ঢাকা ০৫:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

৫৪ বছর পর প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হলো না কোনো মুসলিমের

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১১:১১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভায় কোনো মুসলিম সদস্য না থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। রাজ্যের ইতিহাসে কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো মুসলিম প্রতিনিধিত্ববিহীন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার নতুন ৩৫ জন মন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে। তবে এই মন্ত্রিসভার সব সদস্যই হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন সামনে এসেছে।

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপি কোনো মুসলিম প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘু ভোটের ওপর নির্ভর না করার অবস্থানও প্রকাশ করেছিলেন। যদিও ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, বিধায়ক না হয়েও কোনো ব্যক্তি মন্ত্রী হতে পারেন, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম জনগোষ্ঠী মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের মন্ত্রিসভায় তাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল। স্বাধীনতার পরবর্তী কিছু সময় ছাড়া গত কয়েক দশকের প্রায় সব সরকারেই মুসলিম মন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কংগ্রেস—সব শাসনামলেই মুসলিম প্রতিনিধিরা মন্ত্রিসভার অংশ ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ আহমেদ খান, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক মোল্লা ও এবিএ গনি খান চৌধুরীর মতো নেতারা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।

নতুন মন্ত্রিসভায় নারী প্রতিনিধিত্বও তুলনামূলকভাবে সীমিত। ৪১ সদস্যের মন্ত্রিসভায় মাত্র সাতজন নারী স্থান পেয়েছেন। তাদের মধ্যে অগ্নিমিত্রা পল একমাত্র পূর্ণমন্ত্রী, অন্যরা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে মন্ত্রিসভার তালিকায় কয়েকজন আলোচিত রাজনৈতিক ও জনপরিচিত মুখের অনুপস্থিতিও নজর কেড়েছে। বিশিষ্ট অভিনেতা-রাজনীতিক রূপা গাঙ্গুলি ও রুদ্রনীল ঘোষের মতো নেতারা মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। পাশাপাশি আলোচিত আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকেন্দ্রিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক বিধায়ককেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান মন্ত্রিসভার গঠন বিজেপির নির্বাচনী কৌশল ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন। তবে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও দলের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের কারণে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি নতুনভাবে বিবেচিত হতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

৫৪ বছর পর প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হলো না কোনো মুসলিমের

আপডেট সময় ১১:১১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভায় কোনো মুসলিম সদস্য না থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। রাজ্যের ইতিহাসে কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো মুসলিম প্রতিনিধিত্ববিহীন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার নতুন ৩৫ জন মন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে। তবে এই মন্ত্রিসভার সব সদস্যই হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন সামনে এসেছে।

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপি কোনো মুসলিম প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘু ভোটের ওপর নির্ভর না করার অবস্থানও প্রকাশ করেছিলেন। যদিও ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, বিধায়ক না হয়েও কোনো ব্যক্তি মন্ত্রী হতে পারেন, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম জনগোষ্ঠী মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের মন্ত্রিসভায় তাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল। স্বাধীনতার পরবর্তী কিছু সময় ছাড়া গত কয়েক দশকের প্রায় সব সরকারেই মুসলিম মন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কংগ্রেস—সব শাসনামলেই মুসলিম প্রতিনিধিরা মন্ত্রিসভার অংশ ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ আহমেদ খান, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক মোল্লা ও এবিএ গনি খান চৌধুরীর মতো নেতারা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।

নতুন মন্ত্রিসভায় নারী প্রতিনিধিত্বও তুলনামূলকভাবে সীমিত। ৪১ সদস্যের মন্ত্রিসভায় মাত্র সাতজন নারী স্থান পেয়েছেন। তাদের মধ্যে অগ্নিমিত্রা পল একমাত্র পূর্ণমন্ত্রী, অন্যরা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে মন্ত্রিসভার তালিকায় কয়েকজন আলোচিত রাজনৈতিক ও জনপরিচিত মুখের অনুপস্থিতিও নজর কেড়েছে। বিশিষ্ট অভিনেতা-রাজনীতিক রূপা গাঙ্গুলি ও রুদ্রনীল ঘোষের মতো নেতারা মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। পাশাপাশি আলোচিত আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকেন্দ্রিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক বিধায়ককেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান মন্ত্রিসভার গঠন বিজেপির নির্বাচনী কৌশল ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন। তবে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও দলের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের কারণে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি নতুনভাবে বিবেচিত হতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।