ঢাকা ১২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

সেন্টমার্টিনগামী জাহাজগুলোতে একাধিক ত্রুটি

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৩৮:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১২৬ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে রয়েছে একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটি। এসব ত্রুটির মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণ করছেন পর্যটকরা। মঙ্গলবার যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের যৌথ অভিযানে জাহাজগুলোতে নানান ত্রুটি শনাক্ত করা হয়।

কক্সবাজারে বিআইডব্লিউটিএ নদী বন্দর কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াকিল বলেন, পরিদর্শনকালে আমরা প্রায় সব জাহাজেই একটি সাধারণ ও গুরুতর ত্রুটি লক্ষ্য করেছি। জাহাজের সনদপত্র অনুযায়ী যে যোগ্য প্রথম শ্রেণীর মাস্টার থাকার কথা, অনেক জাহাজেই তাকে পাওয়া যায়নি। বরং দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দ্বিতীয় শ্রেণীর মাস্টার বা সহকারী মাস্টার দিয়েই জাহাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ১ ডিসেম্বর থেকে এ পরিস্থিতি চলমান।

তিনি আরও বলেন, জাহাজ মালিক পক্ষ আমাদের আশ্বস্ত করেছিল, দ্রুতই যোগ্য মূল মাস্টার সরবরাহ করা হবে। তবে বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়নি। পরিদর্শনে ইঞ্জিন রুম সংক্রান্ত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি ধরা পড়ে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন ইঞ্জিনের প্রেসার ও কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করে মেইনটেনেন্স লগবুক সংরক্ষণ করার কথা থাকলেও অধিকাংশ জাহাজেই এই লগবুক সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি।

আব্দুল ওয়াকিল জানান, বে ক্রুজ ইন্টারন্যাশনাল ওয়ান নামের জাহাজটিতে বেশ কিছু গুরুতর ত্রুটি পাওয়া গেছে। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত মাস্টার ছিলেন একজন সহকারী মাস্টার। তিনি জাহাজের ফায়ার এক্সটিংগুইশারসহ জরুরি সরঞ্জামের অবস্থান সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেননি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কোস্টগার্ড কর্মকর্তা লে. কমান্ডার সালাহউদ্দিন রশিদ তানভীর বলেন, মঙ্গলবার ভোররাত সাড়ে ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত কোস্টগার্ড, জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএর সমন্বয়ে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে পর্যটকবাহী জাহাজসমূহে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জাহাজের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, রুট পারমিট, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ক্রুদের দক্ষতা সনদ যাচাই করা হয়।

অভিযানে যাত্রী তালিকা, নির্ধারিত ধারণক্ষমতা অনুসরণ, পর্যাপ্ত লাইফ সেভিং ইকুইপমেন্ট ও ক্রুদের দায়িত্বশীলতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পরিদর্শনে পাওয়া ত্রুটিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন আকারে পাঠানো হবে এবং এর ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

সেন্টমার্টিনগামী জাহাজগুলোতে একাধিক ত্রুটি

আপডেট সময় ১২:৩৮:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোতে রয়েছে একাধিক নিরাপত্তা ত্রুটি। এসব ত্রুটির মধ্যেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণ করছেন পর্যটকরা। মঙ্গলবার যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিতে কোস্টগার্ড, বিআইডব্লিউটিএ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের যৌথ অভিযানে জাহাজগুলোতে নানান ত্রুটি শনাক্ত করা হয়।

কক্সবাজারে বিআইডব্লিউটিএ নদী বন্দর কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াকিল বলেন, পরিদর্শনকালে আমরা প্রায় সব জাহাজেই একটি সাধারণ ও গুরুতর ত্রুটি লক্ষ্য করেছি। জাহাজের সনদপত্র অনুযায়ী যে যোগ্য প্রথম শ্রেণীর মাস্টার থাকার কথা, অনেক জাহাজেই তাকে পাওয়া যায়নি। বরং দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দ্বিতীয় শ্রেণীর মাস্টার বা সহকারী মাস্টার দিয়েই জাহাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ১ ডিসেম্বর থেকে এ পরিস্থিতি চলমান।

তিনি আরও বলেন, জাহাজ মালিক পক্ষ আমাদের আশ্বস্ত করেছিল, দ্রুতই যোগ্য মূল মাস্টার সরবরাহ করা হবে। তবে বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়নি। পরিদর্শনে ইঞ্জিন রুম সংক্রান্ত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রুটি ধরা পড়ে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন ইঞ্জিনের প্রেসার ও কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করে মেইনটেনেন্স লগবুক সংরক্ষণ করার কথা থাকলেও অধিকাংশ জাহাজেই এই লগবুক সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি।

আব্দুল ওয়াকিল জানান, বে ক্রুজ ইন্টারন্যাশনাল ওয়ান নামের জাহাজটিতে বেশ কিছু গুরুতর ত্রুটি পাওয়া গেছে। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত মাস্টার ছিলেন একজন সহকারী মাস্টার। তিনি জাহাজের ফায়ার এক্সটিংগুইশারসহ জরুরি সরঞ্জামের অবস্থান সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা দিতে পারেননি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

অভিযানে নেতৃত্বদানকারী কোস্টগার্ড কর্মকর্তা লে. কমান্ডার সালাহউদ্দিন রশিদ তানভীর বলেন, মঙ্গলবার ভোররাত সাড়ে ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত কোস্টগার্ড, জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএর সমন্বয়ে কক্সবাজারের নুনিয়ারছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাটে পর্যটকবাহী জাহাজসমূহে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে জাহাজের রেজিস্ট্রেশন, ফিটনেস, রুট পারমিট, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং ক্রুদের দক্ষতা সনদ যাচাই করা হয়।

অভিযানে যাত্রী তালিকা, নির্ধারিত ধারণক্ষমতা অনুসরণ, পর্যাপ্ত লাইফ সেভিং ইকুইপমেন্ট ও ক্রুদের দায়িত্বশীলতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। পরিদর্শনে পাওয়া ত্রুটিগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তদন্ত প্রতিবেদন আকারে পাঠানো হবে এবং এর ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।