ঢাকা ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

২০৩০-এর মধ্যে ৪ কোটি পরিবারকে পেনশন স্কিমে আনার লক্ষ্য অর্থমন্ত্রীর

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:০৪:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারকে জাতীয় পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এই সময়ের মধ্যে চার কোটি পরিবারের প্রতিটি থেকে কমপক্ষে একজন সদস্যকে পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। একই সাথে স্কিমকে আরও আকর্ষণীয় করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (১২ মে) অর্থমন্ত্রীর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের এক সভায় এই নির্দেশনা দেন অর্থমন্ত্রী। এসময় সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে সকল নাগরিকের কাছে পৌঁছে দিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ অনুযায়ী বেসরকারি খাতের কর্মীদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘পেনশন ফান্ড’ গঠন একটি অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। তিনি সর্বজনীন পেনশন স্কিমে জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, প্রচার কার্যক্রম জোরদার, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ ও পেশাদার জনবল নিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত এবং দেশের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতার অনুপাত ২০২৩ সালের ৯ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ২০৫০ সালে ২৪ শতাংশ ও ২০৭৫ সালে ৪৮ শতাংশে উন্নীত হবে। সভায় ভবিষ্যতের এই জনমিতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে আরও শক্তিশালী ও অন্তভর্তিমূলক হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞাপন

সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামানসহ কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন সভায়। এসময় তিনি বলেন, গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৪টি জাতীয় পেনশন স্কিমে (প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা) মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নাগরিক নিবন্ধিত হয়েছেন এবং পেনশন তহবিলে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। মুনাফাসহ এ পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

সভায় আরও জানানো হয়, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে ১০ কোটি ইউএস ডলার সহজশর্তে ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যার সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ ছাড়া ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিকাশ, নগদ ও টেলিটকের মাধ্যমে চাঁদা গ্রহণের ব্যবস্থা এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে জাতীয় পেনশন স্কিমের নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

২০৩০-এর মধ্যে ৪ কোটি পরিবারকে পেনশন স্কিমে আনার লক্ষ্য অর্থমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০২:০৪:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় চার কোটি পরিবারকে জাতীয় পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

এই সময়ের মধ্যে চার কোটি পরিবারের প্রতিটি থেকে কমপক্ষে একজন সদস্যকে পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। একই সাথে স্কিমকে আরও আকর্ষণীয় করতে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালু, নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা বিবেচনা এবং প্রগতি স্কিমে আউটসোর্সিং কর্মীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (১২ মে) অর্থমন্ত্রীর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সর্বজনীন পেনশন স্কিমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের এক সভায় এই নির্দেশনা দেন অর্থমন্ত্রী। এসময় সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে সকল নাগরিকের কাছে পৌঁছে দিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬ অনুযায়ী বেসরকারি খাতের কর্মীদের বার্ধক্যকালীন আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘পেনশন ফান্ড’ গঠন একটি অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। তিনি সর্বজনীন পেনশন স্কিমে জনগণের আস্থা বৃদ্ধি, প্রচার কার্যক্রম জোরদার, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দক্ষ ও পেশাদার জনবল নিয়োগের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত এবং দেশের বয়স্ক জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতার অনুপাত ২০২৩ সালের ৯ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে ২০৫০ সালে ২৪ শতাংশ ও ২০৭৫ সালে ৪৮ শতাংশে উন্নীত হবে। সভায় ভবিষ্যতের এই জনমিতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমকে আরও শক্তিশালী ও অন্তভর্তিমূলক হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

বিজ্ঞাপন

সভায় জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামানসহ কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার ও অর্থ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান সর্বজনীন পেনশন স্কিমের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন সভায়। এসময় তিনি বলেন, গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৪টি জাতীয় পেনশন স্কিমে (প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা) মোট ৩ লাখ ৭৭ হাজার ৫৪৫ জন নাগরিক নিবন্ধিত হয়েছেন এবং পেনশন তহবিলে মোট জমার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। মুনাফাসহ এ পর্যন্ত মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২৭৯ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

সভায় আরও জানানো হয়, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ প্রকল্পে ১০ কোটি ইউএস ডলার সহজশর্তে ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যার সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ ছাড়া ৪৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিকাশ, নগদ ও টেলিটকের মাধ্যমে চাঁদা গ্রহণের ব্যবস্থা এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে জাতীয় পেনশন স্কিমের নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানা গেছে।