ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল কোনো ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ চাইছে না এবং যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করবে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) জেরুজালেমে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। তবে যুদ্ধ ঠিক কবে নাগাদ শেষ হতে পারে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
গত ১১ দিন ধরে চলা এই যুদ্ধে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। সংঘাত এখন লেবাননেও বিস্তৃত হয়েছে, যেখানে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করছে ইসরায়েল।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক এবং ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি দুর্বল করে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েল বড় ধরনের সাফল্য অর্জন করেছে। সঠিক সময়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরামর্শ করেই যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সার বলেন, ‘ইসরায়েল এবং আমাদের অংশীদাররা যতক্ষণ উপযুক্ত মনে করবে, ততক্ষণ এই অভিযান চলবে। আমাদের লক্ষ্য হলো ইরানের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের অস্তিত্বের ওপর দীর্ঘমেয়াদি যে হুমকি রয়েছে, তা চিরতরে নির্মূল করা।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ইরানি জনগণের জন্য তাদের ‘স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের’ একটি সুযোগ তৈরি করেছে। এ সময় তিনি ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে একজন ‘চরমপন্থী’ হিসেবে অভিহিত করেন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসন যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে মিশ্র বার্তা দিচ্ছে। গত সোমবার ট্রাম্প বলেছিলেন, যুদ্ধ এই সপ্তাহে শেষ না হলেও খুব দ্রুত শেষ হতে পারে। অন্যদিকে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ বার্লিনে এক বক্তব্যে জানান, এই যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তির কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা আপাতত দেখা যাচ্ছে না। তবে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাদেফুল আশা প্রকাশ করেছেন যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র একটি কূটনৈতিক সমাধানের পথে হাঁটবে। যদিও তিনি সতর্ক করেছেন যে, ইরান বর্তমানে তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত নয়।
ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি ইরানের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে দেশটিকে একঘরে করার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, মঙ্গলবারও তেহরানে নতুন দফায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। বিপরীতে ইরানও ইসরায়েল অভিমুখে মিসাইল ছুড়েছে, যা থেকে প্রমাণিত হয় যে তেহরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা এখনও রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদ : 























