ঢাকা ০৭:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

যশোরে রেজিস্ট্রি অফিসে আগুন, ৩০০ বছরের পুরনো নথি নষ্ট

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৪৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯০ বার পড়া হয়েছে

যশোর রেজিস্ট্রি অফিসের পুরনো ভবনে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে প্রায় তিনশ বছরের পুরনো ভলিউম বুক, বালাম বই, সূচিপত্র, টিপবইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেখান থেকে হঠাৎ করেই ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট।

প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তারা। তবে এর আগেই আগুনে রেকর্ড রুমের ভেতরে থাকা প্রায় তিনশ বছরের পুরাতন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যশোর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফিরোজ আহমেদ জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে তাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুরনো ভবনের গেটে তালা দেয়া ছিল। আর ভেতরে জ্বলছিল আগুন। সেখানে কোন স্টাফ ছিল না। তারা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এরপর ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তিনি আরও বলেন, ভবনের দুইটি রুমে রেখে দেয়া পুরনো কাগজপত্র দলিলপত্র পুড়ে গেছে। তদন্ত শেষে আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত যশোরের শার্শা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের মোহরার শামসুজ্জামান মিলন জানান, তার বর্তমান কর্মস্থল শার্শা হলেও তিনি যশোর শহরের পোস্ট অফিস পাড়ায় বসবাস করেন। জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে একসময় তিনি চাকরি করেছেন। এ রেকর্ড রুমে ১৭৪১ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত যশোর ও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ দলিল, ভলিউম বুক, বালাম বই, সূচিপত্র, টিপবইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সংরক্ষণ করা ছিল।

খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ভবনের দরজা কেউ খুলতেন না। আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ভেতরে গিয়ে দেখতে পান পুরনো সমস্ত কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অবশিষ্ট কিছু কাগজপত্র আছে, তাও পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। ঊর্ধ্বতন ও কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলতে পারবেন।

আগুন লাগার সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসা যশোর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সোহরাব হোসেন জানান, ভবনের গেটে তালা দেওয়া থাকে। সেখানে হিরা নামে একজন নৈশ প্রহরীও থাকে। কিন্তু আগুন লাগার সময় তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি।

এদিকে রেজিস্ট্রি অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছেন, আগুন লাগার ঘটনাটি রহস্যজনক। ওই ভবনের মধ্যে কোন বৈদ্যুতিক সংযোগ নেই। ফলে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে যে আগুন লাগবে এর কোন কারণ নেই। পরিকল্পিতভাবে ওই ভবনের ভেতরে আগুন লাগানো হতে পারে।

সূত্রের দাবি, নৈশ প্রহরী হিরা, সাইফুল ও মিলন নামে তিন কর্মীর আচরণ সন্দেহজনক। পুলিশ প্রশাসন অনুসন্ধান করলে আসল তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

যশোরে রেজিস্ট্রি অফিসে আগুন, ৩০০ বছরের পুরনো নথি নষ্ট

আপডেট সময় ০১:৪৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

যশোর রেজিস্ট্রি অফিসের পুরনো ভবনে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে প্রায় তিনশ বছরের পুরনো ভলিউম বুক, বালাম বই, সূচিপত্র, টিপবইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সেখান থেকে হঠাৎ করেই ধোঁয়া ও আগুন দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট।

প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন তারা। তবে এর আগেই আগুনে রেকর্ড রুমের ভেতরে থাকা প্রায় তিনশ বছরের পুরাতন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

যশোর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফিরোজ আহমেদ জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে তাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুরনো ভবনের গেটে তালা দেয়া ছিল। আর ভেতরে জ্বলছিল আগুন। সেখানে কোন স্টাফ ছিল না। তারা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এরপর ২০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

তিনি আরও বলেন, ভবনের দুইটি রুমে রেখে দেয়া পুরনো কাগজপত্র দলিলপত্র পুড়ে গেছে। তদন্ত শেষে আগুনের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত যশোরের শার্শা সাব রেজিস্ট্রি অফিসের মোহরার শামসুজ্জামান মিলন জানান, তার বর্তমান কর্মস্থল শার্শা হলেও তিনি যশোর শহরের পোস্ট অফিস পাড়ায় বসবাস করেন। জেলা রেজিস্ট্রি অফিসে একসময় তিনি চাকরি করেছেন। এ রেকর্ড রুমে ১৭৪১ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত যশোর ও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ দলিল, ভলিউম বুক, বালাম বই, সূচিপত্র, টিপবইসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সংরক্ষণ করা ছিল।

খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ভবনের দরজা কেউ খুলতেন না। আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ভেতরে গিয়ে দেখতে পান পুরনো সমস্ত কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। অবশিষ্ট কিছু কাগজপত্র আছে, তাও পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। ঊর্ধ্বতন ও কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বলতে পারবেন।

আগুন লাগার সংবাদ শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে আসা যশোর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সোহরাব হোসেন জানান, ভবনের গেটে তালা দেওয়া থাকে। সেখানে হিরা নামে একজন নৈশ প্রহরীও থাকে। কিন্তু আগুন লাগার সময় তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি।

এদিকে রেজিস্ট্রি অফিসের একটি সূত্র জানিয়েছেন, আগুন লাগার ঘটনাটি রহস্যজনক। ওই ভবনের মধ্যে কোন বৈদ্যুতিক সংযোগ নেই। ফলে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটে যে আগুন লাগবে এর কোন কারণ নেই। পরিকল্পিতভাবে ওই ভবনের ভেতরে আগুন লাগানো হতে পারে।

সূত্রের দাবি, নৈশ প্রহরী হিরা, সাইফুল ও মিলন নামে তিন কর্মীর আচরণ সন্দেহজনক। পুলিশ প্রশাসন অনুসন্ধান করলে আসল তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।