ঢাকা ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস Logo দিল্লিতে বসে হুংকার দিয়ে লাভ নেই, সীমানায় ঢুকলেই গ্রেপ্তার: আইনমন্ত্রী Logo ইরান যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা ৭৯ শতাংশ মার্কিনির Logo ফ্রান্সকে বিদায় করে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন Logo স্পেনকে পেনাল্টি দেওয়াটা কি সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল? Logo ৯৮ হাজার টাকায় হজযাত্রী পরিবহনের প্রস্তাব ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের Logo নারায়ণগঞ্জে বিদেশি পিস্ত\লসহ গ্রেপ্তার যুবক Logo ফ্রান্স ও স্পেনের শুরুর একাদশে কারা আছেন Logo ‘ফকল্যান্ড নয়, ফুটবলে মনোযোগ দিন’- ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে বললেন আর্জেন্টাইন যোদ্ধারা Logo শিক্ষামন্ত্রীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

মতপার্থক্য থাকতেই পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়: দলীয় সভায় প্রধানমন্ত্রী

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৯:৫৬:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

দলীয় নেতাকর্মীদের বিগত ১৭ বছরের মতো আগামীতেও ইস্পাত কঠিন ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, দলের ভেতরে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তার জন্য যেন ঐক্য নষ্ট না হয়। ঐক্য থাকলে ফ্যাসিস্ট বা কোনো গুপ্তচর দলে ঢুকে সুবিধা নিতে পারবে না। ঐক্যে ফাটল ধরলেই তারা সুযোগ নেবে।

সোমবার (১৪ জুলাই) বিকালে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত বিভাগীয় এক সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, গুম, খুন ও চরম নির্যাতনের শিকার হয়েও আপনারা সবাই মিলে দল সামলেছেন। নিজের পরিবারের চেয়ে দলকে বেশি সময় ও অর্থ দিয়েছেন। তখন সবাই সবার পাশে থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে দল চালিয়েছেন। এখন নির্যাতনের সেই ভয় নেই, তাহলে এখন কেন ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবেন না?

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিগত সাধারণ নির্বাচনে যেভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে জিতিয়ে এনেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ঠিক সেভাবে দলকে জেতাতে হবে। বর্ষার পর আলোচনা করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে। এর আগেই তৃণমূলকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হবে। তবে দল গোছানোর ক্ষেত্রে ‘হাইব্রিড’ ও ‘গুপ্ত’-এই দুটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে তারা কোনোভাবেই নেতৃত্বে আসতে না পারে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন প্রধান ধর্মীয় উৎসবের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে বলেন, সামনে হিন্দুদের বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। যে কোনো মূল্যে এই ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে হবে। কেউ যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে ফায়দা লুটতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তথাকথিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে উন্নয়নের নামে আসলে লুটেরাদের পকেটের উন্নয়ন হয়েছে। মেগা প্রজেক্টের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শ্বেতপত্রে অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য দেখিয়েছেন, প্রতি বছর গড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। ৫৪ হাজার কোটি টাকায় পদ্মা সেতু করা হয়েছে, অথচ একই দৈর্ঘ্যের ভূপেন হাজারিকা সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার কোটি টাকা।

ফ্লাইওভার নির্মাণের নামে ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন জেলায় ড্রেন ও খাল ভরাট করে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি করা হয়েছে বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

উন্নয়নের নতুন রূপরেখা ঘোষণা করে তারেক রহমান বলেন, উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তাঘাট নয়; স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নই আসল উন্নয়ন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপজেলা পর্যায়ে ৩১ শয্যার হাসপাতাল শুরু করেছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া তা ৫১ শয্যায় উন্নীত করেন। আমাদের সরকার এখন তা ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ হাতে নিয়েছে। এছাড়া শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সারাদেশে ১ হাজারটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।

দেশের চরম সংকটকালীন মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এক ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নিয়েছি। ব্যাংকিং খাত, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষিত যুবসমাজ আজ বেকার। আমরা দায়িত্ব নিয়েই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু করেছি। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি, ফলে দেশের মানুষ স্বস্তিতে রোজা পালন করেছে। এরপর মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বাড়ায় আমাদের বাড়তি ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।

নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি পারিবারিক উদাহরণ টেনে বলেন, একটি পরিবারের সবাই মিলে যদি ঘর নোংরা করে, তবে একজনের পক্ষে তা পরিষ্কার করা অসম্ভব। দেশটাও একটি পরিবারের মতো। আপনারা যেহেতু এখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছেন, তাই দেশের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় আপনাদের অত্যন্ত বুঝে-শুনে ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল পাস

মতপার্থক্য থাকতেই পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়: দলীয় সভায় প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৯:৫৬:২৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

দলীয় নেতাকর্মীদের বিগত ১৭ বছরের মতো আগামীতেও ইস্পাত কঠিন ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, দলের ভেতরে মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু তার জন্য যেন ঐক্য নষ্ট না হয়। ঐক্য থাকলে ফ্যাসিস্ট বা কোনো গুপ্তচর দলে ঢুকে সুবিধা নিতে পারবে না। ঐক্যে ফাটল ধরলেই তারা সুযোগ নেবে।

সোমবার (১৪ জুলাই) বিকালে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত বিভাগীয় এক সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিগত ১৭ বছরের দুঃশাসনের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, গুম, খুন ও চরম নির্যাতনের শিকার হয়েও আপনারা সবাই মিলে দল সামলেছেন। নিজের পরিবারের চেয়ে দলকে বেশি সময় ও অর্থ দিয়েছেন। তখন সবাই সবার পাশে থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে দল চালিয়েছেন। এখন নির্যাতনের সেই ভয় নেই, তাহলে এখন কেন ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবেন না?

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, বিগত সাধারণ নির্বাচনে যেভাবে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে জিতিয়ে এনেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ঠিক সেভাবে দলকে জেতাতে হবে। বর্ষার পর আলোচনা করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে। এর আগেই তৃণমূলকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হবে। তবে দল গোছানোর ক্ষেত্রে ‘হাইব্রিড’ ও ‘গুপ্ত’-এই দুটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে তারা কোনোভাবেই নেতৃত্বে আসতে না পারে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন প্রধান ধর্মীয় উৎসবের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে বলেন, সামনে হিন্দুদের বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। যে কোনো মূল্যে এই ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে হবে। কেউ যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে ফায়দা লুটতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজর রাখতে হবে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের তথাকথিত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে উন্নয়নের নামে আসলে লুটেরাদের পকেটের উন্নয়ন হয়েছে। মেগা প্রজেক্টের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শ্বেতপত্রে অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য দেখিয়েছেন, প্রতি বছর গড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে। ৫৪ হাজার কোটি টাকায় পদ্মা সেতু করা হয়েছে, অথচ একই দৈর্ঘ্যের ভূপেন হাজারিকা সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার কোটি টাকা।

ফ্লাইওভার নির্মাণের নামে ঢাকা শহরসহ বিভিন্ন জেলায় ড্রেন ও খাল ভরাট করে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি করা হয়েছে বলেও তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

উন্নয়নের নতুন রূপরেখা ঘোষণা করে তারেক রহমান বলেন, উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তাঘাট নয়; স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নই আসল উন্নয়ন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উপজেলা পর্যায়ে ৩১ শয্যার হাসপাতাল শুরু করেছিলেন, বেগম খালেদা জিয়া তা ৫১ শয্যায় উন্নীত করেন। আমাদের সরকার এখন তা ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ হাতে নিয়েছে। এছাড়া শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সারাদেশে ১ হাজারটি বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে।

দেশের চরম সংকটকালীন মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এক ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নিয়েছি। ব্যাংকিং খাত, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষিত যুবসমাজ আজ বেকার। আমরা দায়িত্ব নিয়েই নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়া শুরু করেছি। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি, ফলে দেশের মানুষ স্বস্তিতে রোজা পালন করেছে। এরপর মধ্যপ্রাচ্য সংকটের কারণে বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বাড়ায় আমাদের বাড়তি ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।

নেতাকর্মীদের দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি পারিবারিক উদাহরণ টেনে বলেন, একটি পরিবারের সবাই মিলে যদি ঘর নোংরা করে, তবে একজনের পক্ষে তা পরিষ্কার করা অসম্ভব। দেশটাও একটি পরিবারের মতো। আপনারা যেহেতু এখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছেন, তাই দেশের সার্বিক শৃঙ্খলা রক্ষায় আপনাদের অত্যন্ত বুঝে-শুনে ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

সভায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।