ঢাকা ০৪:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি মোকাবিলায় কী প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৪৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৩৭ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিকে ভালোভাবে নেয়নি ইউরোপ। ইউরোপের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থার কথা সরাসরি না উঠলেও নেতারা আলোচনার জন্য বৈঠক ডেকেছেন। তবে ডেনমার্ক সরাসরি পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান দিয়েছে। ইউরোপের নেতারা প্রাথমিকভাবে সংকট সমাধানে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে ঘোষণা এসেছে।

ইতোমধ্যে ট্রাম্পের হুমকির সরাসরি প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসন। তিনি প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন, গ্রিনল্যান্ডকে জোর করে দখল করার আমেরিকান প্রচেষ্টায় ন্যাটো জোটের সমাপ্তি ঘটবে।

এমনকি ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, যদি গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ করা হয়, তাহলে তার সৈন্যদের সরাসরি গুলি করার অনুমতি দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কারও নির্দেশের অপেক্ষা করা লাগবে না।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, গ্রিনল্যান্ডের ভূখণ্ডে ট্রাম্পের আগ্রাসন মোকাবিলায় ফ্রান্স ও জার্মানি অন্যান্য ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছে। যদিও ফ্রান্স ও ইতালি বিশ্বাস করে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য সামরিক বাহিনী ব্যবহার নাও করতে পারে। ইউরোপ দ্বীপে ন্যাটোর উপস্থিতি বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছে।

ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের ব্যাপারে ভালো উপায় বা কঠোর উপায়ের কথা বলেছেন। এতে মনে হচ্ছে একটি কঠিন লক্ষ্য নিয়ে তিনি পুরোনো মার্কিন উচ্চাকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলছেন। বিশ শতকে ১০০ মিলিয়ন ডলারে গ্রিনল্যান্ড কেনার মার্কিন পরিকল্পনা কখনও সফল হয়নি। তবে ট্রাম্পের নতুন আগ্রহের কারণে বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছে না ইউরোপ।

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা ও ইরানের উদাহরণ তুলে ধরে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের ব্যাপারে আক্রমণাত্মক পথে যেতে তারা দ্বিধা করবে না। পলিটিকো একজন ইইউ কূটনীতিকের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইউরোপ ট্রাম্পের আগ্রাসী মনোভাবের বিষয়টি বুঝতে পেরেছে এবং একসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে কাজ করছে। ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের জন্যে ইউরোপকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কে স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, ‘আমি সহজ উপায়ে একটি চুক্তি করতে চাই। যদি আমরা এটি সহজ উপায়ে না করি, তবে আমরা এটি কঠিন উপায়ে করব।’ এমনকি গ্রিনল্যান্ডকে নতুন করে লক্ষ্যবস্তু করার ফলে মার্কিন কর্মকর্তারাও হতবাক হয়ে যান। ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা থাকা উচিত। তা না হলে চীন ও রাশিয়া দ্বীপটি দখল করতে পারে।

ট্রাম্পের হুমকির পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশসহ আরও ছয়টি ইউরোপীয় দেশ ডেনমার্ককে সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছে। তবে নেতারা ট্রাম্পের সমালোচনা কতটা আক্রমণাত্মকভাবে করা উচিত তা নিয়ে এখনও দ্বিধায় রয়েছেন।

ট্রাম্পকে মোকাবিলায় কী পরিকল্পনা
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট পলিটিকোকে বলেছেন, ভয় দেখানোর ধরন ও এর উৎস যাই হোক না কেন, আমরা কাজ শুরু করেছি, যাতে আমরা সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে পারি। হুমকি যে পর্যায় থেকেই আসুক না কেন, আমরা আমাদের ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে একত্রে পদক্ষেপ নিতে চাই।

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াদেফুল ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। যাতে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ বা দখল করার চেষ্টা করলে সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় থাকে। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের আশপাশে সরাসরি ন্যাটোর উপস্থিতি বাড়ানো যেতে পারে।

ওয়াশিংটনকে প্রত্যাখ্যান গ্রিনল্যান্ডবাসীর
গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক দলগুলো স্পষ্টতই ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে থাকার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, ‘আমরা আমেরিকান হতে চাই না, আমরা ডেনিশ হতে চাই না, আমরা গ্রিনল্যান্ডবাসী হতে চাই। গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের পাঁচটি দলের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ গ্রিনল্যান্ডবাসীদের দ্বারাই নির্ধারণ করা উচিত।’

এদিকে গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষে দ্বীপের যেসব নেতা কাজ করছেন, তাদের অর্থ দিয়ে বশে আনার কথাও চিন্তাও করছে ইউরোপ। ব্রাসেলস ও কোপেনহেগেন সেই বাস্তবতার দিকে ঝুঁকছে। তাদের ভাষ্য, ডেনমার্ক ও ইইউ থেকে একটি আকর্ষণীয় আর্থিক প্যাকেজ গ্রিনল্যান্ডবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য থেকে রক্ষা করতে পারে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত ইইউ বাজেট পরিকল্পনার খসড়া অনুসারে, ব্রাসেলস ২০২৮ সাল থেকে শুরু করে সাত বছরে গ্রিনল্যান্ডে তার ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ করে ৫৩০ মিলিয়ন ইউরো করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

চীন ও রাশিয়াকে রুখতে চান ট্রাম্প
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতোমধ্যে গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে স্থায়ীভাবে ১০০ জনেরও বেশি সামরিক কর্মী মোতায়েন রয়েছে। এটি এমন একটি স্থাপনা; যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছে। ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডে যত খুশি সৈন্য আনার ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, এই চুক্তি যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড মার্কিন মালিকানায় থাকতে হবে। আমি চীন ও রাশিয়ার জনগণকে ভালোবাসি। আমি চাই না তারা গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিক। ন্যাটোকে এটি বুঝতে হবে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি মোকাবিলায় কী প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ

আপডেট সময় ১২:৪৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিকে ভালোভাবে নেয়নি ইউরোপ। ইউরোপের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থার কথা সরাসরি না উঠলেও নেতারা আলোচনার জন্য বৈঠক ডেকেছেন। তবে ডেনমার্ক সরাসরি পাল্টা সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান দিয়েছে। ইউরোপের নেতারা প্রাথমিকভাবে সংকট সমাধানে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাছাড়া মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে ঘোষণা এসেছে।

ইতোমধ্যে ট্রাম্পের হুমকির সরাসরি প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসন। তিনি প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছেন, গ্রিনল্যান্ডকে জোর করে দখল করার আমেরিকান প্রচেষ্টায় ন্যাটো জোটের সমাপ্তি ঘটবে।

এমনকি ডেনমার্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেছে, যদি গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ করা হয়, তাহলে তার সৈন্যদের সরাসরি গুলি করার অনুমতি দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে কারও নির্দেশের অপেক্ষা করা লাগবে না।

টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, গ্রিনল্যান্ডের ভূখণ্ডে ট্রাম্পের আগ্রাসন মোকাবিলায় ফ্রান্স ও জার্মানি অন্যান্য ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে কাজ করছে। যদিও ফ্রান্স ও ইতালি বিশ্বাস করে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য সামরিক বাহিনী ব্যবহার নাও করতে পারে। ইউরোপ দ্বীপে ন্যাটোর উপস্থিতি বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছে।

ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড দখলের ব্যাপারে ভালো উপায় বা কঠোর উপায়ের কথা বলেছেন। এতে মনে হচ্ছে একটি কঠিন লক্ষ্য নিয়ে তিনি পুরোনো মার্কিন উচ্চাকাঙ্ক্ষা জাগিয়ে তুলছেন। বিশ শতকে ১০০ মিলিয়ন ডলারে গ্রিনল্যান্ড কেনার মার্কিন পরিকল্পনা কখনও সফল হয়নি। তবে ট্রাম্পের নতুন আগ্রহের কারণে বিষয়টি উড়িয়ে দিচ্ছে না ইউরোপ।

যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা ও ইরানের উদাহরণ তুলে ধরে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের ব্যাপারে আক্রমণাত্মক পথে যেতে তারা দ্বিধা করবে না। পলিটিকো একজন ইইউ কূটনীতিকের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইউরোপ ট্রাম্পের আগ্রাসী মনোভাবের বিষয়টি বুঝতে পেরেছে এবং একসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে কাজ করছে। ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের জন্যে ইউরোপকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড সম্পর্কে স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন, ‘আমি সহজ উপায়ে একটি চুক্তি করতে চাই। যদি আমরা এটি সহজ উপায়ে না করি, তবে আমরা এটি কঠিন উপায়ে করব।’ এমনকি গ্রিনল্যান্ডকে নতুন করে লক্ষ্যবস্তু করার ফলে মার্কিন কর্মকর্তারাও হতবাক হয়ে যান। ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা থাকা উচিত। তা না হলে চীন ও রাশিয়া দ্বীপটি দখল করতে পারে।

ট্রাম্পের হুমকির পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশসহ আরও ছয়টি ইউরোপীয় দেশ ডেনমার্ককে সমর্থন করে বিবৃতি দিয়েছে। তবে নেতারা ট্রাম্পের সমালোচনা কতটা আক্রমণাত্মকভাবে করা উচিত তা নিয়ে এখনও দ্বিধায় রয়েছেন।

ট্রাম্পকে মোকাবিলায় কী পরিকল্পনা
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন-নোয়েল ব্যারোট পলিটিকোকে বলেছেন, ভয় দেখানোর ধরন ও এর উৎস যাই হোক না কেন, আমরা কাজ শুরু করেছি, যাতে আমরা সম্মিলিত প্রতিক্রিয়া জানানোর জন্য প্রস্তুত থাকতে পারি। হুমকি যে পর্যায় থেকেই আসুক না কেন, আমরা আমাদের ইউরোপীয় অংশীদারদের সঙ্গে একত্রে পদক্ষেপ নিতে চাই।

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়াদেফুল ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গে একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। যাতে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড আক্রমণ বা দখল করার চেষ্টা করলে সম্মিলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা সক্রিয় থাকে। পাশাপাশি গ্রিনল্যান্ডের আশপাশে সরাসরি ন্যাটোর উপস্থিতি বাড়ানো যেতে পারে।

ওয়াশিংটনকে প্রত্যাখ্যান গ্রিনল্যান্ডবাসীর
গ্রিনল্যান্ডের রাজনৈতিক দলগুলো স্পষ্টতই ওয়াশিংটনের নিয়ন্ত্রণে থাকার বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, ‘আমরা আমেরিকান হতে চাই না, আমরা ডেনিশ হতে চাই না, আমরা গ্রিনল্যান্ডবাসী হতে চাই। গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের পাঁচটি দলের নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ গ্রিনল্যান্ডবাসীদের দ্বারাই নির্ধারণ করা উচিত।’

এদিকে গ্রিনল্যান্ডের স্বাধীনতার পক্ষে দ্বীপের যেসব নেতা কাজ করছেন, তাদের অর্থ দিয়ে বশে আনার কথাও চিন্তাও করছে ইউরোপ। ব্রাসেলস ও কোপেনহেগেন সেই বাস্তবতার দিকে ঝুঁকছে। তাদের ভাষ্য, ডেনমার্ক ও ইইউ থেকে একটি আকর্ষণীয় আর্থিক প্যাকেজ গ্রিনল্যান্ডবাসীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য থেকে রক্ষা করতে পারে।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত ইইউ বাজেট পরিকল্পনার খসড়া অনুসারে, ব্রাসেলস ২০২৮ সাল থেকে শুরু করে সাত বছরে গ্রিনল্যান্ডে তার ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ করে ৫৩০ মিলিয়ন ইউরো করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

চীন ও রাশিয়াকে রুখতে চান ট্রাম্প
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতোমধ্যে গ্রিনল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত পিটুফিক ঘাঁটিতে স্থায়ীভাবে ১০০ জনেরও বেশি সামরিক কর্মী মোতায়েন রয়েছে। এটি এমন একটি স্থাপনা; যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালনা করে আসছে। ডেনমার্কের সঙ্গে বিদ্যমান চুক্তির অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডে যত খুশি সৈন্য আনার ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, এই চুক্তি যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, গ্রিনল্যান্ড মার্কিন মালিকানায় থাকতে হবে। আমি চীন ও রাশিয়ার জনগণকে ভালোবাসি। আমি চাই না তারা গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিক। ন্যাটোকে এটি বুঝতে হবে।