ঢাকা ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

‘হরমুজের চাবি হারিয়ে ফেলেছি, নতুন পরাশক্তিকে স্বাগত জানান’: ট্রাম্পকে ইরানের খোঁচা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:০৩:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪০ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইস্টারের সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে দাবি করেছিলেন—হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে দিতে হবে। এর জবাবে জিম্বাবুয়েতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ প্রতিক্রিয়া জানায়: “আমরা চাবিটা হারিয়ে ফেলেছি।”

ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক পদক্ষেপের পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর ‘এক্স’ (টুইটার) অ্যাকাউন্টগুলো বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। একের পর এক পোস্টে ট্রাম্পকে বিদ্রুপ করে তারা দ্রুতই ভাইরাল হয়ে উঠেছে।

এই অনলাইন প্রচারণায় বিশেষভাবে এগিয়ে রয়েছে আফ্রিকার দেশগুলোতে অবস্থিত ইরানি মিশনগুলো। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকাতে ইরানের দূতাবাসের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে।

গত বুধবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দিনই দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানি দূতাবাস তাদের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে লিখেছিল—“বিশ্বের নতুন পরাশক্তিকে স্বাগত জানান।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে ওয়াশিংটনের প্রতি কটাক্ষ করা হয়। বার্তাটি ছিল—শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আমেরিকা ইরান সরকারকে নত করতে পারেনি।

এর আগেও তারা ট্রাম্পের ‘শান্তিদূত’ ভাবমূর্তিকে ব্যঙ্গ করে একটি ছবি পোস্ট করে, যেখানে একটি পায়রার ছায়া যুদ্ধবিমানের আকার নিয়েছিল। যদিও অন্যান্য দেশেও ইরানের কূটনৈতিক মিশনগুলো ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেছে, দক্ষিণ আফ্রিকার দূতাবাসের সক্রিয়তা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে।

জোহানেসবার্গভিত্তিক আফ্রো-মিডল ইস্ট সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাঈম জিনা বলেন, ইরান খুব কৌশলগতভাবে সামাজিক মাধ্যমে এই প্রচার চালাচ্ছে। তার মতে, ইরানি মিশনগুলো বিশেষ করে সেসব দেশে বেশি আক্রমণাত্মক অনলাইন ভূমিকা নিচ্ছে, যেখানে স্থানীয়ভাবে তেমন বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা নেই—দক্ষিণ আফ্রিকা তার একটি বড় উদাহরণ।

ইরান ও দক্ষিণ আফ্রিকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন আগেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার জানিয়েছে, তাদের অবস্থান ঐতিহাসিকভাবে নির্ধারিত এবং তারা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনো পক্ষের অনুসারী হতে চায় না।

এদিকে, ইরানের এই প্রচারণা শুধু বিদ্রুপেই সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণ আফ্রিকার দূতাবাস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এমন কিছু ভিডিও তৈরি করেছে, যেখানে ইরানের মিনাব শহরে মার্কিন হামলায় নিহত শিশুদের ভার্চুয়ালভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তাদের ভবিষ্যতের স্বপ্নের কথাও তুলে ধরা হয়।

তিউনিসিয়াসহ আফ্রিকার আরও কিছু দেশে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস একই ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে। কখনও স্বাগতিক দেশের প্রশংসা, আবার কখনও আন্তর্জাতিক সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়ে তেহরান বোঝাতে চাইছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে তারা একা নয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

‘হরমুজের চাবি হারিয়ে ফেলেছি, নতুন পরাশক্তিকে স্বাগত জানান’: ট্রাম্পকে ইরানের খোঁচা

আপডেট সময় ০৬:০৩:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইস্টারের সকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমাজমাধ্যমে দাবি করেছিলেন—হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে দিতে হবে। এর জবাবে জিম্বাবুয়েতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ প্রতিক্রিয়া জানায়: “আমরা চাবিটা হারিয়ে ফেলেছি।”

ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক পদক্ষেপের পর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানের দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর ‘এক্স’ (টুইটার) অ্যাকাউন্টগুলো বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। একের পর এক পোস্টে ট্রাম্পকে বিদ্রুপ করে তারা দ্রুতই ভাইরাল হয়ে উঠেছে।

এই অনলাইন প্রচারণায় বিশেষভাবে এগিয়ে রয়েছে আফ্রিকার দেশগুলোতে অবস্থিত ইরানি মিশনগুলো। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকাতে ইরানের দূতাবাসের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে।

গত বুধবার যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দিনই দক্ষিণ আফ্রিকায় ইরানি দূতাবাস তাদের ‘এক্স’ অ্যাকাউন্টে লিখেছিল—“বিশ্বের নতুন পরাশক্তিকে স্বাগত জানান।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে ওয়াশিংটনের প্রতি কটাক্ষ করা হয়। বার্তাটি ছিল—শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও আমেরিকা ইরান সরকারকে নত করতে পারেনি।

এর আগেও তারা ট্রাম্পের ‘শান্তিদূত’ ভাবমূর্তিকে ব্যঙ্গ করে একটি ছবি পোস্ট করে, যেখানে একটি পায়রার ছায়া যুদ্ধবিমানের আকার নিয়েছিল। যদিও অন্যান্য দেশেও ইরানের কূটনৈতিক মিশনগুলো ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যঙ্গ করেছে, দক্ষিণ আফ্রিকার দূতাবাসের সক্রিয়তা সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে।

জোহানেসবার্গভিত্তিক আফ্রো-মিডল ইস্ট সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাঈম জিনা বলেন, ইরান খুব কৌশলগতভাবে সামাজিক মাধ্যমে এই প্রচার চালাচ্ছে। তার মতে, ইরানি মিশনগুলো বিশেষ করে সেসব দেশে বেশি আক্রমণাত্মক অনলাইন ভূমিকা নিচ্ছে, যেখানে স্থানীয়ভাবে তেমন বিরূপ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা নেই—দক্ষিণ আফ্রিকা তার একটি বড় উদাহরণ।

ইরান ও দক্ষিণ আফ্রিকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন আগেও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার জানিয়েছে, তাদের অবস্থান ঐতিহাসিকভাবে নির্ধারিত এবং তারা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কোনো পক্ষের অনুসারী হতে চায় না।

এদিকে, ইরানের এই প্রচারণা শুধু বিদ্রুপেই সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণ আফ্রিকার দূতাবাস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে এমন কিছু ভিডিও তৈরি করেছে, যেখানে ইরানের মিনাব শহরে মার্কিন হামলায় নিহত শিশুদের ভার্চুয়ালভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে তাদের ভবিষ্যতের স্বপ্নের কথাও তুলে ধরা হয়।

তিউনিসিয়াসহ আফ্রিকার আরও কিছু দেশে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস একই ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছে। কখনও স্বাগতিক দেশের প্রশংসা, আবার কখনও আন্তর্জাতিক সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়ে তেহরান বোঝাতে চাইছে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে তারা একা নয়।