ঢাকা ১২:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পিছু হটছে বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন রণতরী

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৫৭:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • ৫৬ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন রণতরী

ইরান যুদ্ধে বিশ্বের এবং নিজেদের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ এবং বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডকে মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র এবং সেই আদেশ পেয়ে গ্রিসের সৌদা উপসাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় এসে পৌঁছেও ছিল ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড।

কিন্তু জাহাজটির লন্ড্রি বিভাগের আগুন এই যুদ্ধে ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডের ভূমিকাকে থামিয়ে দিয়েছে। ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া স্থগিত রেখে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে মার্কিন ঘাঁটির পথে রওনা হয়েছে ইউএসএস গেরাল্ড। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে সংলাপ শুরু হয় ওয়াশিংটন ও তেহরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে। এই সংলাপের চলার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নিজেদের তিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডকে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সেই নির্দেশ মেনে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছে গিয়েছিল বিমানবাহী দুই যুদ্ধজাহাজ। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইরানে যত হামলা ও বিমান অভিযান হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই হয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড থেকে। দুই জাহাজেই যুদ্ধবিমান আছে কয়েক ডজন করে এবং গোলাবারুদের মজুত বিশাল।

তবে গত ১২ মার্চ ইউএসএস গেরাল্ড ফোর্ডের লন্ড্রি বিভাগে ভয়াবহ আগুন লাগে। সেই আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হন দু’জন সেনা এবং সেনাদের অন্তত ১০০টি বিছানা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে যায়।

ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডের পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাতেও গুরুতর সংকট দেখা দেখা দিয়েছে। পাইপলাইনে ত্রুটি থাকার কারণে টয়লেট উপচে ওপরে বর্জ্য ওপরে উঠে আসায় জাহাজটির অধিকাংশ ওয়াশরুম ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডের প্রকৌশলী টিম জানিয়েছে, এই ত্রুটি সারাতে হলে জাহাজ ডক-ইয়ার্ডে নিয়ে যেতে হবে। মাঝ-সাগরে জাহাজটির মেরামত সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুসারে, প্রতিটি রণতরীবাহী যুদ্ধজাহাজ একটানা সর্বোচ্চ ৬ মাস সাগরে টহল দিতে পারবে। তারপর সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড কিংবা বাইরের কোনো সামরিক ঘাঁটিতে যেতে হবে নাবিকদের বিশ্রাম এবং জাহাজ মেরামতের জন্য।

ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড সাগরে টহল দিচ্ছে গত ৯ মাস ধরে। এই রণতরীর জোরেই ইরান হামলার আগে ৬ মাস ধরে ক্যারিবিয়ান সাগরে তথাকথিত মাদকবাহী নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা ৯ মাস ধরে সাগরে অবস্থানের কারণে ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডের সেনারাও ক্লান্ত।

তাই সবদিক বিবেচনা করেই জাহাজটি ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রালয়ের সূত্র জানিয়েছে, গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে ফিরে যাচ্ছে ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড। সেখানে মার্কিন সেনাঘাঁটি জাহাজটির মেরামতের কাজ তদারক করবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পিছু হটছে বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন রণতরী

আপডেট সময় ০১:৫৭:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

মার্কিন রণতরী

ইরান যুদ্ধে বিশ্বের এবং নিজেদের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ এবং বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডকে মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র এবং সেই আদেশ পেয়ে গ্রিসের সৌদা উপসাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় এসে পৌঁছেও ছিল ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড।

কিন্তু জাহাজটির লন্ড্রি বিভাগের আগুন এই যুদ্ধে ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডের ভূমিকাকে থামিয়ে দিয়েছে। ইরান যুদ্ধে অংশ নেওয়া স্থগিত রেখে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে মার্কিন ঘাঁটির পথে রওনা হয়েছে ইউএসএস গেরাল্ড। মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে সংলাপ শুরু হয় ওয়াশিংটন ও তেহরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে। এই সংলাপের চলার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নিজেদের তিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডকে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

সেই নির্দেশ মেনে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় পৌঁছে গিয়েছিল বিমানবাহী দুই যুদ্ধজাহাজ। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইরানে যত হামলা ও বিমান অভিযান হয়েছে, সেগুলোর বেশিরভাগই হয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড থেকে। দুই জাহাজেই যুদ্ধবিমান আছে কয়েক ডজন করে এবং গোলাবারুদের মজুত বিশাল।

তবে গত ১২ মার্চ ইউএসএস গেরাল্ড ফোর্ডের লন্ড্রি বিভাগে ভয়াবহ আগুন লাগে। সেই আগুন নেভাতে গিয়ে আহত হন দু’জন সেনা এবং সেনাদের অন্তত ১০০টি বিছানা ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে যায়।

ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডের পয়োঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাতেও গুরুতর সংকট দেখা দেখা দিয়েছে। পাইপলাইনে ত্রুটি থাকার কারণে টয়লেট উপচে ওপরে বর্জ্য ওপরে উঠে আসায় জাহাজটির অধিকাংশ ওয়াশরুম ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডের প্রকৌশলী টিম জানিয়েছে, এই ত্রুটি সারাতে হলে জাহাজ ডক-ইয়ার্ডে নিয়ে যেতে হবে। মাঝ-সাগরে জাহাজটির মেরামত সম্ভব নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগের নিয়ম অনুসারে, প্রতিটি রণতরীবাহী যুদ্ধজাহাজ একটানা সর্বোচ্চ ৬ মাস সাগরে টহল দিতে পারবে। তারপর সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড কিংবা বাইরের কোনো সামরিক ঘাঁটিতে যেতে হবে নাবিকদের বিশ্রাম এবং জাহাজ মেরামতের জন্য।

ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড সাগরে টহল দিচ্ছে গত ৯ মাস ধরে। এই রণতরীর জোরেই ইরান হামলার আগে ৬ মাস ধরে ক্যারিবিয়ান সাগরে তথাকথিত মাদকবাহী নৌযানগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। টানা ৯ মাস ধরে সাগরে অবস্থানের কারণে ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ডের সেনারাও ক্লান্ত।

তাই সবদিক বিবেচনা করেই জাহাজটি ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রালয়ের সূত্র জানিয়েছে, গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে ফিরে যাচ্ছে ইউএসএস গেরাল্ড আর ফোর্ড। সেখানে মার্কিন সেনাঘাঁটি জাহাজটির মেরামতের কাজ তদারক করবে।