ঢাকা ০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

না ফেরার দেশে বাংলার প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:১০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক, মোঃ মাইন উদ্দিন :

বাংলার প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার আর নেই। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে চারটায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে নিজ এলাকা নেত্রকোনার কেন্দুয়াসহ পুরো বাউল অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সুনীল কর্মকার ১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বান্দনাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি তার গভীর অনুরাগ ছিল। মাত্র সাত বছর বয়সে গানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। ভরাট ও আবেগঘন কণ্ঠে যেকোনো আসর মাতিয়ে তোলার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তার।
কণ্ঠসংগীতের পাশাপাশি বেহালা, দোতারা, তবলা ও হারমোনিয়ামসহ একাধিক বাদ্যযন্ত্র বাজাতেও সমান পারদর্শী ছিলেন এই গুণী শিল্পী। প্রখ্যাত বাউলশিল্পী ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর গান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বাউল সংগীতের পথে আত্মনিয়োগ করেন।

ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে সুরারোপ ও কণ্ঠ দিয়েছেন সুনীল কর্মকার। তার পরিবেশিত বহু গান জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এছাড়া তিনি নিজেও প্রায় দুই শতাধিক গান রচনা করেছেন, যা বাউল ও লোকসংগীত ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, সুনীল কর্মকার দীর্ঘদিন ধরে বাউল গান ও লোকসংগীতের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে আধ্যাত্মিক চেতনা ও মানবতার বাণী পৌঁছে দিয়েছেন।

লোকজ ঐতিহ্যের একজন প্রকৃত ধারক হিসেবে তিনি শ্রোতাদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। একতারা ও দোতারার সুরে তার কণ্ঠের বিশেষ আবেদন মানুষকে গভীরভাবে ছুঁয়ে যেত। তার গানে জীবনদর্শন, মানবপ্রেম ও স্রষ্টার প্রতি ভক্তির বার্তাই প্রধান হয়ে উঠত। “মানুষ ধরো, মানুষ ভজো”সহ বিভিন্ন গানে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

কেন্দুয়া জালাল পরিষদের সদস্য আয়েশ উদ্দিন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, “বাউল সুনীল কর্মকার ছিলেন জালাল ভাবশিষ্য ও একজন কালজয়ী শিল্পী। তার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও ভক্ত রেখে গেছেন

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

না ফেরার দেশে বাংলার প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার

আপডেট সময় ১২:১০:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, মোঃ মাইন উদ্দিন :

বাংলার প্রখ্যাত বাউল শিল্পী সুনীল কর্মকার আর নেই। আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে চারটায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুতে নিজ এলাকা নেত্রকোনার কেন্দুয়াসহ পুরো বাউল অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সুনীল কর্মকার ১৯৫৯ সালের ১৫ জানুয়ারি নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার বান্দনাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি তার গভীর অনুরাগ ছিল। মাত্র সাত বছর বয়সে গানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন তিনি। ভরাট ও আবেগঘন কণ্ঠে যেকোনো আসর মাতিয়ে তোলার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তার।
কণ্ঠসংগীতের পাশাপাশি বেহালা, দোতারা, তবলা ও হারমোনিয়ামসহ একাধিক বাদ্যযন্ত্র বাজাতেও সমান পারদর্শী ছিলেন এই গুণী শিল্পী। প্রখ্যাত বাউলশিল্পী ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর গান থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি বাউল সংগীতের পথে আত্মনিয়োগ করেন।

ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য গানে সুরারোপ ও কণ্ঠ দিয়েছেন সুনীল কর্মকার। তার পরিবেশিত বহু গান জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এছাড়া তিনি নিজেও প্রায় দুই শতাধিক গান রচনা করেছেন, যা বাউল ও লোকসংগীত ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় বাউল সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, সুনীল কর্মকার দীর্ঘদিন ধরে বাউল গান ও লোকসংগীতের মাধ্যমে মানুষের হৃদয়ে আধ্যাত্মিক চেতনা ও মানবতার বাণী পৌঁছে দিয়েছেন।

লোকজ ঐতিহ্যের একজন প্রকৃত ধারক হিসেবে তিনি শ্রোতাদের কাছে ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। একতারা ও দোতারার সুরে তার কণ্ঠের বিশেষ আবেদন মানুষকে গভীরভাবে ছুঁয়ে যেত। তার গানে জীবনদর্শন, মানবপ্রেম ও স্রষ্টার প্রতি ভক্তির বার্তাই প্রধান হয়ে উঠত। “মানুষ ধরো, মানুষ ভজো”সহ বিভিন্ন গানে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।

কেন্দুয়া জালাল পরিষদের সদস্য আয়েশ উদ্দিন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, “বাউল সুনীল কর্মকার ছিলেন জালাল ভাবশিষ্য ও একজন কালজয়ী শিল্পী। তার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও ভক্ত রেখে গেছেন