স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, জনগণের প্রত্যাশা এবং জুলাই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ আইনি সুরক্ষা প্রদানের লক্ষে একটি বিশেষ দায়মুক্তি অধ্যাদেশ গ্রহণ করা হবে।
মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠকে যোগদানের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিশেষ কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে স্পিকার অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে।
সংসদের এই বিশেষ কমিটির ওপর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার গুরুদায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে। কমিটির এই বৈঠকে প্রতিটি অধ্যাদেশ অত্যন্ত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে। মূলত কোন অধ্যাদেশটি বর্তমান পরিস্থিতির বিবেচনায় বহাল রাখা প্রয়োজন এবং কোনটি বাতিল করা উচিত, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন যে, এই পর্যালোচনার প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো নিশ্চিত করা। এই কমিটির কার্যক্রমের মাধ্যমেই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে নেওয়া বিভিন্ন আইনি সিদ্ধান্তের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান এই ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। সংসদীয় বিধি অনুযায়ী এসব অধ্যাদেশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সংসদের হাতে মাত্র ৩০ কার্যদিবস সময় অবশিষ্ট রয়েছে। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিশেষ কমিটিকে তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ় আশা প্রকাশ করেছেন যে, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রেখে সরকার অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই আইনি প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে।

নিজস্ব সংবাদ : 






















