ঢাকা ০৯:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য নয়াদিল্লি ও ঢাকা কাজ করছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৫৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫০ বার পড়া হয়েছে

নিউজ ডেস্ক:
নয়াদিল্লি ও ঢাকা শূন্য থেকে শুরু করছে না; বরং এমন এক সম্পর্কের স্মৃতি থেকে এগোচ্ছে, যা গড়ে উঠেছে অভিন্ন নদী, অভিন্ন সীমান্ত এবং সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে। এসব ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক কূটনীতিও অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় মনে হয়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রথম সাক্ষাৎকারে এনডিটিভিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দেখছেন ‘ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবে’ এই ধারণার আলোকে।

এর একটি প্রতিফলন দেখা যায় ২৬ মার্চ দিল্লিতে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস উদযাপনে। সেখানে দুই দেশের জাতীয় সংগীত সরাসরি পরিবেশন করা হয়—যা দুই দেশের শক্তিশালী সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে উঠে আসে।

খলিলুর রহমানের ভাষায়, এটি ছিল একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। তিনি বলেন, নয়াদিল্লির পরিবেশে তিনি এক ধরনের ‘সম্মিলন’ লক্ষ্য করেছেন। সেখানে দুই দেশই ‘আলোচনা, সম্পৃক্ততা ও উদ্যোগ নিতে আগ্রহী।

তিনি জানান, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য দুই পক্ষই কাজ করছে। তবে এখন তাড়াহুড়া না করে ধীরে ধীরে আস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় ভারত ও বাংলাদেশ কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে- এটি হবে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশই জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলের চাপ অনুভব করছে। খলিলুর রহমান বলেন, সংকটের সময় ঢাকা যখন অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তখন ভারত দ্রুত সাড়া দেয়।

তিনি বলেন, আমাদের একটি পাইপলাইন আছে এবং ভারত বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করছে।

সম্প্রতি তিনি দিল্লি সফর করেন এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে মরিশাসে একটি আলাদা অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার সময় এনডিটিভিকে এই সাক্ষাৎকার দেন।

খলিলুর রহমান জানান, মরিশাসে যাওয়ার আগে তিনি ভারতের কাছে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ করেন। কিছু লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নয়াদিল্লি জানিয়েছে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর সরবরাহ বাড়ানো হবে।

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি চুক্তি এ বছর পুনরায় আলোচনার জন্য নির্ধারিত। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ন্যায্য ও জলবায়ু সহনশীল পানি বণ্টন ব্যবস্থা একটি ‘সভ্যতাগত বন্ধন’।

তিনি বলেন, পানি সীমিত। গঙ্গা মানেই জীবন। সীমান্তের দুই পাশেই জীবিকা নির্ভর করে অভিন্ন নদীগুলোর পানিপ্রবাহের ওপর।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নয়াদিল্লিতে তিনি যে ‘আগ্রহ ও সদিচ্ছা’ দেখেছেন, তা একটি শক্তিশালী কাঠামোতে রূপ নেবে।

তিনি আরও বলেন, যৌথ সম্পদের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন আগামী অন্তত তিন দশকের জন্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি হতে পারে।

খলিলুর রহমান বলেন, মানুষ তো মানুষই-ভারত হোক বা বাংলাদেশ। আমরা একই ধরনের জলবায়ু সংকটের মুখোমুখি। তিনি মানুষে-মানুষে যোগাযোগ এবং সহজ ভিসা ব্যবস্থার গুরুত্বও তুলে ধরেন।

সম্প্রতি কিছু চ্যালেঞ্জের পর সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়ে চীন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতিকে জিরো-সাম গেম হিসেবে দেখে না এবং অন্যদের কাছ থেকেও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশা করে। তিনি বলেন, অন্য দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কোনো সমস্যা নয়। বাণিজ্য ঘাটতি বাজারের প্রভাবেই তৈরি হয়, কৌশলগত অবস্থানের কারণে নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সবশেষে খলিলুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক পরিপূরকতা, সীমান্ত পারাপার সংযোগ এবং যৌথ অবকাঠামো-এসবের সুফল দুই দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। তার মতে, ভারত কোনো বাহ্যিক অংশীদার নয়, বরং একটি ‘কাঠামোগত উপস্থিতি’-যা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য নয়াদিল্লি ও ঢাকা কাজ করছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৬:৫৪:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

নিউজ ডেস্ক:
নয়াদিল্লি ও ঢাকা শূন্য থেকে শুরু করছে না; বরং এমন এক সম্পর্কের স্মৃতি থেকে এগোচ্ছে, যা গড়ে উঠেছে অভিন্ন নদী, অভিন্ন সীমান্ত এবং সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে। এসব ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক কূটনীতিও অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় মনে হয়।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রথম সাক্ষাৎকারে এনডিটিভিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ দেখছেন ‘ধীরে কিন্তু নিশ্চিতভাবে’ এই ধারণার আলোকে।

এর একটি প্রতিফলন দেখা যায় ২৬ মার্চ দিল্লিতে বাংলাদেশের জাতীয় দিবস উদযাপনে। সেখানে দুই দেশের জাতীয় সংগীত সরাসরি পরিবেশন করা হয়—যা দুই দেশের শক্তিশালী সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে উঠে আসে।

খলিলুর রহমানের ভাষায়, এটি ছিল একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। তিনি বলেন, নয়াদিল্লির পরিবেশে তিনি এক ধরনের ‘সম্মিলন’ লক্ষ্য করেছেন। সেখানে দুই দেশই ‘আলোচনা, সম্পৃক্ততা ও উদ্যোগ নিতে আগ্রহী।

তিনি জানান, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য দুই পক্ষই কাজ করছে। তবে এখন তাড়াহুড়া না করে ধীরে ধীরে আস্থা গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য।

মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় ভারত ও বাংলাদেশ কীভাবে একসঙ্গে কাজ করে- এটি হবে সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশই জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলের চাপ অনুভব করছে। খলিলুর রহমান বলেন, সংকটের সময় ঢাকা যখন অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে, তখন ভারত দ্রুত সাড়া দেয়।

তিনি বলেন, আমাদের একটি পাইপলাইন আছে এবং ভারত বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহ করছে।

সম্প্রতি তিনি দিল্লি সফর করেন এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে মরিশাসে একটি আলাদা অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার সময় এনডিটিভিকে এই সাক্ষাৎকার দেন।

খলিলুর রহমান জানান, মরিশাসে যাওয়ার আগে তিনি ভারতের কাছে ডিজেল সরবরাহ বাড়ানোর অনুরোধ করেন। কিছু লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও নয়াদিল্লি জানিয়েছে, নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর সরবরাহ বাড়ানো হবে।

১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা পানি চুক্তি এ বছর পুনরায় আলোচনার জন্য নির্ধারিত। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ন্যায্য ও জলবায়ু সহনশীল পানি বণ্টন ব্যবস্থা একটি ‘সভ্যতাগত বন্ধন’।

তিনি বলেন, পানি সীমিত। গঙ্গা মানেই জীবন। সীমান্তের দুই পাশেই জীবিকা নির্ভর করে অভিন্ন নদীগুলোর পানিপ্রবাহের ওপর।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নয়াদিল্লিতে তিনি যে ‘আগ্রহ ও সদিচ্ছা’ দেখেছেন, তা একটি শক্তিশালী কাঠামোতে রূপ নেবে।

তিনি আরও বলেন, যৌথ সম্পদের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীলতা অর্জন আগামী অন্তত তিন দশকের জন্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভিত্তি হতে পারে।

খলিলুর রহমান বলেন, মানুষ তো মানুষই-ভারত হোক বা বাংলাদেশ। আমরা একই ধরনের জলবায়ু সংকটের মুখোমুখি। তিনি মানুষে-মানুষে যোগাযোগ এবং সহজ ভিসা ব্যবস্থার গুরুত্বও তুলে ধরেন।

সম্প্রতি কিছু চ্যালেঞ্জের পর সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে তোলার ইঙ্গিত দিয়ে চীন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতিকে জিরো-সাম গেম হিসেবে দেখে না এবং অন্যদের কাছ থেকেও একই দৃষ্টিভঙ্গি প্রত্যাশা করে। তিনি বলেন, অন্য দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কোনো সমস্যা নয়। বাণিজ্য ঘাটতি বাজারের প্রভাবেই তৈরি হয়, কৌশলগত অবস্থানের কারণে নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সবশেষে খলিলুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক পরিপূরকতা, সীমান্ত পারাপার সংযোগ এবং যৌথ অবকাঠামো-এসবের সুফল দুই দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। তার মতে, ভারত কোনো বাহ্যিক অংশীদার নয়, বরং একটি ‘কাঠামোগত উপস্থিতি’-যা বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য।