ঢাকা ১১:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

হরমুজ প্রণালিতে সাবমেরিন মোতায়েন করলো ইরান

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
শত্রু পক্ষের নৌযান মোকাবিলায় হরমুজ প্রণালিতে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত হালকা সাবমেরিন মোতায়েন করেছে ইরানের নৌবাহিনী। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী এই সাবমেরিনগুলোকে ‘পারস্য উপসাগরের ডলফিন’ বলে উল্লেখ করেছে।

রোববার (১০ মে) ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি এমন মন্তব্য করেছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আইআরজিসি ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি জানান, বিদ্যমান হুমকি, সক্ষমতা ও অপারেশনাল প্রয়োজনের ভিত্তিতে ইরানে তৈরি এসব হালকা সাবমেরিনের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে এবং সেগুলো হরমুজ প্রণালির সমুদ্রতলে মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব সাবমেরিন কৌশলগত এই জলপথে দীর্ঘ সময় সমুদ্রতলে অবস্থান করতে সক্ষম এবং একই সঙ্গে শত্রু জাহাজ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে।

নৌবাহিনীর এই কমান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌ কর্মকর্তারা ও সদস্যরা এসব হালকা সাবমেরিনকে সাধারণত ‘পারস্য উপসাগরের ডলফিন’ নামে ডাকেন।

তিনি আরও বলেন, ডেনা ডেস্ট্রয়ার জাহাজের শহিদদের স্মরণে পরিচালিত এক অভিযানের সময় এসব সাবমেরিন হরমুজ প্রণালিতে পানির ওপরে উঠে আসে যাতে ইরানের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদর্শন করা যায়।

বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত ফরমেশন মহড়া শেষে সাবমেরিনগুলো আবার সমুদ্রের গভীরে ফিরে গিয়ে তাদের নির্ধারিত মিশন চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান শাহরাম ইরানি।

প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। একই দিনে মিনাব শহরের শারজাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন টমাহক মিসাইল হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরান সরকার। এর প্রতিবাদে টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।

এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর আরেক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৮০ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

হরমুজ প্রণালিতে সাবমেরিন মোতায়েন করলো ইরান

আপডেট সময় ০৬:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
শত্রু পক্ষের নৌযান মোকাবিলায় হরমুজ প্রণালিতে দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত হালকা সাবমেরিন মোতায়েন করেছে ইরানের নৌবাহিনী। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনী এই সাবমেরিনগুলোকে ‘পারস্য উপসাগরের ডলফিন’ বলে উল্লেখ করেছে।

রোববার (১০ মে) ইরানের নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি এমন মন্তব্য করেছেন বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে আইআরজিসি ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজ এজেন্সি।

রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি জানান, বিদ্যমান হুমকি, সক্ষমতা ও অপারেশনাল প্রয়োজনের ভিত্তিতে ইরানে তৈরি এসব হালকা সাবমেরিনের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে এবং সেগুলো হরমুজ প্রণালির সমুদ্রতলে মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব সাবমেরিন কৌশলগত এই জলপথে দীর্ঘ সময় সমুদ্রতলে অবস্থান করতে সক্ষম এবং একই সঙ্গে শত্রু জাহাজ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে।

নৌবাহিনীর এই কমান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌ কর্মকর্তারা ও সদস্যরা এসব হালকা সাবমেরিনকে সাধারণত ‘পারস্য উপসাগরের ডলফিন’ নামে ডাকেন।

তিনি আরও বলেন, ডেনা ডেস্ট্রয়ার জাহাজের শহিদদের স্মরণে পরিচালিত এক অভিযানের সময় এসব সাবমেরিন হরমুজ প্রণালিতে পানির ওপরে উঠে আসে যাতে ইরানের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা প্রদর্শন করা যায়।

বিভিন্ন ধরনের কৌশলগত ফরমেশন মহড়া শেষে সাবমেরিনগুলো আবার সমুদ্রের গভীরে ফিরে গিয়ে তাদের নির্ধারিত মিশন চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান শাহরাম ইরানি।

প্রসঙ্গত, জেনেভা শহরে আলোচনা চলা অবস্থায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায় মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথবাহিনী। এতে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশকিছু শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। একই দিনে মিনাব শহরের শারজাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন টমাহক মিসাইল হামলায় ১৬৮ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। এই ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ বলে ঘোষণা দিয়েছে ইরান সরকার। এর প্রতিবাদে টানা ৩৯ দিনে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ১০০ দফা হামলা চালায় ইরান।

এরপর ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন ট্রাম্প। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে সরাসরি বৈঠক করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়া ১৩ এপ্রিল হরমুজে নৌ-অবরোধ আরোপ করা হয়। এরপর আরেক দফা যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ান ট্রাম্প।

ইরানের লিগ্যাল মেডিসিন সংস্থার তথ্যমতে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত সংঘাতে মোট ৩ হাজার ৩৮০ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৭৫ জন পুরুষ এবং ৪৯৬ জন নারী। এছাড়া জরুরি চিকিৎসা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ১১৮ জন চিকিৎসাকর্মী আহত হন এবং ২৬ জন নিহত হন।