ঢাকা ১১:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo ৬১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান যুদ্ধকে ‘ভুল’ মনে করেন: জরিপ Logo ঢাবিতে চা-শ্রমিকদের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরল নাটক ‘১৭০ টাকা’ Logo ইতালি ও স্পেন থেকে সেনা প্রত্যাহারের হুমকি ট্রাম্পের Logo মধ্যপ্রাচ্য থেকে চলে গেল যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ বিমানবাহী রণতরী Logo আমিও শ্রমিক পরিবার থেকে এসে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছি : হান্নান মাসউদ Logo অবিস্ফোরিত বোমা নিষ্ক্রিয়ের অভিযানে আইআরজিসির ১৪ সদস্য নিহত Logo ফের হামলা হলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোও তাদের ঘাঁটির মতো পুড়বে : আইআরজিসি Logo লাকসামে বাল্যবিবাহ বন্ধে ছুটে গেলেন এমপি নিজেই Logo অসুস্থ সারজিস আলমকে দেখতে গেলেন বিরোধীদলীয় নেতা Logo আগামী মে দিবসে ৯ লাখ শ্রমিক নিয়ে সমাবেশ করতে চান নজরুল ইসলাম খান

হঠাৎ সাজিদ ‘মা’ বলে ডাকার শব্দে পেছনে তাকান, কিন্তু তখন আর ছেলে পাশে নেই-গর্তের ভেতর থেকে তাকে ডাকছে

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:২৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে

রাজশাহীর তানোরে মায়ের সঙ্গে মাঠে গিয়ে একটি গভীর গর্তে পড়ে যায় দুই বছরের শিশু সাজিদ। পরিত্যক্ত নলকূপের জন্য গত বছর খোঁড়া প্রায় ৫০ ফুট গভীর সেই গর্তটি খেয়াল করতে পারেননি মা কিংবা শিশু—ফলে মুহূর্তেই তলিয়ে যায় সে। তারপর থেকেই পুরো এলাকায় শুধুই উৎকণ্ঠা। শুরুতে সাড়া পাওয়া গেলেও ক্রমেই সে সাড়া মিলিয়ে যেতে থাকে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু সাজিদ পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট গ্রামে রাকিবের ছেলে।

শিশুটির মা রুনা খাতুন জানান, বেলা একটার দিকে দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ির পাশের মাঠে যাচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ সাজিদ ‘মা’ বলে ডাকার শব্দে তিনি পেছনে তাকান, কিন্তু তখন আর ছেলে পাশে নেই—গর্তের ভেতর থেকে তাকে ডাকছে।

খড়ের নিচে লুকিয়ে থাকা গর্তটি বুঝতে না পেরে সেখানেই পা দিয়ে নিচে পড়ে যায় শিশু সাজিদ। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার ডাক ক্ষীণ হয়ে আসে এবং একসময় পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাজারো মানুষ ভিড় করে ঘটনাস্থলে। এতে উদ্ধার কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় বলে জানায় প্রশাসন।

সেখানে প্রস্তুত রাখা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স ও জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারে কাজ করছে; গর্তে আলো ও বাতাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, এক বছর আগে জমির মালিক কছির উদ্দিন সেচের জন্য সেমি ডিপ নলকূপ বসাতে গিয়ে এই গর্তটি খনন করেছিলেন। কিন্তু পানি না মেলায় কাজটি আর এগোয়নি— ফলস্বরূপ খোলা অবস্থাতেই রয়ে যায় বিপজ্জনক এ গর্তটি। আজ সেই অবহেলাই যেন প্রাণ সংকটে ফেলেছে দুই বছরের নিষ্পাপ সাজিদকে।

শিশুটির মা খড় তুলতে মাঠে গিয়েছিলেন। সেই সময় খেলতে থাকা সাজিদ হঠাৎ গর্তে পড়ে যায়। প্রথমে স্থানীয়রা প্রাণপণ চেষ্টা করেও তাকে তুলতে পারেননি। পরে খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসে।

তানোর, রাজশাহী সদর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩টি স্টেশনের ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। গর্তের ভেতরে পাইপ দিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে, যেন সাজিদ বেঁচে থাকার শক্তিটুকু ধরে রাখতে পারে। পাশেই স্কেভেটর দিয়ে খনন চলছে। রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত খোঁড়া হয়। মাটি সরানোর কাজে লাগানো হয়েছে দুটি ট্রাক্টর। খননকাজ শেষ হতে আরও কয়েক ঘণ্টা লাগতে পারে।

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক দিদারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, স্থানীয়দের প্রাথমিক উদ্ধার চেষ্টায় কিছু মাটি গর্তে পড়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে গেছে। ক্যামেরা নামিয়ে শিশুটির অবস্থার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। মানুষের ভিড় আর কোলাহলে শিশুটির সাড়া ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। শিশুটি জীবিত আছে নাকি মারা গেছে তা নিশ্চিত নয়। উদ্ধার কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

৬১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান যুদ্ধকে ‘ভুল’ মনে করেন: জরিপ

হঠাৎ সাজিদ ‘মা’ বলে ডাকার শব্দে পেছনে তাকান, কিন্তু তখন আর ছেলে পাশে নেই-গর্তের ভেতর থেকে তাকে ডাকছে

আপডেট সময় ০২:২৫:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজশাহীর তানোরে মায়ের সঙ্গে মাঠে গিয়ে একটি গভীর গর্তে পড়ে যায় দুই বছরের শিশু সাজিদ। পরিত্যক্ত নলকূপের জন্য গত বছর খোঁড়া প্রায় ৫০ ফুট গভীর সেই গর্তটি খেয়াল করতে পারেননি মা কিংবা শিশু—ফলে মুহূর্তেই তলিয়ে যায় সে। তারপর থেকেই পুরো এলাকায় শুধুই উৎকণ্ঠা। শুরুতে সাড়া পাওয়া গেলেও ক্রমেই সে সাড়া মিলিয়ে যেতে থাকে।

বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশু সাজিদ পাঁচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট গ্রামে রাকিবের ছেলে।

শিশুটির মা রুনা খাতুন জানান, বেলা একটার দিকে দুই সন্তানকে নিয়ে বাড়ির পাশের মাঠে যাচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ সাজিদ ‘মা’ বলে ডাকার শব্দে তিনি পেছনে তাকান, কিন্তু তখন আর ছেলে পাশে নেই—গর্তের ভেতর থেকে তাকে ডাকছে।

খড়ের নিচে লুকিয়ে থাকা গর্তটি বুঝতে না পেরে সেখানেই পা দিয়ে নিচে পড়ে যায় শিশু সাজিদ। কিছুক্ষণের মধ্যেই তার ডাক ক্ষীণ হয়ে আসে এবং একসময় পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায়। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাজারো মানুষ ভিড় করে ঘটনাস্থলে। এতে উদ্ধার কাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় বলে জানায় প্রশাসন।

সেখানে প্রস্তুত রাখা হয়েছে অ্যাম্বুলেন্স ও জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম। ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারে কাজ করছে; গর্তে আলো ও বাতাস সরবরাহ করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, এক বছর আগে জমির মালিক কছির উদ্দিন সেচের জন্য সেমি ডিপ নলকূপ বসাতে গিয়ে এই গর্তটি খনন করেছিলেন। কিন্তু পানি না মেলায় কাজটি আর এগোয়নি— ফলস্বরূপ খোলা অবস্থাতেই রয়ে যায় বিপজ্জনক এ গর্তটি। আজ সেই অবহেলাই যেন প্রাণ সংকটে ফেলেছে দুই বছরের নিষ্পাপ সাজিদকে।

শিশুটির মা খড় তুলতে মাঠে গিয়েছিলেন। সেই সময় খেলতে থাকা সাজিদ হঠাৎ গর্তে পড়ে যায়। প্রথমে স্থানীয়রা প্রাণপণ চেষ্টা করেও তাকে তুলতে পারেননি। পরে খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসে।

তানোর, রাজশাহী সদর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৩টি স্টেশনের ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। গর্তের ভেতরে পাইপ দিয়ে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে, যেন সাজিদ বেঁচে থাকার শক্তিটুকু ধরে রাখতে পারে। পাশেই স্কেভেটর দিয়ে খনন চলছে। রাত পৌনে আটটা পর্যন্ত ১০ থেকে ১২ ফুট পর্যন্ত খোঁড়া হয়। মাটি সরানোর কাজে লাগানো হয়েছে দুটি ট্রাক্টর। খননকাজ শেষ হতে আরও কয়েক ঘণ্টা লাগতে পারে।

রাজশাহী ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক দিদারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, স্থানীয়দের প্রাথমিক উদ্ধার চেষ্টায় কিছু মাটি গর্তে পড়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে গেছে। ক্যামেরা নামিয়ে শিশুটির অবস্থার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা চলছে। মানুষের ভিড় আর কোলাহলে শিশুটির সাড়া ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। শিশুটি জীবিত আছে নাকি মারা গেছে তা নিশ্চিত নয়। উদ্ধার কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাচ্ছে না।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/somokontho/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481