ঢাকা ০২:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

যুদ্ধের কারণে ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাজ্যের ওষুধের মজুত

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৭:০০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬
  • ৪৪ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাজ্যে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ব্যথানাশক ও ক্যানসারের ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধের সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে ওষুধের দাম বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ ছাড়া এই সংঘাতের কারণে তেল, গ্যাস, সার ও হিলিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাব স্বাস্থ্য খাতেও পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক রেটিং এজেন্সি মুডিসের সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড উইকস ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। ভারতকে বিশ্বের ফার্মেসি বলা হয়। সেখানে প্রচুর জেনেরিক ওষুধ ও এপিআই উৎপাদন হয়। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেখান থেকে ওষুধ পাওয়াও কঠিন হয়ে উঠছে।’

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দুবাই, দোহা ও আবুধাবির বিমানবন্দর আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় ওষুধ পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। অনেক কোম্পানিকে বিকল্প পথে পাঠাতে হচ্ছে, কেউ কেউ সমুদ্রপথে পরিবহন শুরু করেছে, ফলে সময় বেশি লাগছে। হরমুজ প্রণালির বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমুদ্রপথেও চাপ বেড়েছে, যা অধিকাংশ ওষুধ পরিবহনের প্রধান মাধ্যম।

মেডিসিনস ইউকের প্রধান নির্বাহী মার্ক স্যামুয়েলস বলেন, ‘এখনো সংকট তৈরি হয়নি, তবে পরিস্থিতি গুরুতর।’ তিনি জানান, সাধারণত সরবরাহকারীরা ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মজুত রাখেন। সংঘাত দীর্ঘ হলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় যেমন প্যারাসিটামলসহ বিভিন্ন ব্যথানাশকের সংকট দেখা দিয়েছিল, তেমন পরিস্থিতি আবারও তৈরি হতে পারে। যুক্তরাজ্যে প্রায় অর্ধেক ওষুধ দেশেই উৎপাদিত হয়, আর এক-তৃতীয়াংশ আসে ভারত থেকে এবং বাকিটা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বে ব্যবহৃত জেনেরিক ওষুধের প্রায় ৬০ শতাংশই ভারত উৎপাদন করে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের কারণে আকাশপথে পণ্য পরিবহন খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। স্যামুয়েলস বলেন, ‘এনএইচএসে ব্যবহৃত প্রতি পাঁচটির একটি ওষুধ আকাশপথে আসে। বাড়তি খরচ এখনো প্রস্তুতকারকেরা বহন করছে, তবে এতে কিছু ওষুধ সরবরাহে লাভের পরিমাণ কমে যেতে পারে। যদিও হাসপাতালের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে, তবে জিপি সেবা ও ফার্মেসিতে সরবরাহ করা ওষুধের ক্ষেত্রে দাম বাড়ানো হতে পারে।’

এন্টওয়ার্প ম্যানেজমেন্ট স্কুলের অধ্যাপক ওয়াউটার ডিউলফ বলেন, ‘বর্তমানে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি খারাপ হলে এক অঙ্কের হারে দাম বাড়তে পারে। সবকিছু নির্ভর করছে যুদ্ধ কত দিন স্থায়ী হয় তার ওপর।’

ফার্মা সরবরাহ বিশেষজ্ঞ ও ফার্মা-এরোর মহাসচিব ফ্র্যাঙ্ক ভ্যান গেলডার বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বিঘ্নের কারণে ওষুধ খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৭০০ ফ্লাইট এ অঞ্চলে চলাচল করত, যা এখন কমে গেছে। চলতি মাসের শুরুতেই আকাশপথে কার্গো পরিবহন ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।’

সাধারণত দ্রুত সরবরাহের জন্য ক্যানসার চিকিৎসা, সংক্রামক রোগের ওষুধ, সেল ও জিন থেরাপি এবং শীতল সংরক্ষণ প্রয়োজন এমন জীববৈজ্ঞানিক ওষুধ আকাশপথে পরিবহন করতে হয়। সমুদ্রপথে পরিবহন বিকল্প হলেও উত্তমাশা অন্তরীপ বা কেপ অব গুড হোপ বন্দর ঘুরে যেতে ১৪ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। এতে জ্বালানি খরচ প্রায় ১০ লাখ ডলার বেশি।

এ ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মিথানল ও ইথিলিনসহ পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের খরচ বেড়েছে, যা ওষুধ উৎপাদনের মূল উপাদান এপিআই, সিরিঞ্জ, ভায়ালসহ অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রীর উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে। ফলে সামগ্রিকভাবে ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি খরচের বোঝা রোগী বা সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরই পড়বে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

যুদ্ধের কারণে ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাজ্যের ওষুধের মজুত

আপডেট সময় ০৭:০০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরান যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাজ্যে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ব্যথানাশক ও ক্যানসারের ওষুধসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধের সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে ওষুধের দাম বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এ ছাড়া এই সংঘাতের কারণে তেল, গ্যাস, সার ও হিলিয়ামসহ গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাব স্বাস্থ্য খাতেও পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক রেটিং এজেন্সি মুডিসের সাপ্লাই চেইন ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডেভিড উইকস ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। ভারতকে বিশ্বের ফার্মেসি বলা হয়। সেখানে প্রচুর জেনেরিক ওষুধ ও এপিআই উৎপাদন হয়। বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেখান থেকে ওষুধ পাওয়াও কঠিন হয়ে উঠছে।’

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দুবাই, দোহা ও আবুধাবির বিমানবন্দর আংশিকভাবে বন্ধ থাকায় ওষুধ পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে। অনেক কোম্পানিকে বিকল্প পথে পাঠাতে হচ্ছে, কেউ কেউ সমুদ্রপথে পরিবহন শুরু করেছে, ফলে সময় বেশি লাগছে। হরমুজ প্রণালির বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সমুদ্রপথেও চাপ বেড়েছে, যা অধিকাংশ ওষুধ পরিবহনের প্রধান মাধ্যম।

মেডিসিনস ইউকের প্রধান নির্বাহী মার্ক স্যামুয়েলস বলেন, ‘এখনো সংকট তৈরি হয়নি, তবে পরিস্থিতি গুরুতর।’ তিনি জানান, সাধারণত সরবরাহকারীরা ৬ থেকে ৮ সপ্তাহের মজুত রাখেন। সংঘাত দীর্ঘ হলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

কোভিড-১৯ মহামারির সময় যেমন প্যারাসিটামলসহ বিভিন্ন ব্যথানাশকের সংকট দেখা দিয়েছিল, তেমন পরিস্থিতি আবারও তৈরি হতে পারে। যুক্তরাজ্যে প্রায় অর্ধেক ওষুধ দেশেই উৎপাদিত হয়, আর এক-তৃতীয়াংশ আসে ভারত থেকে এবং বাকিটা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে।

প্রসঙ্গত, বিশ্বে ব্যবহৃত জেনেরিক ওষুধের প্রায় ৬০ শতাংশই ভারত উৎপাদন করে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের কারণে আকাশপথে পণ্য পরিবহন খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। স্যামুয়েলস বলেন, ‘এনএইচএসে ব্যবহৃত প্রতি পাঁচটির একটি ওষুধ আকাশপথে আসে। বাড়তি খরচ এখনো প্রস্তুতকারকেরা বহন করছে, তবে এতে কিছু ওষুধ সরবরাহে লাভের পরিমাণ কমে যেতে পারে। যদিও হাসপাতালের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি রয়েছে, তবে জিপি সেবা ও ফার্মেসিতে সরবরাহ করা ওষুধের ক্ষেত্রে দাম বাড়ানো হতে পারে।’

এন্টওয়ার্প ম্যানেজমেন্ট স্কুলের অধ্যাপক ওয়াউটার ডিউলফ বলেন, ‘বর্তমানে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি খারাপ হলে এক অঙ্কের হারে দাম বাড়তে পারে। সবকিছু নির্ভর করছে যুদ্ধ কত দিন স্থায়ী হয় তার ওপর।’

ফার্মা সরবরাহ বিশেষজ্ঞ ও ফার্মা-এরোর মহাসচিব ফ্র্যাঙ্ক ভ্যান গেলডার বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বিঘ্নের কারণে ওষুধ খাত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ৭০০ ফ্লাইট এ অঞ্চলে চলাচল করত, যা এখন কমে গেছে। চলতি মাসের শুরুতেই আকাশপথে কার্গো পরিবহন ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।’

সাধারণত দ্রুত সরবরাহের জন্য ক্যানসার চিকিৎসা, সংক্রামক রোগের ওষুধ, সেল ও জিন থেরাপি এবং শীতল সংরক্ষণ প্রয়োজন এমন জীববৈজ্ঞানিক ওষুধ আকাশপথে পরিবহন করতে হয়। সমুদ্রপথে পরিবহন বিকল্প হলেও উত্তমাশা অন্তরীপ বা কেপ অব গুড হোপ বন্দর ঘুরে যেতে ১৪ দিন পর্যন্ত সময় লাগে। এতে জ্বালানি খরচ প্রায় ১০ লাখ ডলার বেশি।

এ ছাড়া জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে মিথানল ও ইথিলিনসহ পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের খরচ বেড়েছে, যা ওষুধ উৎপাদনের মূল উপাদান এপিআই, সিরিঞ্জ, ভায়ালসহ অন্যান্য চিকিৎসা সামগ্রীর উৎপাদন ব্যয় বাড়াচ্ছে। ফলে সামগ্রিকভাবে ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি খরচের বোঝা রোগী বা সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপরই পড়বে।