ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ, অপেক্ষায় থাকতে হবে ২০ বছর

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৭৯ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাজ্যে যেসব আশ্রয়প্রার্থীকে সাময়িকভাবে থাকার অনুমতি দেওয়া হয় তাদের সেখানে স্থায়ীভাবে থাকতে হলে এখন থেকে অপেক্ষা করতে হবে ২০ বছর। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আবেদন করবেন তাদের আবেদনের পর্যালোচনা করা হবে ২০ বছর সময় নিয়ে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ আগামীকাল ১৭ নভেম্বর (সোমবার) এ বিষয়ে তার পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন বলে জানা গেছে। খবর বিবিসির।

ছোট ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ ঠেকাতে ও আশ্রয় নেওয়ার দাবি নিরুৎসাহিত করতে দেশটি তাদের আশ্রয় নীতিতে এ ধরনের বড় পরিবর্তন আনছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখন থেকে যেসব লোককে আশ্রয় দেওয়া হবে তাদের স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে না। পাশাপাশি তাদের শরণার্থী মর্যাদা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে এবং যে দেশ থেকে তারা এসেছে সেখানে নিরাপদ মনে করলে তাদের ফিরে যেতে বলা হবে।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে পাঁচ বছরের জন্য শরণার্থী মর্যাদা দেওয়া হয় এবং তারা সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকার আবেদন করতে পারে। তবে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাইছেন, এখন থেকে শরণার্থী হিসেবে থাকার সময় অর্ধেকে, অর্থাৎ আড়াই বছরে নামিয়ে আনতে এবং এরপর থেকে নিয়মিতভাবে তাদের অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি তিনি চাইছেন স্থায়ীভাবে দেশটিতে থাকার জন্য অপেক্ষার সময় ২০ বছর করতে।

এ বিষয়ে সানডে টাইমসকে শাবানা মাহমুদ বলেন, এই সংস্কার এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যার মাধ্যমে অন্যান্য দেশের নাগরিকদের বলা হবে: এই দেশে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে আসবেন না, আসার জন্য নৌকায় উঠবেন না।

শাবানা মাহমুদ বলেন, অবৈধ অভিবাসন আমাদের দেশটাকে ভেঙেচুরে দিচ্ছে, তবে সরকারের কাজ হলো দেশকে একতাবদ্ধ করা। যদি আমরা এ কাজ না করি তবে আমাদের দেশটা আরও বিভক্ত হয়ে পড়বে।

এই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে ডেনমার্কের মধ্য-বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট সরকারের কাছ থেকে। দেশটি ইউরোপে সবচেয়ে কঠোর অভিবাসন নীতি অনুসরণ করে থাকে। ডেনমার্কে শরণার্থীদের সাময়িকভাবে থাকার অনুমতি দেওয়া হয় সাধারণত দুই বছরের জন্য এবং এরপর তাদের থাকার জন্য আবার আবেদন করতে হয়।

তবে শাবানা মাহমুদের নতুন এই পরিকল্পনা লেবার পার্টির এমপিদের বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের স্বরাষ্ট্র বিভাগ বিষয়ক মুখপাত্র ম্যাক্স উইলকিনসন বলেন, কনজারভেটিভদের অব্যবস্থাপনায় ভরা আশ্রয় নীতিকে পুনর্গঠন করতেই সরকারের এই নতুন উদ্যোগ। এটা নিয়ে লোবার পার্টির ছেলেখেলার কোনো সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান এনভার সলোমন বলেন, সরকারের এই পরিকলনা কঠোর ও অপ্রয়োজনীয়। তিনি আরও বলেন, এসব উদ্যোগ নির্যাতনের শিকার বা যারা নৃশংস যুদ্ধে পরিবারের সদস্যদের মারা যেতে দেখেছেন তাদের ঠেকাতে পারবে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ, অপেক্ষায় থাকতে হবে ২০ বছর

আপডেট সময় ০৬:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ নভেম্বর ২০২৫

যুক্তরাজ্যে যেসব আশ্রয়প্রার্থীকে সাময়িকভাবে থাকার অনুমতি দেওয়া হয় তাদের সেখানে স্থায়ীভাবে থাকতে হলে এখন থেকে অপেক্ষা করতে হবে ২০ বছর। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা স্থায়ীভাবে থাকার জন্য আবেদন করবেন তাদের আবেদনের পর্যালোচনা করা হবে ২০ বছর সময় নিয়ে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ আগামীকাল ১৭ নভেম্বর (সোমবার) এ বিষয়ে তার পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন বলে জানা গেছে। খবর বিবিসির।

ছোট ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ ঠেকাতে ও আশ্রয় নেওয়ার দাবি নিরুৎসাহিত করতে দেশটি তাদের আশ্রয় নীতিতে এ ধরনের বড় পরিবর্তন আনছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখন থেকে যেসব লোককে আশ্রয় দেওয়া হবে তাদের স্থায়ীভাবে যুক্তরাজ্যে থাকার অনুমতি দেওয়া হবে না। পাশাপাশি তাদের শরণার্থী মর্যাদা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে এবং যে দেশ থেকে তারা এসেছে সেখানে নিরাপদ মনে করলে তাদের ফিরে যেতে বলা হবে।

বর্তমানে যুক্তরাজ্যে পাঁচ বছরের জন্য শরণার্থী মর্যাদা দেওয়া হয় এবং তারা সেখানে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকার আবেদন করতে পারে। তবে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চাইছেন, এখন থেকে শরণার্থী হিসেবে থাকার সময় অর্ধেকে, অর্থাৎ আড়াই বছরে নামিয়ে আনতে এবং এরপর থেকে নিয়মিতভাবে তাদের অবস্থা পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি তিনি চাইছেন স্থায়ীভাবে দেশটিতে থাকার জন্য অপেক্ষার সময় ২০ বছর করতে।

এ বিষয়ে সানডে টাইমসকে শাবানা মাহমুদ বলেন, এই সংস্কার এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যার মাধ্যমে অন্যান্য দেশের নাগরিকদের বলা হবে: এই দেশে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে আসবেন না, আসার জন্য নৌকায় উঠবেন না।

শাবানা মাহমুদ বলেন, অবৈধ অভিবাসন আমাদের দেশটাকে ভেঙেচুরে দিচ্ছে, তবে সরকারের কাজ হলো দেশকে একতাবদ্ধ করা। যদি আমরা এ কাজ না করি তবে আমাদের দেশটা আরও বিভক্ত হয়ে পড়বে।

এই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে ডেনমার্কের মধ্য-বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট সরকারের কাছ থেকে। দেশটি ইউরোপে সবচেয়ে কঠোর অভিবাসন নীতি অনুসরণ করে থাকে। ডেনমার্কে শরণার্থীদের সাময়িকভাবে থাকার অনুমতি দেওয়া হয় সাধারণত দুই বছরের জন্য এবং এরপর তাদের থাকার জন্য আবার আবেদন করতে হয়।

তবে শাবানা মাহমুদের নতুন এই পরিকল্পনা লেবার পার্টির এমপিদের বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের স্বরাষ্ট্র বিভাগ বিষয়ক মুখপাত্র ম্যাক্স উইলকিনসন বলেন, কনজারভেটিভদের অব্যবস্থাপনায় ভরা আশ্রয় নীতিকে পুনর্গঠন করতেই সরকারের এই নতুন উদ্যোগ। এটা নিয়ে লোবার পার্টির ছেলেখেলার কোনো সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান এনভার সলোমন বলেন, সরকারের এই পরিকলনা কঠোর ও অপ্রয়োজনীয়। তিনি আরও বলেন, এসব উদ্যোগ নির্যাতনের শিকার বা যারা নৃশংস যুদ্ধে পরিবারের সদস্যদের মারা যেতে দেখেছেন তাদের ঠেকাতে পারবে না।