ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশের (আপ বাংলাদেশ) প্রধান সংগঠক নাঈম আহমাদ বলেছেন, ভারতে পালাতক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার শাসন টিকিয়ে রাখতে অসংখ্য খুনে জড়িত ছিলেন। তার বারা শেখ মুজিবুর রহমানও বাকশালী শাসন বজায় রাখার জন্য গুম, খুন ও ক্রসফায়ারে যুক্ত ছিলেন।
সিরাজ সিকদারের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে উপলক্ষে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘সিরাজ শিকদার: রাষ্ট্র, ভিন্নমত ও হত্যার রাজনীতি’ শীর্ষক আলোচনাসভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
নাঈম আহমাদ বলেন, ইতিহাসে জানা যায়, ১৯৭৫ সালের ২ জানুয়ারি সর্বহারা পার্টির নেতা বিপ্লবী সিরাজ শিকদার শেখ মুজিব সরকারের নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন। এটি স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হেফাজতে প্রথম আলোচিত হত্যাকাণ্ড এবং প্রথম ‘ক্রসফায়ার’। তবে সিরাজ শিকদারের হত্যার পরও শেখ মুজিবুর রহমান বেশি দিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেননি, যেমন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতাকে হত্যার পর শেখ হাসিনা টিকে থাকতে পারেননি।
তিনি বলেন, শেখ পরিবারের ক্ষমতায় টিকে থাকার দুটি প্রধান অবলম্বন ছিল। একদিকে, রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে গুম, খুন ও ক্রসফায়ারের মাধ্যমে ভিন্নমত দমন, অন্যদিকে দিল্লির সাম্রাজ্যবাদী শক্তির প্রশ্রয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের দিয়ে দেশে সন্ত্রাসী তৎপরতা চালানো। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ যে শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার কথা ছিল, শেখ পরিবারের অপরাজনীতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে তা বাস্তবায়িত হয়নি।
নাঈম আহমাদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ পরিবারমুক্ত হয়েছে দেশ। এখন এ দেশকে ধাপে ধাপে সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ও আওয়ামী লীগ যেন রাজনীতিতে ফেরার কোনো সুযোগ না পায়। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন দলের ব্যানারে ও স্বতন্ত্র পরিচয়ে অনেক আওয়ামী সন্ত্রাসী আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে চেষ্টা করছে, যাদের প্রতিহত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশে চলমান উত্তেজনার পেছনে বিশেষ করে শহীদ ওসমান হাদির হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে সজীব ওয়াজেদ জয়ের ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা থাকতে পারে। সিরাজ শিকদার হত্যার বিচার যেমন কোনো সরকার করেনি, তেমনি ওসমান হাদির হত্যার বিচারও যেন ঝুলে না যায়— সে বিষয়ে দেশপ্রেমিক জনগণকে সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে।
আলোচনাসভায় আপ বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক মুহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী অবস্থান নেওয়ায় সিরাজ শিকদার শেখ মুজিবের চক্ষুশূলে পরিণত হন এবং তার নির্দেশেই তিনি হত্যার শিকার হন। নির্মম পরিহাস হলো— দিল্লি শেষ পর্যন্ত শেখ মুজিবকেও রক্ষা করেনি। তিনিও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে গুম ও খুনমুক্ত একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।
আপ বাংলাদেশের মুখপাত্র শাহরীন সুলতানা ইরার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহ ও তৌসিফ মাহমুদ সোহান, প্রচার ও জনসংযোগ কমিটির সদস্য মো. ইমরান হোসেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মোস্তফা মাহাথির, চাঁদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক মো. শাহাদাৎ হোসাইন, শ্রমিক উইংয়ের সংগঠক রাফিম হাসনাত হিজবু, যুব উইংয়ের সংগঠক নূরে আলম তোহা এবং রাঙ্গাবালী উপজেলার সদস্য সচিব জুবায়ের আহমদ প্রমুখ।

নিজস্ব সংবাদ : 















