ঢাকা ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

সংকীর্ণ বাঙালি জাতীয়তাবাদ বাংলা ভাষার সম্ভাবনাকে দীর্ঘদিন সীমিত করেছে: নাহিদ ইসলাম

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:১৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৯৩ বার পড়া হয়েছে

এককেন্দ্রিক ও সংকীর্ণ বাঙালি জাতীয়তাবাদ বাংলা ভাষার সম্ভাবনাকে দীর্ঘদিন সীমিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাংলা ভাষা আমাদের আত্মপরিচয় এবং জাতীয় সংগ্রামের প্রতীক। তবে এককেন্দ্রিক, সংকীর্ণ বাঙালি জাতীয়তাবাদ বাংলার সম্ভাবনাকে দীর্ঘদিন ধরে সীমিত করেছে।’

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। এনসিপির আহ্বায়ক আরও লিখেছেন, বাংলা কখনো একরৈখিক ভাষা ছিল না; বরং এটি সব সময় সমন্বয়, সংলাপ এবং সভ্যতা নির্মাণের ভাষা। বাংলার প্রকৃত ঐতিহ্য হলো বৈচিত্র্যকে ধারণ করা এবং বহুত্বকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলা তখনই প্রকৃত অর্থে বিকশিত হবে, যখন দেশে বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে উঠবে।

এনসিপির আহ্বায়ক লিখেছেন, যে ভাষা নিজেকে সীমাবদ্ধ করে, অন্য ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে কোনো সংযোগ রাখে না, সেই ভাষা শক্তি হারায় এবং সময়ের সঙ্গে দুর্বল হয়ে যায়। কিন্তু যে ভাষা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অন্য ভাষার সঙ্গে সংলাপে আসে, অন্য সংস্কৃতির সঙ্গে মিলিত হয়, সেই ভাষাই সব সময় শক্তিশালী, সমৃদ্ধ এবং জীবন্ত থাকে।

পোস্টে নাহিদ উল্লেখ করেন, আরবি, ফারসি, উর্দু, সংস্কৃত, পালি ও ইংরেজির পাশাপাশি চাকমা, মারমাসহ বিভিন্ন জনজাতির ভাষাও বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ। চর্যাপদের পালি-বৌদ্ধ ঐতিহ্য, বৈষ্ণব পদাবলি সংস্কৃতির গভীর রস, আরবি-ফারসি শব্দভান্ডার, সুফি সাহিত্য এবং উপনিবেশ-পরবর্তী ইংরেজি জ্ঞানতন্ত্র মিলিয়েই বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। সিলেটী ও চাঁটগাইয়ার মতো আঞ্চলিক ভাষার রূপগুলোকেও তিনি সম্ভাবনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

নাহিদ ইসলাম চারটি করণীয় তুলে ধরেন—রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করা, প্রতিটি জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষার মর্যাদা সংরক্ষণ, আন্তর্জাতিক জ্ঞান অর্জনের জন্য বিদেশি ভাষায় দক্ষতা তৈরি এবং ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও আঞ্চলিক ভাষা-সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখা।

শেষে নাহিদ লিখেছেন, বাংলাদেশ হবে এমন এক বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক দেশ, যেখানে বৈচিত্র্য, সংলাপ এবং ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিলনই জাতির মূল শক্তি হয়ে উঠবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

সংকীর্ণ বাঙালি জাতীয়তাবাদ বাংলা ভাষার সম্ভাবনাকে দীর্ঘদিন সীমিত করেছে: নাহিদ ইসলাম

আপডেট সময় ০১:১৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এককেন্দ্রিক ও সংকীর্ণ বাঙালি জাতীয়তাবাদ বাংলা ভাষার সম্ভাবনাকে দীর্ঘদিন সীমিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাংলা ভাষা আমাদের আত্মপরিচয় এবং জাতীয় সংগ্রামের প্রতীক। তবে এককেন্দ্রিক, সংকীর্ণ বাঙালি জাতীয়তাবাদ বাংলার সম্ভাবনাকে দীর্ঘদিন ধরে সীমিত করেছে।’

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। এনসিপির আহ্বায়ক আরও লিখেছেন, বাংলা কখনো একরৈখিক ভাষা ছিল না; বরং এটি সব সময় সমন্বয়, সংলাপ এবং সভ্যতা নির্মাণের ভাষা। বাংলার প্রকৃত ঐতিহ্য হলো বৈচিত্র্যকে ধারণ করা এবং বহুত্বকে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলা তখনই প্রকৃত অর্থে বিকশিত হবে, যখন দেশে বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে উঠবে।

এনসিপির আহ্বায়ক লিখেছেন, যে ভাষা নিজেকে সীমাবদ্ধ করে, অন্য ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে কোনো সংযোগ রাখে না, সেই ভাষা শক্তি হারায় এবং সময়ের সঙ্গে দুর্বল হয়ে যায়। কিন্তু যে ভাষা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অন্য ভাষার সঙ্গে সংলাপে আসে, অন্য সংস্কৃতির সঙ্গে মিলিত হয়, সেই ভাষাই সব সময় শক্তিশালী, সমৃদ্ধ এবং জীবন্ত থাকে।

পোস্টে নাহিদ উল্লেখ করেন, আরবি, ফারসি, উর্দু, সংস্কৃত, পালি ও ইংরেজির পাশাপাশি চাকমা, মারমাসহ বিভিন্ন জনজাতির ভাষাও বাংলার ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ। চর্যাপদের পালি-বৌদ্ধ ঐতিহ্য, বৈষ্ণব পদাবলি সংস্কৃতির গভীর রস, আরবি-ফারসি শব্দভান্ডার, সুফি সাহিত্য এবং উপনিবেশ-পরবর্তী ইংরেজি জ্ঞানতন্ত্র মিলিয়েই বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে। সিলেটী ও চাঁটগাইয়ার মতো আঞ্চলিক ভাষার রূপগুলোকেও তিনি সম্ভাবনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

নাহিদ ইসলাম চারটি করণীয় তুলে ধরেন—রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলার পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করা, প্রতিটি জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষার মর্যাদা সংরক্ষণ, আন্তর্জাতিক জ্ঞান অর্জনের জন্য বিদেশি ভাষায় দক্ষতা তৈরি এবং ঐতিহাসিক, ধর্মীয় ও আঞ্চলিক ভাষা-সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখা।

শেষে নাহিদ লিখেছেন, বাংলাদেশ হবে এমন এক বহুভাষিক ও বহুসাংস্কৃতিক দেশ, যেখানে বৈচিত্র্য, সংলাপ এবং ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিলনই জাতির মূল শক্তি হয়ে উঠবে।