ঢাকা ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo নারীর ক্ষমতায়নে ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ Logo ব্রাজিলের পতাকা টাঙাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে স্কুলছাত্রের মৃত্যু Logo মাদক ব্যবসা ছাড়ুন, না হলে এলাকা ছাড়ুন : এমপি আবু তালিব Logo ইরান সংঘাতে না জড়াতে চীনকে অনুরোধ করেছিলেন ট্রাম্প Logo প্রথমার্ধ শেষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলে এগিয়ে যুক্তরাষ্ট্র Logo পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর সাংস্কৃতিক সম্পর্ক রয়েছে: পাকিস্তান হাইকমিশনার Logo শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে জাবিতে নবীনবরণ, ‘পাইলট প্রকল্প’ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার ইঙ্গিত Logo এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের জমা অর্থ বেড়েছে ৪১ শতাংশ Logo আমি ছাড়া কেউ মাজার ভাঙার বিরুদ্ধে কথা বলে না : রুমিন ফারহানা Logo পানিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ভারত, হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

পেট্রোল-ডিজেলের বাংলা কী জানেন?

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:০১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
  • ৪০ বার পড়া হয়েছে

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর পেছনে বড় কারণ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধ। বিশেষ করে রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লাগে। বর্তমানে ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে।

শুধু ইউরোপ নয়, এর প্রভাব পড়েছে এশিয়া ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও। অনেক দেশকে বেশি দামে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় বাজারেও দাম বাড়ছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। জ্বালানি তেলের অভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে অসংখ্য পেট্রোল পাম্প।

কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে পেট্রোল-ডিজেলের অপেক্ষায় বাইক, বাস, গাড়ির দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না পেট্রোল-ডিজেল। সোশ্যাল মিডিয়া, পত্রিকা-অনলাইন মিডিয়া, টকশো সব জায়গায় এখন আলোচনার বিষয় পেট্রোল-ডিজেল।

কিন্তু এই পেট্রোল-ডিজেলের বাংলা অর্থ কী জানেন? বেশিরভাগ মানুষই জানেন না। হয়তো কখনো মনে হয়েছে কিংবা কখনো খেয়ালই করেননি যে এগুলো ইংরেজি শব্দ। চলুন পেট্রোল-ডিজেলের বাংলা অর্থ জেনে নেওয়া যাক।

পেট্রোল ও ডিজেল দুটিই মূলত ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত খনিজ তেল থেকে তৈরি হয়। এই তেল ভূগর্ভ থেকে উত্তোলন করা হয় এবং পরে শোধনাগারে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আলাদা করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় রিফাইনিং। রিফাইনিংয়ের সময় একই তেল থেকে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, গ্যাসসহ নানা ধরনের জ্বালানি উৎপন্ন হয়।

১৮৫৯ সালে যখন কর্নেল এডউইন ড্রেক পেনসিলভেনিয়ার টাইটাসভিলে প্রথম সফল তেল কূপের সন্ধান পান। তখন খুব কম লোকই বুঝতে পেরেছিল যে পেট্রোলিয়াম কীভাবে বিশ্বকে বদলে দেবে। কিন্তু ড্রেক এবং তার সমর্থকরা কেরোসিনের উৎস খুঁজছিলেন, যা আলো জ্বালানোর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল। আমেরিকান বিজ্ঞানী জর্জ ব্রেইটন ১৮৭২ সালে প্রথম বাণিজ্যিক তরল-জ্বালানি চালিত অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন।

ডিজেল ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন রুডলফ ডিজেল। একজন প্রখ্যাত জার্মান যন্ত্র প্রকৌশলী, রুডলফ যানবাহনের জন্য ডিজেল ইঞ্জিন তৈরি করেন। বর্তমানে ট্রাক, ট্রেন, ট্র্যাক্টর, জেনারেটর এবং আরও অনেক কিছুতে ডিজেল ইঞ্জিন ব্যবহৃত হয়।

একাধিক প্রতিবেদন ও অভিধান-অর্থ বিশেষজ্ঞ সূত্র অনুসারে, পেট্রোলকে বাংলায় শিলাতৈল বলা হয়। এছাড়াও পেট্রোলের অন্যান্য বাংলা নাম যা প্রচলিত আছে তার মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, তেল, পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম, পরিশোধিত কেরোসিন। তবে পেট্রোলকে সর্বাধিক পেট্রোল নামেই অভিহিত করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে ডিজেলকে বাংলায় কী বলা হয় তা নিয়ে মতবিরোধ আছে। সার্বিক ভাবে ডিজেলকে বাংলায় সাধারণত ডিজেল বা ডিজেল তেল বলা হয়। এটি খনিজ তেল থেকে উৎপন্ন এক ধরনের জ্বালানি যা ডিজেল ইঞ্জিনে ব্যবহৃত হয়। একদিকে যদিও পেট্রোলকে অনেকে ‘শিলাতৈল’ বলে থাকেন, ডিজেলের জন্য সেরকম সুনির্দিষ্ট কোনো বহুল প্রচলিত বাংলা প্রতিশব্দ নেই, এটি ডিজেল নামেই পরিচিত। কেউ কেউ এই তেলকে রক অয়েল বা ধ্রুবস্বর্ণও বলেন।

ডিজেল দেখতে কালো এবং এটি যন্ত্রের সাহায্যে পৃথিবীর গভীর থেকে উত্তোলন করা হয়। যখন ডিজেল পৃথিবী থেকে উত্তোলন করা হয়, তখন এটি বিশুদ্ধ অবস্থায় থাকে, পরে এটিকে যন্ত্রের সাহায্যে আরও বিশুদ্ধ করা হয় এবং শুধু তারপরেই এটি ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: নিউজ ১৮

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

নারীর ক্ষমতায়নে ইউএন উইমেনের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

পেট্রোল-ডিজেলের বাংলা কী জানেন?

আপডেট সময় ০২:০১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর পেছনে বড় কারণ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধ। বিশেষ করে রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধাক্কা লাগে। বর্তমানে ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে।

শুধু ইউরোপ নয়, এর প্রভাব পড়েছে এশিয়া ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও। অনেক দেশকে বেশি দামে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে, যার ফলে স্থানীয় বাজারেও দাম বাড়ছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। জ্বালানি তেলের অভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে অসংখ্য পেট্রোল পাম্প।

কোথাও কোথাও দেখা যাচ্ছে পেট্রোল-ডিজেলের অপেক্ষায় বাইক, বাস, গাড়ির দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না পেট্রোল-ডিজেল। সোশ্যাল মিডিয়া, পত্রিকা-অনলাইন মিডিয়া, টকশো সব জায়গায় এখন আলোচনার বিষয় পেট্রোল-ডিজেল।

কিন্তু এই পেট্রোল-ডিজেলের বাংলা অর্থ কী জানেন? বেশিরভাগ মানুষই জানেন না। হয়তো কখনো মনে হয়েছে কিংবা কখনো খেয়ালই করেননি যে এগুলো ইংরেজি শব্দ। চলুন পেট্রোল-ডিজেলের বাংলা অর্থ জেনে নেওয়া যাক।

পেট্রোল ও ডিজেল দুটিই মূলত ক্রুড অয়েল বা অপরিশোধিত খনিজ তেল থেকে তৈরি হয়। এই তেল ভূগর্ভ থেকে উত্তোলন করা হয় এবং পরে শোধনাগারে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় আলাদা করা হয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় রিফাইনিং। রিফাইনিংয়ের সময় একই তেল থেকে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, গ্যাসসহ নানা ধরনের জ্বালানি উৎপন্ন হয়।

১৮৫৯ সালে যখন কর্নেল এডউইন ড্রেক পেনসিলভেনিয়ার টাইটাসভিলে প্রথম সফল তেল কূপের সন্ধান পান। তখন খুব কম লোকই বুঝতে পেরেছিল যে পেট্রোলিয়াম কীভাবে বিশ্বকে বদলে দেবে। কিন্তু ড্রেক এবং তার সমর্থকরা কেরোসিনের উৎস খুঁজছিলেন, যা আলো জ্বালানোর জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল। আমেরিকান বিজ্ঞানী জর্জ ব্রেইটন ১৮৭২ সালে প্রথম বাণিজ্যিক তরল-জ্বালানি চালিত অভ্যন্তরীণ দহন ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন।

ডিজেল ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন রুডলফ ডিজেল। একজন প্রখ্যাত জার্মান যন্ত্র প্রকৌশলী, রুডলফ যানবাহনের জন্য ডিজেল ইঞ্জিন তৈরি করেন। বর্তমানে ট্রাক, ট্রেন, ট্র্যাক্টর, জেনারেটর এবং আরও অনেক কিছুতে ডিজেল ইঞ্জিন ব্যবহৃত হয়।

একাধিক প্রতিবেদন ও অভিধান-অর্থ বিশেষজ্ঞ সূত্র অনুসারে, পেট্রোলকে বাংলায় শিলাতৈল বলা হয়। এছাড়াও পেট্রোলের অন্যান্য বাংলা নাম যা প্রচলিত আছে তার মধ্যে রয়েছে জ্বালানি, তেল, পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম, পরিশোধিত কেরোসিন। তবে পেট্রোলকে সর্বাধিক পেট্রোল নামেই অভিহিত করা হয়ে থাকে।

অন্যদিকে ডিজেলকে বাংলায় কী বলা হয় তা নিয়ে মতবিরোধ আছে। সার্বিক ভাবে ডিজেলকে বাংলায় সাধারণত ডিজেল বা ডিজেল তেল বলা হয়। এটি খনিজ তেল থেকে উৎপন্ন এক ধরনের জ্বালানি যা ডিজেল ইঞ্জিনে ব্যবহৃত হয়। একদিকে যদিও পেট্রোলকে অনেকে ‘শিলাতৈল’ বলে থাকেন, ডিজেলের জন্য সেরকম সুনির্দিষ্ট কোনো বহুল প্রচলিত বাংলা প্রতিশব্দ নেই, এটি ডিজেল নামেই পরিচিত। কেউ কেউ এই তেলকে রক অয়েল বা ধ্রুবস্বর্ণও বলেন।

ডিজেল দেখতে কালো এবং এটি যন্ত্রের সাহায্যে পৃথিবীর গভীর থেকে উত্তোলন করা হয়। যখন ডিজেল পৃথিবী থেকে উত্তোলন করা হয়, তখন এটি বিশুদ্ধ অবস্থায় থাকে, পরে এটিকে যন্ত্রের সাহায্যে আরও বিশুদ্ধ করা হয় এবং শুধু তারপরেই এটি ব্যবহার করা হয়।

সূত্র: নিউজ ১৮