যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) পরিচালক কাশ প্যাটেল জানিয়েছেন, গত বছরের ডিসেম্বরে চারটি অঙ্গরাজ্যে পরিকল্পিত একাধিক সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করেছে ফেডারেল এজেন্টরা।
সোমবার (১৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে প্যাটেল বলেন, ১২ ডিসেম্বর এফবিআই ‘টার্টল আইল্যান্ড লিবারেশন ফ্রন্ট’ নামে একটি সংগঠনের চার সদস্যকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে নববর্ষের রাতে বোমা হামলার পরিকল্পনা করছিল।
প্যাটেল আরও জানান, ২১ ডিসেম্বর এফবিআই ও পেনসিলভানিয়ার স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। যিনি বিস্ফোরক হামলার পরিকল্পনায় আইএসআইএসের প্রচারণা ব্যবহার করার জন্য গবেষণা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ২৯ ডিসেম্বর টেক্সাসে একজন আইএসআইএস সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়, যিনি একটি বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠনের জন্য বোমা তৈরির উপকরণ সরবরাহের চেষ্টা করছিলেন বলে অভিযোগ।
প্যাটেল বলেন, নববর্ষের আগের রাতে এফবিআই নিউইয়র্কে রাজ্য ও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যৌথ অভিযানে নর্থ ক্যারোলিনার এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে, যিনি নিজেকে ‘আইএসআইএস সৈনিক’ হিসেবে ঘোষণা করে ওই রাতে বড় ধরনের প্রাণহানির হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন।
প্যাটেলের এই তথ্য প্রকাশের সময়টি এমন এক প্রেক্ষাপটে এসেছে, যখন ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি বেড়েছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর ইরান প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে।
এদিকে, এফবিআই ও বিচার বিভাগ থেকে অনেক অভিজ্ঞ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা চলে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী ব্যবস্থার ওপরও চাপ বেড়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
প্যাটেল জানান, এফবিআই ইতোমধ্যে ৬৪০টি সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার পরিকল্পনা ব্যর্থ করেছে এবং ৭০৭ জনকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার করেছে।
সাম্প্রতিক কয়েকটি সহিংস ঘটনাও এই নিরাপত্তা উদ্বেগকে সামনে নিয়ে এসেছে।
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়রের বাসভবনের সামনে এক ডানপন্থী বিক্ষোভে দুই তরুণ বাড়িতে তৈরি বোমা নিয়ে উপস্থিত হওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার হয়,যাদের বিরুদ্ধে আইএস-প্রভাবিত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ডেট্রয়েটের কাছে একটি সিনাগগে গাড়ি ঢুকিয়ে হামলার চেষ্টা এবং ভার্জিনিয়ার ওল্ড ডোমিনিয়ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গুলির ঘটনা নিয়েও তদন্ত চলছে।
তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, নিউইয়র্ক ও ভার্জিনিয়ার ঘটনাগুলো সরাসরি ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত—এমন কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
এদিকে এফবিআই সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়ায় সম্ভাব্য ড্রোন হামলার পরিকল্পনা নিয়ে একটি সতর্কবার্তা জারি করেছিল। যদিও পরে কর্মকর্তারা জানান, ওই গোয়েন্দা তথ্য এখনও যাচাই করা হয়নি এবং নির্দিষ্ট কোনো হামলার পরিকল্পনার প্রমাণ মেলেনি।

নিজস্ব সংবাদ : 























