ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

মন্ত্রণালয়ের চিঠি ইস্যুর দেড় বছরেও বাড়েনি আনসার কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০১:৫৪:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ৫১ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের পদমর্যাদা উন্নীতকরণের দাবি এখনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতার বেড়াজালে আটকে রয়েছে। ২০২৪ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হলেও দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি। এতে বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম হতাশা, ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী অধিদপ্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠানো হয়।

সেখানে বাহিনীর ১০ম গ্রেডভুক্ত ‘সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট/উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা’ এবং ‘সহকারী অ্যাডজুট্যান্ট’ পদকে ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব দ্রুত পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। 

উপসচিব মো. সগীর হোসেনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অতিরিক্ত সচিবের (আনসার ও সীমান্ত অনুবিভাগ) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গাইডলাইন অনুসরণ করে প্রস্তাব প্রস্তুতের কথাও বলা হয়েছিল।

কিন্তু সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্তের পরও অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব কিংবা পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি।

ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি কার্যত থমকে আছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, মাঠপর্যায়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও দীর্ঘদিন ধরে পদমর্যাদা ও বেতন কাঠামো নিয়ে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। অথচ অন্যান্য বাহিনীতে একই ধরনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের তুলনায় তারা অনেক পিছিয়ে রয়েছেন।

এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মন্ত্রণালয় ইতিবাচক অবস্থানে থাকলেও অধিদপ্তরের ধীরগতি ও উদাসীনতায় পুরো বিষয়টি ঝুলে আছে।

এতে কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে পড়ছে।’ 

আরেক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ‘ফাইলটি মনে হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়েছে। দেড় বছরেও একটি জবাব না দেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসনিক জটিলতা, অভ্যন্তরীণ অনীহা কিংবা উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই বিষয়টি দীর্ঘ সূত্রতায় পড়েছে। এতে বাহিনীর ভেতরে চেইন অব কমান্ড, কর্মোদ্যম ও পেশাগত স্পৃহায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এদিকে পদবঞ্চিত কর্মকর্তারা দ্রুত নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন করে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের চিঠির অগ্রগতির বিষয়ে জানতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মুহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমানকে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি, এমনকি ক্ষুদে বার্তায়ও সাড়া মেলেনি। তবে অন্য একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, সামনে প্রতিষ্ঠাকার্ষিকীর আয়োজন নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন, ফলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পরে পদায়নের বিষয়ে অগ্রগতি কতটুকু তা সঠিকভাবে জানাতে পারবেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

মন্ত্রণালয়ের চিঠি ইস্যুর দেড় বছরেও বাড়েনি আনসার কর্মকর্তাদের পদমর্যাদা

আপডেট সময় ০১:৫৪:৩০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের পদমর্যাদা উন্নীতকরণের দাবি এখনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতার বেড়াজালে আটকে রয়েছে। ২০২৪ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেওয়া হলেও দেড় বছর পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো অগ্রগতি হয়নি। এতে বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম হতাশা, ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী অধিদপ্তরে একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠানো হয়।

সেখানে বাহিনীর ১০ম গ্রেডভুক্ত ‘সার্কেল অ্যাডজুট্যান্ট/উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা’ এবং ‘সহকারী অ্যাডজুট্যান্ট’ পদকে ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তাব দ্রুত পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। 

উপসচিব মো. সগীর হোসেনের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অতিরিক্ত সচিবের (আনসার ও সীমান্ত অনুবিভাগ) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ বিষয়ে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গাইডলাইন অনুসরণ করে প্রস্তাব প্রস্তুতের কথাও বলা হয়েছিল।

কিন্তু সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্তের পরও অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব কিংবা পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়নি।

ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি কার্যত থমকে আছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, মাঠপর্যায়ে তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও দীর্ঘদিন ধরে পদমর্যাদা ও বেতন কাঠামো নিয়ে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। অথচ অন্যান্য বাহিনীতে একই ধরনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের তুলনায় তারা অনেক পিছিয়ে রয়েছেন।

এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মন্ত্রণালয় ইতিবাচক অবস্থানে থাকলেও অধিদপ্তরের ধীরগতি ও উদাসীনতায় পুরো বিষয়টি ঝুলে আছে।

এতে কর্মকর্তাদের মনোবল ভেঙে পড়ছে।’ 

আরেক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, ‘ফাইলটি মনে হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়েছে। দেড় বছরেও একটি জবাব না দেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসনিক জটিলতা, অভ্যন্তরীণ অনীহা কিংবা উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই বিষয়টি দীর্ঘ সূত্রতায় পড়েছে। এতে বাহিনীর ভেতরে চেইন অব কমান্ড, কর্মোদ্যম ও পেশাগত স্পৃহায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

এদিকে পদবঞ্চিত কর্মকর্তারা দ্রুত নিয়োগ বিধিমালা সংশোধন করে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

মন্ত্রণালয়ের চিঠির অগ্রগতির বিষয়ে জানতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মুহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমানকে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি, এমনকি ক্ষুদে বার্তায়ও সাড়া মেলেনি। তবে অন্য একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জানান, সামনে প্রতিষ্ঠাকার্ষিকীর আয়োজন নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ব্যস্ত সময় পার করছেন, ফলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পরে পদায়নের বিষয়ে অগ্রগতি কতটুকু তা সঠিকভাবে জানাতে পারবেন।