ঢাকা ০৯:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

বিএমইউর ক্যাডেভার ওয়ার্কশপ রিজিওনাল অ্যানেসথেশিয়ায় নতুন দিগন্তের সূচনা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৫৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯৬ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশে অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসায় নতুন এক দিগন্তের সূচনা করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। দেশে প্রথমবারের মতো রিজিওনাল অ্যানেসথেশিয়া বিষয়ক ক্যাডেভার ওয়ার্কশপ আয়োজনের মাধ্যমে আধুনিক ও নিরাপদ অস্ত্রোপচার পদ্ধতিতে চিকিৎসকদের বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

বিএমইউর অ্যানেসথেশিয়া, এনালজেশিয়া ও ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের পেইন মেডিসিন ডিভিশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার কেবিন ব্লকের অষ্টম তলায় অবস্থিত পেইন স্কিল অ্যান্ড পাস্টিনেশন ল্যাবে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষক হিসেবে এতে অংশ নেন  ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব রিজিওনাল অ্যানেসথেশিয়ার ক্যাডেভার ওয়ার্কশপের প্রধান অধ্যাপক পল কেসলার। তিনি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনার পাশাপাশি চিকিৎসকদের হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেন।

কর্মশালায় চিকিৎসকদের রিজিওনাল অ্যানেসথেশিয়া প্রয়োগ, ব্যথা ব্যবস্থাপনা, আল্ট্রাসাউন্ড গাইডেড পদ্ধতি এবং নিডলিং টেকনিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ২০ জন চিকিৎসক মৃতদেহের (ক্যাডেভার) ওপর সরাসরি অনুশীলনের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, রিজিওনাল অ্যানেসথেশিয়ার মাধ্যমে রোগীকে সম্পূর্ণ অজ্ঞান না করেই শরীরের নির্দিষ্ট অংশে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব, যা রোগীর জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং অপারেশন-পরবর্তী জটিলতা কমাতে সহায়ক। এটি অপারেশনের সময় ও পরবর্তী ব্যথা ব্যবস্থাপনায় আধুনিক সার্জারির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।

ভবিষ্যতে বিএমইউতে এ ধরনের ক্যাডেভারভিত্তিক ওয়ার্কশপ বছরে অন্তত দুইবার আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। গতকালের আয়োজন বিএমইউর পেইন স্কিল অ্যান্ড পাস্টিনেশন ল্যাবকে ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব রিজিওনাল অ্যানেসথেশিয়ার অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

কর্মশালার সঞ্চালনা করেন বিএমইউর আইসিটি ডিরেক্টর ও অ্যানেসথেশিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. একেএম আখতারুজ্জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং এভারকেয়ার হাসপাতালের অ্যানেসথেশিওলজিস্ট ডা. লুৎফুল আজিজ।

অনুষ্ঠানে সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন বিএমইউর অ্যানেসথেশিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এসএম আব্দুল আলীম।

উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, এ ধরনের বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স এবং হাসপাতালজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধে আরও সতর্ক ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাই।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

বিএমইউর ক্যাডেভার ওয়ার্কশপ রিজিওনাল অ্যানেসথেশিয়ায় নতুন দিগন্তের সূচনা

আপডেট সময় ১২:৫৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে অ্যানেসথেশিয়া চিকিৎসায় নতুন এক দিগন্তের সূচনা করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। দেশে প্রথমবারের মতো রিজিওনাল অ্যানেসথেশিয়া বিষয়ক ক্যাডেভার ওয়ার্কশপ আয়োজনের মাধ্যমে আধুনিক ও নিরাপদ অস্ত্রোপচার পদ্ধতিতে চিকিৎসকদের বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

বিএমইউর অ্যানেসথেশিয়া, এনালজেশিয়া ও ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের পেইন মেডিসিন ডিভিশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার কেবিন ব্লকের অষ্টম তলায় অবস্থিত পেইন স্কিল অ্যান্ড পাস্টিনেশন ল্যাবে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষক হিসেবে এতে অংশ নেন  ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব রিজিওনাল অ্যানেসথেশিয়ার ক্যাডেভার ওয়ার্কশপের প্রধান অধ্যাপক পল কেসলার। তিনি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনার পাশাপাশি চিকিৎসকদের হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেন।

কর্মশালায় চিকিৎসকদের রিজিওনাল অ্যানেসথেশিয়া প্রয়োগ, ব্যথা ব্যবস্থাপনা, আল্ট্রাসাউন্ড গাইডেড পদ্ধতি এবং নিডলিং টেকনিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ২০ জন চিকিৎসক মৃতদেহের (ক্যাডেভার) ওপর সরাসরি অনুশীলনের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, রিজিওনাল অ্যানেসথেশিয়ার মাধ্যমে রোগীকে সম্পূর্ণ অজ্ঞান না করেই শরীরের নির্দিষ্ট অংশে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব, যা রোগীর জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং অপারেশন-পরবর্তী জটিলতা কমাতে সহায়ক। এটি অপারেশনের সময় ও পরবর্তী ব্যথা ব্যবস্থাপনায় আধুনিক সার্জারির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।

ভবিষ্যতে বিএমইউতে এ ধরনের ক্যাডেভারভিত্তিক ওয়ার্কশপ বছরে অন্তত দুইবার আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। গতকালের আয়োজন বিএমইউর পেইন স্কিল অ্যান্ড পাস্টিনেশন ল্যাবকে ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব রিজিওনাল অ্যানেসথেশিয়ার অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

কর্মশালার সঞ্চালনা করেন বিএমইউর আইসিটি ডিরেক্টর ও অ্যানেসথেশিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. একেএম আখতারুজ্জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং এভারকেয়ার হাসপাতালের অ্যানেসথেশিওলজিস্ট ডা. লুৎফুল আজিজ।

অনুষ্ঠানে সমন্বয়কের দায়িত্বে ছিলেন বিএমইউর অ্যানেসথেশিওলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এসএম আব্দুল আলীম।

উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, এ ধরনের বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স এবং হাসপাতালজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধে আরও সতর্ক ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানাই।