ঢাকা ১০:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

রাজধানীতে আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যায় জড়িত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:২১:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮৩ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আইনজীবী নাঈম কিবরিয়াকে পিটিয়ে হত্যার পর দুদিনেও জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কাজ এগিয়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

ভাটারা থানার ওসি ইমাউল হক সমকালকে বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ জড়িতদের শনাক্তের কাজ শুরু করেছে। শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য স্থানগুলোয় অভিযান চালানো হচ্ছে।

গত বুধবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নাঈমকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পুলিশ বলছে, ঘটনার সময় তিনি প্রাইভেটকার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তার গাড়ি একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়েছে– এমন অভিযোগ তুলে তাকে পেটানো হয়। তবে স্বজনের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ তৈরি করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে পাবনা সদরে তার বাড়িতে হামলা এবং তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

নিহতের খালাতো ভাই রাকিবুল ইসলাম শামীম সমকালকে বলেন, ‘পূর্বাচলে আমার বাসায় এসে উঠেছিল নাঈম। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে একই গাড়িতে দুজন বসুন্ধরা এলাকায় আমার ভাইয়ের বাসায় গিয়েছিলাম। রাতে ভাই–ভাবি ও আমরা দুজন দুটি গাড়ি নিয়ে চা খেতে বের হই। তখন নাঈম বলে, আমি চা খাব না, ভাইয়ার গাড়ি নিয়ে একটু ঘুরে আসি। এরপর রাত পৌনে ১০টার দিকে তাকে এল–ব্লকে রেখে আমরা বিটুমিন গেটের দিকে যাই। রাত ১০টা ৮ মিনিটে নাঈমের ফোন নম্বর থেকে একটি কল আসে। কিন্তু ওপাশ থেকে কেউ কথা বলেনি। আমি বারবার জিজ্ঞেস করেছি, তুই কোথায়? কোনো উত্তর পাইনি। এরপর ওর নম্বরে বারবার কল দিলেও ধরেনি। পরে বসুন্ধরার একজন নিরাপত্তাকর্মী ফোন করে জানান, নাঈম বসুন্ধরার ১৫ নম্বর সড়কের ওয়ালটন বাড়ি এলাকায় অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। আমরা দ্রুত গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

রাকিবুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি দুই–তিন দিন নাঈমের খোঁজে তার পাবনার বাড়িতে মোটরসাইকেল নিয়ে যায় কিছু যুবক। সেখানে পরিবারের কেউ ছিলেন না। তবে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, নাঈমকে পেলে মেরে ফেলা হবে– এমন হুমকি দেয় তারা। এ কারণে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বসুন্ধরা এলাকায় পাবনার অনেকে থাকেন। এমন হতে পারে যে, তেমন কেউ নাঈমকে চিনতে পেরেছেন। এরপর মব সৃষ্টি করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের হত্যা মামলায় জামিন নিতে ঢাকায় এসেছিলেন নাঈম।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

রাজধানীতে আইনজীবীকে পিটিয়ে হত্যায় জড়িত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি

আপডেট সময় ১২:২১:২৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আইনজীবী নাঈম কিবরিয়াকে পিটিয়ে হত্যার পর দুদিনেও জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তবে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কাজ এগিয়ে চলেছে বলে জানিয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।

ভাটারা থানার ওসি ইমাউল হক সমকালকে বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ জড়িতদের শনাক্তের কাজ শুরু করেছে। শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য স্থানগুলোয় অভিযান চালানো হচ্ছে।

গত বুধবার রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নাঈমকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পুলিশ বলছে, ঘটনার সময় তিনি প্রাইভেটকার চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তার গাড়ি একটি মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়েছে– এমন অভিযোগ তুলে তাকে পেটানো হয়। তবে স্বজনের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ তৈরি করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে পাবনা সদরে তার বাড়িতে হামলা এবং তাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

নিহতের খালাতো ভাই রাকিবুল ইসলাম শামীম সমকালকে বলেন, ‘পূর্বাচলে আমার বাসায় এসে উঠেছিল নাঈম। বুধবার বিকেল ৩টার দিকে একই গাড়িতে দুজন বসুন্ধরা এলাকায় আমার ভাইয়ের বাসায় গিয়েছিলাম। রাতে ভাই–ভাবি ও আমরা দুজন দুটি গাড়ি নিয়ে চা খেতে বের হই। তখন নাঈম বলে, আমি চা খাব না, ভাইয়ার গাড়ি নিয়ে একটু ঘুরে আসি। এরপর রাত পৌনে ১০টার দিকে তাকে এল–ব্লকে রেখে আমরা বিটুমিন গেটের দিকে যাই। রাত ১০টা ৮ মিনিটে নাঈমের ফোন নম্বর থেকে একটি কল আসে। কিন্তু ওপাশ থেকে কেউ কথা বলেনি। আমি বারবার জিজ্ঞেস করেছি, তুই কোথায়? কোনো উত্তর পাইনি। এরপর ওর নম্বরে বারবার কল দিলেও ধরেনি। পরে বসুন্ধরার একজন নিরাপত্তাকর্মী ফোন করে জানান, নাঈম বসুন্ধরার ১৫ নম্বর সড়কের ওয়ালটন বাড়ি এলাকায় অচেতন অবস্থায় পড়ে আছে। আমরা দ্রুত গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

রাকিবুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি দুই–তিন দিন নাঈমের খোঁজে তার পাবনার বাড়িতে মোটরসাইকেল নিয়ে যায় কিছু যুবক। সেখানে পরিবারের কেউ ছিলেন না। তবে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, নাঈমকে পেলে মেরে ফেলা হবে– এমন হুমকি দেয় তারা। এ কারণে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বসুন্ধরা এলাকায় পাবনার অনেকে থাকেন। এমন হতে পারে যে, তেমন কেউ নাঈমকে চিনতে পেরেছেন। এরপর মব সৃষ্টি করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের হত্যা মামলায় জামিন নিতে ঢাকায় এসেছিলেন নাঈম।