ঢাকা ০৮:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

যুদ্ধ বন্ধ করতে ইরানকেই এগিয়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে রাজি করাতে হবে: ট্রাম্প

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১০:৫৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • ৫৫ বার পড়া হয়েছে

ইরান যুদ্ধ থামানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও কঠোর করে তুলে ধরেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে এখন ইরানকেই এগিয়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে রাজি করাতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, এই যুদ্ধ ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি হবে কি না তা অনিশ্চিত এবং যুদ্ধ থামাতে হলে ইরানকেই যুক্তরাষ্ট্রকে রাজি করাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তিনি বলেন, ‘তারা চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারব কি না, বা আমরা তা করতে চাই কি না— আমি জানি না।’

মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতেই ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু খবরের সমালোচনা করেন, যেখানে বলা হয়েছিল তিনি কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আলোচনায় ফেরার চেষ্টা করছে ইরানই। তিনি বলেন, ‘তাদের এখন চুক্তি করার সুযোগ আছে, কিন্তু সেটা তাদের ওপর নির্ভর করছে। দেখা যাক, আমরা সঠিক চুক্তি করতে পারি কি না।’

ট্রাম্প একদিকে ইরানের নেতাদের ‘দক্ষ আলোচক’ বলে উল্লেখ করেন, আবার একই সঙ্গে তাদের ‘দুর্বল যোদ্ধা’ বলেও কটাক্ষ করেন। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে আলোচনার টেবিলে আসার দায়িত্ব ইরানেরই। তার ভাষায়, ‘দেখা যাক তারা এটা করতে চায় কি না। এর মধ্যে আমরা বাধাহীনভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে যাব।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরান যুদ্ধ ইতোমধ্যেই বড় সাফল্য এনে দিয়েছে এবং এর ফলে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ আগের মতো এখন তারা আমাদের ওপর হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে না। এর ফলে আমাদের সামনে নতুন বিকল্প তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, এসব বিকল্পের মধ্যে রয়েছে আরও সামরিক পদক্ষেপ এবং কূটনৈতিক পথে যুদ্ধ শেষ করার সুযোগও রয়েছে।

সিএনএন বলছে, হোয়াইট হাউসে যুদ্ধ পরিচালনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার প্রেক্ষাপটে ভ্যান্সের এই মন্তব্য সামনে আসলো। অতীতে তিনি বিদেশে কোনও যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়ানোর বিরোধিতা করেছিলেন।

এছাড়া এই সংঘাত নিয়ে ভ্যান্স তুলনামূলক কম কথা বলেছেন। বরং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ যুদ্ধের পক্ষে বেশি সক্রিয়ভাবে অবস্থান তুলে ধরেছেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকেও তারা যুদ্ধের পক্ষে বক্তব্য দেন।

ভ্যান্স বৈঠকে ব্যাখ্যা করেন, কেন এই সময়ে ইরানে হামলা চালানো প্রয়োজন ছিল। তার মতে, ইরান যাতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের জন্য পারমাণবিক হুমকি হয়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই ছিল প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘এটি যেকোনও সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা লক্ষ্য। এ কারণেই প্রেসিডেন্ট এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন এবং বিষয়টি নিয়ে এতো গুরুত্ব দিচ্ছেন।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

যুদ্ধ বন্ধ করতে ইরানকেই এগিয়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে রাজি করাতে হবে: ট্রাম্প

আপডেট সময় ১০:৫৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধ থামানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও কঠোর করে তুলে ধরেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে এখন ইরানকেই এগিয়ে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে রাজি করাতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, এই যুদ্ধ ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যম সিএনএন বলছে, ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি হবে কি না তা অনিশ্চিত এবং যুদ্ধ থামাতে হলে ইরানকেই যুক্তরাষ্ট্রকে রাজি করাতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) তিনি বলেন, ‘তারা চুক্তি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারব কি না, বা আমরা তা করতে চাই কি না— আমি জানি না।’

মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতেই ট্রাম্প সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু খবরের সমালোচনা করেন, যেখানে বলা হয়েছিল তিনি কূটনৈতিক সমাধানে আগ্রহী। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আলোচনায় ফেরার চেষ্টা করছে ইরানই। তিনি বলেন, ‘তাদের এখন চুক্তি করার সুযোগ আছে, কিন্তু সেটা তাদের ওপর নির্ভর করছে। দেখা যাক, আমরা সঠিক চুক্তি করতে পারি কি না।’

ট্রাম্প একদিকে ইরানের নেতাদের ‘দক্ষ আলোচক’ বলে উল্লেখ করেন, আবার একই সঙ্গে তাদের ‘দুর্বল যোদ্ধা’ বলেও কটাক্ষ করেন। তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে আলোচনার টেবিলে আসার দায়িত্ব ইরানেরই। তার ভাষায়, ‘দেখা যাক তারা এটা করতে চায় কি না। এর মধ্যে আমরা বাধাহীনভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে যাব।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইরান যুদ্ধ ইতোমধ্যেই বড় সাফল্য এনে দিয়েছে এবং এর ফলে ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। মন্ত্রিসভার বৈঠকে তিনি বলেন, ‘কয়েক সপ্তাহ আগের মতো এখন তারা আমাদের ওপর হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে না। এর ফলে আমাদের সামনে নতুন বিকল্প তৈরি হয়েছে।’

তিনি বলেন, এসব বিকল্পের মধ্যে রয়েছে আরও সামরিক পদক্ষেপ এবং কূটনৈতিক পথে যুদ্ধ শেষ করার সুযোগও রয়েছে।

সিএনএন বলছে, হোয়াইট হাউসে যুদ্ধ পরিচালনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার প্রেক্ষাপটে ভ্যান্সের এই মন্তব্য সামনে আসলো। অতীতে তিনি বিদেশে কোনও যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের জড়ানোর বিরোধিতা করেছিলেন।

এছাড়া এই সংঘাত নিয়ে ভ্যান্স তুলনামূলক কম কথা বলেছেন। বরং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ যুদ্ধের পক্ষে বেশি সক্রিয়ভাবে অবস্থান তুলে ধরেছেন। মন্ত্রিসভার বৈঠকেও তারা যুদ্ধের পক্ষে বক্তব্য দেন।

ভ্যান্স বৈঠকে ব্যাখ্যা করেন, কেন এই সময়ে ইরানে হামলা চালানো প্রয়োজন ছিল। তার মতে, ইরান যাতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের জন্য পারমাণবিক হুমকি হয়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই ছিল প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, ‘এটি যেকোনও সময়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নিরাপত্তা লক্ষ্য। এ কারণেই প্রেসিডেন্ট এই পদক্ষেপ নিচ্ছেন এবং বিষয়টি নিয়ে এতো গুরুত্ব দিচ্ছেন।’