ইরানের মুসলমানরা আজ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন। শনিবার (২১ মার্চ) একযোগে পারস্য নববর্ষ নওরোজের প্রথম দিনের সঙ্গে পালিত হয়েছে ঈদ। দেশটির রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় হোজ্জত-ওল-ইসলাম হাজ আলী আকবারির নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রধান জামাত।
এদিন ভোর ৪টায় গ্র্যান্ড মোসাল্লার ফটক খুলে দেওয়া হয় এবং সকাল ৬টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হয় বিভিন্ন আয়োজন। সকাল ৮টায় ঈদের নামাজ ও খুতবা শুরু হয়, যেখানে অসংখ্য ধর্মপ্রাণ মুসল্লি একত্রিত হয়ে ইবাদতে অংশ নেন।
ঈদুল ফিতর ইসলাম ধর্মের অন্যতম প্রধান উৎসব, যা পবিত্র রমজান মাসের সমাপ্তি নির্দেশ করে। শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এ দিনের ঘোষণা দেয়।
ঈদের দিন বিশেষ জামাতের নামাজ আদায় করা হয়, যা সাধারণত খোলা ময়দান বা বড় মসজিদে অনুষ্ঠিত হয় এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও কৃতজ্ঞতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
পবিত্র কোরআনের নির্দেশ অনুযায়ী, মুসলমানরা রমজানের শেষ দিন পর্যন্ত রোজা পালন করেন এবং ঈদের নামাজের আগে জাকাতুল ফিতর আদায় করেন, যা দরিদ্রদের সহায়তায় প্রদান করা হয়।
‘রোজা ভাঙার উৎসব’ হিসেবে পরিচিত ঈদুল ফিতরে রোজা রাখা নিষিদ্ধ এবং ২৯ বা ৩০ দিনের সিয়াম সাধনার সমাপ্তি উদযাপন করা হয়।
ইরানে শনিবার ঈদ উদযাপিত হলেও, চাঁদ দেখার ভিন্নতার কারণে অন্যান্য অনেক মুসলিম দেশে শুক্রবার ঈদ পালিত হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ঈদের তারিখ নির্ধারণ করা হয়, যার ফলে বিশ্বজুড়ে এই উৎসবের তারিখে কিছুটা পার্থক্য দেখা যায়।
সার্বিকভাবে, ঈদুল ফিতর আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণ ও সামাজিক আনন্দের এক অনন্য সংমিশ্রণ, যা এক মাসের সংযম ও ইবাদতের পর মুসলমানদের জন্য বয়ে আনে আনন্দ ও শান্তির বার্তা।

নিজস্ব সংবাদ : 






















