ঢাকা ০১:৪১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে আইসিই এজেন্ট মোতায়েনের ঘোষণা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০২:০০:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
  • ৬১ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) শাটডাউনের জেরে বিমানবন্দরগুলোতে দীর্ঘ নিরাপত্তা লাইনের চাপ কমাতে সোমবার থেকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) এজেন্ট মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের সীমান্ত বিষয়ক প্রধান টম হোম্যান। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়ে উঠেছে।

রবিবার সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে হোম্যান বলেন, আগামীকাল আমরা বিমানবন্দরে থাকব এবং টিএসএকে লাইনের চাপ কমাতে সহায়তা করব। তিনি জানান, আইসিই এজেন্টরা মূলত এক্সিট ডোর পাহারার মতো কাজ করবেন, যাতে টিএসএ কর্মকর্তারা যাত্রী স্ক্রিনিংয়ে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। কোন কোন বিমানবন্দর থেকে মোতায়েন শুরু হবে, তা সোমবার সকালে চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে শনিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, শাটডাউনের কারণে বিমানবন্দরে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইসিই এজেন্ট মোতায়েন করা হতে পারে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ডিএইচএস শাটডাউনের ফলে বেতন না পেয়ে অনেক টিএসএ কর্মী ছুটি নিয়েছেন বা চাকরি ছেড়েছেন। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাটডাউন শুরুর পর থেকে ৪০০-রও বেশি টিএসএ কর্মকর্তা চাকরি ছেড়েছেন।

আমেরিকান ফেডারেশন অব গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সভাপতি এভারেট কেলি এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আইসিই এজেন্টরা বিমান নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষিত বা সার্টিফাইড নন। টিএসএ কর্মকর্তারা বিস্ফোরক, অস্ত্র ও নিরাপত্তা হুমকি শনাক্তে মাসের পর মাস বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। তিনি বলেন, ‘অপ্রশিক্ষিত লোকজনকে নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে বসানো শূন্যতা পূরণ করে না, বরং নতুন ঝুঁকি তৈরি করে।’ তিনি কংগ্রেসকে টিএসএর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

হাউস ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিসও এই পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘বিমানবন্দরে অপ্রশিক্ষিত আইসিই এজেন্ট মোতায়েন আমেরিকানদের হয়রানি ও প্রাণহানির ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।’ তিনি দাবি করেন, কার্যকর পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আইসিইকে করদাতাদের অর্থ দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে।

প্রসঙ্গত, মিনিয়াপোলিসে আইসিইর গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর থেকে ডেমোক্র্যাটরা অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের বিনিময়ে ডিএইচএসের অর্থায়নের শর্ত জুড়ে দেওয়ার দাবি তুলছেন।

ডেমোক্র্যাটরা টিএসএসহ ডিএইচএসের অন্যান্য সংস্থার জন্য আলাদা অর্থায়নের প্রস্তাব দিলেও আইসিই ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনকে (সিবিপি) সেই প্রস্তাব থেকে বাদ রাখার কথা বলেছেন। রিপাবলিকানরা এখন পর্যন্ত এই প্রস্তাবে বাধা দিলেও টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ ও লুইজিয়ানার সিনেটর জন কেনেডি আইসিই ও সিবিপির অর্থায়ন আলাদা করার ধারণায় ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।

কেনেডি বলেন, ‘আইসিই বাদ দিয়ে বাকি সবকিছু চালু করা যাক। এরপর রিকনসিলিয়েশন বিলের মাধ্যমে শুধু রিপাবলিকান ভোটেই আইসিইর অর্থায়ন নিশ্চিত করা যাবে।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে আইসিই এজেন্ট মোতায়েনের ঘোষণা

আপডেট সময় ০২:০০:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) শাটডাউনের জেরে বিমানবন্দরগুলোতে দীর্ঘ নিরাপত্তা লাইনের চাপ কমাতে সোমবার থেকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) এজেন্ট মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছেন হোয়াইট হাউসের সীমান্ত বিষয়ক প্রধান টম হোম্যান। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়ে উঠেছে।

রবিবার সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে হোম্যান বলেন, আগামীকাল আমরা বিমানবন্দরে থাকব এবং টিএসএকে লাইনের চাপ কমাতে সহায়তা করব। তিনি জানান, আইসিই এজেন্টরা মূলত এক্সিট ডোর পাহারার মতো কাজ করবেন, যাতে টিএসএ কর্মকর্তারা যাত্রী স্ক্রিনিংয়ে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন। কোন কোন বিমানবন্দর থেকে মোতায়েন শুরু হবে, তা সোমবার সকালে চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

এর আগে শনিবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, শাটডাউনের কারণে বিমানবন্দরে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইসিই এজেন্ট মোতায়েন করা হতে পারে।

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ডিএইচএস শাটডাউনের ফলে বেতন না পেয়ে অনেক টিএসএ কর্মী ছুটি নিয়েছেন বা চাকরি ছেড়েছেন। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাটডাউন শুরুর পর থেকে ৪০০-রও বেশি টিএসএ কর্মকর্তা চাকরি ছেড়েছেন।

আমেরিকান ফেডারেশন অব গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজের সভাপতি এভারেট কেলি এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আইসিই এজেন্টরা বিমান নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষিত বা সার্টিফাইড নন। টিএসএ কর্মকর্তারা বিস্ফোরক, অস্ত্র ও নিরাপত্তা হুমকি শনাক্তে মাসের পর মাস বিশেষ প্রশিক্ষণ নেন। তিনি বলেন, ‘অপ্রশিক্ষিত লোকজনকে নিরাপত্তা চেকপয়েন্টে বসানো শূন্যতা পূরণ করে না, বরং নতুন ঝুঁকি তৈরি করে।’ তিনি কংগ্রেসকে টিএসএর জন্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

হাউস ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিসও এই পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘বিমানবন্দরে অপ্রশিক্ষিত আইসিই এজেন্ট মোতায়েন আমেরিকানদের হয়রানি ও প্রাণহানির ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।’ তিনি দাবি করেন, কার্যকর পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত আইসিইকে করদাতাদের অর্থ দেওয়া বন্ধ রাখতে হবে।

প্রসঙ্গত, মিনিয়াপোলিসে আইসিইর গুলিতে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর থেকে ডেমোক্র্যাটরা অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের বিনিময়ে ডিএইচএসের অর্থায়নের শর্ত জুড়ে দেওয়ার দাবি তুলছেন।

ডেমোক্র্যাটরা টিএসএসহ ডিএইচএসের অন্যান্য সংস্থার জন্য আলাদা অর্থায়নের প্রস্তাব দিলেও আইসিই ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনকে (সিবিপি) সেই প্রস্তাব থেকে বাদ রাখার কথা বলেছেন। রিপাবলিকানরা এখন পর্যন্ত এই প্রস্তাবে বাধা দিলেও টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ ও লুইজিয়ানার সিনেটর জন কেনেডি আইসিই ও সিবিপির অর্থায়ন আলাদা করার ধারণায় ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন।

কেনেডি বলেন, ‘আইসিই বাদ দিয়ে বাকি সবকিছু চালু করা যাক। এরপর রিকনসিলিয়েশন বিলের মাধ্যমে শুধু রিপাবলিকান ভোটেই আইসিইর অর্থায়ন নিশ্চিত করা যাবে।’