জাতিসংঘ ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পোস্টে তিনি দাবি করেন,‘পরিস্থিতি যে কতটা ভয়াবহ তা হয়তো মানুষ বুঝতে পারছে না, কারণ ‘জাতিসংঘ এখন ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাব্য প্রস্তুতির কথা ভাবছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রায় এক কোটি জনসংখ্যার শহর তেহরানে পারমাণবিক হামলা চালানো আর ওয়াশিংটন, বার্লিন, প্যারিস বা লন্ডনে পারমাণবিক বোমা ফেলার মধ্যে কোনো তফাৎ নেই।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই তথ্য ফাঁস করার জন্যই আমি আমার কূটনৈতিক ক্যারিয়ার ত্যাগ করেছি। আমি আমার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছি যেন মানবতার বিরুদ্ধে ঘটতে যাওয়া এই অপরাধের অংশীদার বা সাক্ষী আমাকে হতে না হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে পারমাণবিক উইন্টার নেমে আসার আগেই তা রুখে দেওয়ার এটি একটি চেষ্টা।’

জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন সংস্থাটির এই কর্মকর্তা। গত সপ্তাহে দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি দাবি করেন, তিনি ২০২৩ সাল থেকেই পদত্যাগ করতে চাচ্ছিলেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এটি তার কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে ‘জাতিসংঘের শীর্ষস্থানীয় কিছু কর্মকর্তা কোনো একটি ‘শক্তিশালী মহলের’ স্বার্থে কাজ করছেন, জাতিসংঘের আদর্শে নয়’।

সাফা অভিযোগ করে বলেন, ‘ ইরানের ওপর যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ইরান বিশ্ব শান্তির জন্য কোনো আসন্ন হুমকি তৈরি করেনি—এসব ধ্রুব সত্য তারা এড়িয়ে যাচ্ছেন। স্পষ্টতই তারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করতে চান না। ওই প্রভাবশালী মহলের প্রচণ্ড চাপের কারণেই মূলত শীর্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের এসব অভিযোগ থেকে আড়ালে রাখা হচ্ছে।’

জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার ও ওই মহলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ এনে তিনি আরো বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং জাতিসংঘ আমাকে একা ফেলে চলে গেছে। আমার ওপর আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়েছে এবং জাতিসংঘ আমার পাশে দাঁড়ায়নি। এখন জাতিসংঘে আমাকে সেন্সর করা হচ্ছে, আমার বাক্‌স্বাধীনতার অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের শুরুতে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী কূটনীতিকরা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমকে ব্যবহার করে একটি অপপ্রচার শুরু করেন। তারা দাবি করতে থাকেন যে, ইরানের পারমাণবিক হুমকি রয়েছে এবং ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু করার জন্য যুদ্ধের পক্ষে ব্যাপক মনোভাব তৈরি করতে থাকেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো পুরো অঞ্চলজুড়ে তারা কেবল নিজেদের এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছিল। এই প্রভাবশালী মহলটিকে আপনাদের এটি বিশ্বাস করানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল যে ইরান বিশ্ব শান্তির জন্য এক আসন্ন হুমকি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল এবং এই একই কৌশল ব্যবহার করে গাজায় গণহত্যা চালানো হয়েছে। এখন একই কৌশল কাজে লাগিয়ে লেবাননে জাতিগত নিধন ও দখলদারিত্ব চালানো হচ্ছে।’

একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নো কিংস’ (রাজা নয়) প্রতিবাদের কথা উল্লেখ করে তিনি সাধারণ মানুষকে মানবতার স্বার্থে এবং ভবিষ্যৎ রক্ষায় রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য শনিবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পের অভিবাসী ফেরত পাঠানোর নীতি, ইরানের সাথে যুদ্ধ এবং সরকারের অন্যান্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি ছিল ‘নো কিংস’ আন্দোলনের তৃতীয় দফার বিক্ষোভ। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যে মোট ৩,২০০টিরও বেশি প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে নিউইয়র্ক, ডালাস, ফিলাডেলফিয়া এবং ওয়াশিংটনে সবচেয়ে বড় সমাবেশগুলো অনুষ্ঠিত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

কুয়েতে ইরানের হামলায় ভারতীয় নিহত

ইরানে ব্যবহার করা হবে পারমাণবিক অস্ত্র, প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতিসংঘ

আপডেট সময় ০৬:২৮:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চলমান ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে তেহরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করা হবে বলে অভিযোগ করেছেন জাতিসংঘে প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশনের (পিভিএ) স্থায়ী প্রতিনিধি মোহামাদ সাফা। সোমবার (৩০ মার্চ) সামাজিক মাধ্যম এক্সে তিনি দাবি করেছেন, জাতিসংঘ ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাব্য পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

পোস্টে তিনি দাবি করেন,‘পরিস্থিতি যে কতটা ভয়াবহ তা হয়তো মানুষ বুঝতে পারছে না, কারণ ‘জাতিসংঘ এখন ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাব্য প্রস্তুতির কথা ভাবছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘প্রায় এক কোটি জনসংখ্যার শহর তেহরানে পারমাণবিক হামলা চালানো আর ওয়াশিংটন, বার্লিন, প্যারিস বা লন্ডনে পারমাণবিক বোমা ফেলার মধ্যে কোনো তফাৎ নেই।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই তথ্য ফাঁস করার জন্যই আমি আমার কূটনৈতিক ক্যারিয়ার ত্যাগ করেছি। আমি আমার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছি যেন মানবতার বিরুদ্ধে ঘটতে যাওয়া এই অপরাধের অংশীদার বা সাক্ষী আমাকে হতে না হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে পারমাণবিক উইন্টার নেমে আসার আগেই তা রুখে দেওয়ার এটি একটি চেষ্টা।’

জাতিসংঘের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার এবং পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেছেন সংস্থাটির এই কর্মকর্তা। গত সপ্তাহে দেওয়া পদত্যাগপত্রে তিনি দাবি করেন, তিনি ২০২৩ সাল থেকেই পদত্যাগ করতে চাচ্ছিলেন। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, এটি তার কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে ‘জাতিসংঘের শীর্ষস্থানীয় কিছু কর্মকর্তা কোনো একটি ‘শক্তিশালী মহলের’ স্বার্থে কাজ করছেন, জাতিসংঘের আদর্শে নয়’।

সাফা অভিযোগ করে বলেন, ‘ ইরানের ওপর যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ এবং ইরান বিশ্ব শান্তির জন্য কোনো আসন্ন হুমকি তৈরি করেনি—এসব ধ্রুব সত্য তারা এড়িয়ে যাচ্ছেন। স্পষ্টতই তারা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করতে চান না। ওই প্রভাবশালী মহলের প্রচণ্ড চাপের কারণেই মূলত শীর্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের এসব অভিযোগ থেকে আড়ালে রাখা হচ্ছে।’

জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার ও ওই মহলের হয়ে কাজ করার অভিযোগ এনে তিনি আরো বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং জাতিসংঘ আমাকে একা ফেলে চলে গেছে। আমার ওপর আর্থিক জরিমানা আরোপ করা হয়েছে এবং জাতিসংঘ আমার পাশে দাঁড়ায়নি। এখন জাতিসংঘে আমাকে সেন্সর করা হচ্ছে, আমার বাক্‌স্বাধীনতার অধিকার খর্ব করা হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘চলতি বছরের শুরুতে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং প্রভাবশালী কূটনীতিকরা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমকে ব্যবহার করে একটি অপপ্রচার শুরু করেন। তারা দাবি করতে থাকেন যে, ইরানের পারমাণবিক হুমকি রয়েছে এবং ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরু করার জন্য যুদ্ধের পক্ষে ব্যাপক মনোভাব তৈরি করতে থাকেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো পুরো অঞ্চলজুড়ে তারা কেবল নিজেদের এজেন্ডাই বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছিল। এই প্রভাবশালী মহলটিকে আপনাদের এটি বিশ্বাস করানোর জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল যে ইরান বিশ্ব শান্তির জন্য এক আসন্ন হুমকি। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ছিল এবং এই একই কৌশল ব্যবহার করে গাজায় গণহত্যা চালানো হয়েছে। এখন একই কৌশল কাজে লাগিয়ে লেবাননে জাতিগত নিধন ও দখলদারিত্ব চালানো হচ্ছে।’

একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নো কিংস’ (রাজা নয়) প্রতিবাদের কথা উল্লেখ করে তিনি সাধারণ মানুষকে মানবতার স্বার্থে এবং ভবিষ্যৎ রক্ষায় রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য শনিবার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পের অভিবাসী ফেরত পাঠানোর নীতি, ইরানের সাথে যুদ্ধ এবং সরকারের অন্যান্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এটি ছিল ‘নো কিংস’ আন্দোলনের তৃতীয় দফার বিক্ষোভ। দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যে মোট ৩,২০০টিরও বেশি প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এর মধ্যে নিউইয়র্ক, ডালাস, ফিলাডেলফিয়া এবং ওয়াশিংটনে সবচেয়ে বড় সমাবেশগুলো অনুষ্ঠিত হয়।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481