ঢাকা ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

হতদরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবার পাবেন ‘ফ্যামিলি কার্ড’, মাসে সর্বোচ্চ ২,৫০০ টাকা সহায়তা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:৩২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১১৪ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহারে যে নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা ছিল, তার প্রথমটি হল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা। প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থসেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা ছিল।

এদিকে বিএনপি সরকার গঠনের পরপরই দেশের আটটি বিভাগের আটটি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। এই কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। সেই লক্ষ্য পূরণে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে কমিটিকে।

কাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড?
ফ্যামিলি কার্ড কেবল একটি সহায়তা কর্মসূচি নয়; এটি একটি ‘সামাজিক চুক্তি’ হিসেবে দেখছে সরকার। সরকারের দিক থেকে এটি একটি রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থান। সরকার মনে করছে, এর ফলে নারী যে করুণার বস্তু নয়, উন্নয়নের অংশীদার—সেটি বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দারিদ্র্য দূর করা মানে যে দান নয়, মানুষের সক্ষমতায় বিনিয়োগ—সেটিও প্রমাণিত হবে।

নারীকেন্দ্রিক উদ্যোগ: এই কার্ড দেওয়া হবে পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক নারী সদস্যের নামে। সরকার মনে করে, নারীরাই পরিবারের ব্যয়ের সবচেয়ে দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপক।

সুবিধা: কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার মাসে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা সমমূল্যের খাদ্য সহায়তা (চাল, আটা, ডাল, তেল) অথবা নগদ অর্থ পাবে।

লক্ষ্য: পর্যায়ক্রমে দেশের সব পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় এনে একটি ‘সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা’ বলয় তৈরি করা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে মূল দায়িত্ব দিয়ে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজে সহায়তা করবে অর্থ, স্থানীয় সরকার এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আগামী সপ্তাহ থেকেই নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু প্রসঙ্গে আজ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি বিস্তারিত উল্লেখ আছে। এটি কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে আজ আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এটি একটি সর্বজনীন কর্মসূচি। ধাপে ধাপে হতদরিদ্র থেকে মধ্যবিত্ত—সবাইকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।

 

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

হতদরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবার পাবেন ‘ফ্যামিলি কার্ড’, মাসে সর্বোচ্চ ২,৫০০ টাকা সহায়তা

আপডেট সময় ০২:৩২:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ইশতেহারে যে নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করা ছিল, তার প্রথমটি হল ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা। প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থসেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা ছিল।

এদিকে বিএনপি সরকার গঠনের পরপরই দেশের আটটি বিভাগের আটটি উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে (পাইলটিং) ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে। এই কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীকে সভাপতি করে ১৫ সদস্যের একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। সেই লক্ষ্য পূরণে আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে কমিটিকে।

কাদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড?
ফ্যামিলি কার্ড কেবল একটি সহায়তা কর্মসূচি নয়; এটি একটি ‘সামাজিক চুক্তি’ হিসেবে দেখছে সরকার। সরকারের দিক থেকে এটি একটি রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থান। সরকার মনে করছে, এর ফলে নারী যে করুণার বস্তু নয়, উন্নয়নের অংশীদার—সেটি বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দারিদ্র্য দূর করা মানে যে দান নয়, মানুষের সক্ষমতায় বিনিয়োগ—সেটিও প্রমাণিত হবে।

নারীকেন্দ্রিক উদ্যোগ: এই কার্ড দেওয়া হবে পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক নারী সদস্যের নামে। সরকার মনে করে, নারীরাই পরিবারের ব্যয়ের সবচেয়ে দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপক।

সুবিধা: কার্ডধারী প্রতিটি পরিবার মাসে ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা সমমূল্যের খাদ্য সহায়তা (চাল, আটা, ডাল, তেল) অথবা নগদ অর্থ পাবে।

লক্ষ্য: পর্যায়ক্রমে দেশের সব পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় এনে একটি ‘সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা’ বলয় তৈরি করা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে মূল দায়িত্ব দিয়ে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এই কাজে সহায়তা করবে অর্থ, স্থানীয় সরকার এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। আগামী সপ্তাহ থেকেই নীতিমালা তৈরির কাজ শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু প্রসঙ্গে আজ পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি বিস্তারিত উল্লেখ আছে। এটি কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে আজ আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এটি একটি সর্বজনীন কর্মসূচি। ধাপে ধাপে হতদরিদ্র থেকে মধ্যবিত্ত—সবাইকে এই সুবিধার আওতায় আনা হবে।