ঢাকা ০১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

ভোটের মাঠে তাসনিম জারার নতুন প্রচার কৌশল

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ১২:৪৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৮০ বার পড়া হয়েছে

পোস্টার, উচ্চশব্দের মাইকিং ও শোডাউন ছাড়াই নির্বাচনি প্রচারণার এক নতুন মডেল তুলে ধরছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। মানুষের আস্থা ও ব্যক্তিগত যোগাযোগকে ভিত্তি করে তিনি চালু করেছেন ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ নামে একটি ক্যাম্পেইন উদ্যোগ।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) তিনি ফেইসবুক পোস্টে তিনি ভোটের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

তিনি লেখেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যখন মাত্র দেড় দিনে প্রায় ৫০০০ ভোটারের স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল, তখন অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসে বলতেন, ‘মা, আমি এসেছি কারণ আমার ছেলে ফোন করে বলেছে আপনাকে সাহায্য করতে।’ কিংবা, ‘আমার মেয়ে থাকে আমেরিকায়, সে আমাকে ফোন করে বলেছে, বাবা, তাসনিম জারাকে সিগনেচারটা দিয়ে এসো। ও না হলে দাঁড়াতেই পারবে না।’  তখনই বুঝতে পারি, মানুষ আসলে রাজনীতির সাথে এখন কতটা সম্পৃক্ত। বুঝতে পারি আমাদের শক্তি হলো মানুষের আস্থা। ভাড়া করা মানুষ নিয়ে মিছিল বা কান ঝালাপালা করে দেয়া মাইকিং নয়।’

কিন্তু এই আস্থার রাজনীতি বাস্তবায়ন সহজ ছিল না তাসনিম জারার জন্য। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পোস্টার নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও শহরজুড়ে যখন তার ছড়াছড়ি, তখন জারা সিদ্ধান্ত নেন তিনি পোস্টার লাগাবেন না, উচ্চশব্দের মাইকিংও নয়।

তিনি লিখেছেন, ‘নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হওয়ার আগেই দেখলাম শহরজুড়ে পোস্টারের উৎসব। নির্বাচন কমিশন আগেই ঘোষণা করেছিল যে এ বছরের নির্বাচনে পোস্টার লাগানো নিষেধ। কিন্তু প্রায় সকল প্রার্থী সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে শহরটাকে পোস্টার দিয়ে মুড়িয়ে ফেললেন। আমি রাজনীতির বাইরের মানুষ ছিলাম। সাধারণ নাগরিক হিসেবে এই ‘পোস্টারের জঞ্জাল’ এবং ‘উচ্চশব্দের মাইকিং’ আমাকে সবসময় কষ্ট দিত। তাই আমি আমার টিমকে বলি যে, আমি পোস্টার টাঙ্গাব না, উচ্চ শব্দে মাইকিংও করব না।’

উদ্বিগ্ন হন অনেক শুভাকাঙ্ক্ষীর সরল প্রশ্ন—পোস্টার না থাকলে মানুষ কীভাবে জানবে তিনি নির্বাচন করছেন? উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনি প্রচারে তার নতুন সংযোজন ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’।

তিনি বলছেন, ‘আমরা ভাবতে থাকি, এসব দাপোট দেখানো কাজ না করেও নির্বাচনের মাঠে কীভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায়? একদম মূলে (Basic-এ) গিয়ে আমরা চিন্তা করলাম, মানুষ আসলে ভোট দেয় কেন? রাস্তায় বড় মিছিল দেখলে বা কানের কাছে মাইক বাজলেই কি আপনি কাউকে ভোট দেবেন? সম্ভবত না। বরং এতে বিরক্তি বাড়ে। মানুষ ভোট দেয় ‘বিশ্বাস’ থেকে। আর এই বিশ্বাসটা তৈরি হয় যখন আপনার পরিচিত কেউ (আপনার বন্ধু, আত্মীয় বা সহকর্মী) আপনাকে ফোন করে বলে, ‘দোস্ত, আমি ওনার ইশতেহার পড়েছি, মানুষটা সৎ। চলো এবার ওনাকে একটা সুযোগ দেই।’ এই ধরণের আন্তরিক কথোপকথন, হাজারটা পোস্টারের চেয়েও শক্তিশালী। আমাদের অনেক সমর্থক আছেন যারা হয়তো মিছিলে গিয়ে স্লোগান দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, কিন্তু মনেপ্রাণে চান রাজনীতিতে একটা পরিবর্তন আসুক। তাদের জন্যই আমরা একটা পন্থা বের করার চিন্তা করি। সেখান থেকেই আসে আমাদের ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ এর আইডিয়াটা।’

তার ভাষ্য এই ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ এমন এক ক্যাম্পেইন মডেল, যেখানে স্লোগান বা শোডাউনের বদলে গুরুত্ব পাবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বিশ্বাসভিত্তিক যোগাযোগ। তিনি বিশ্বাস করেন যদি প্রমাণ করা যায় যে কোটি টাকা খরচ,ভাড়া করা লোকের শোডাউন আর শব্দদূষণ ছাড়াও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জিততে পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসার সাহস পাবেন আরও অনেকে—যাদের টাকা বা পেশিশক্তি নেই, কিন্তু আছে যোগ্যতা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

ভোটের মাঠে তাসনিম জারার নতুন প্রচার কৌশল

আপডেট সময় ১২:৪৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

পোস্টার, উচ্চশব্দের মাইকিং ও শোডাউন ছাড়াই নির্বাচনি প্রচারণার এক নতুন মডেল তুলে ধরছেন ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা। মানুষের আস্থা ও ব্যক্তিগত যোগাযোগকে ভিত্তি করে তিনি চালু করেছেন ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ নামে একটি ক্যাম্পেইন উদ্যোগ।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) তিনি ফেইসবুক পোস্টে তিনি ভোটের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

তিনি লেখেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে যখন মাত্র দেড় দিনে প্রায় ৫০০০ ভোটারের স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল, তখন অনেকেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসে বলতেন, ‘মা, আমি এসেছি কারণ আমার ছেলে ফোন করে বলেছে আপনাকে সাহায্য করতে।’ কিংবা, ‘আমার মেয়ে থাকে আমেরিকায়, সে আমাকে ফোন করে বলেছে, বাবা, তাসনিম জারাকে সিগনেচারটা দিয়ে এসো। ও না হলে দাঁড়াতেই পারবে না।’  তখনই বুঝতে পারি, মানুষ আসলে রাজনীতির সাথে এখন কতটা সম্পৃক্ত। বুঝতে পারি আমাদের শক্তি হলো মানুষের আস্থা। ভাড়া করা মানুষ নিয়ে মিছিল বা কান ঝালাপালা করে দেয়া মাইকিং নয়।’

কিন্তু এই আস্থার রাজনীতি বাস্তবায়ন সহজ ছিল না তাসনিম জারার জন্য। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পোস্টার নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও শহরজুড়ে যখন তার ছড়াছড়ি, তখন জারা সিদ্ধান্ত নেন তিনি পোস্টার লাগাবেন না, উচ্চশব্দের মাইকিংও নয়।

তিনি লিখেছেন, ‘নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হওয়ার আগেই দেখলাম শহরজুড়ে পোস্টারের উৎসব। নির্বাচন কমিশন আগেই ঘোষণা করেছিল যে এ বছরের নির্বাচনে পোস্টার লাগানো নিষেধ। কিন্তু প্রায় সকল প্রার্থী সেই নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে শহরটাকে পোস্টার দিয়ে মুড়িয়ে ফেললেন। আমি রাজনীতির বাইরের মানুষ ছিলাম। সাধারণ নাগরিক হিসেবে এই ‘পোস্টারের জঞ্জাল’ এবং ‘উচ্চশব্দের মাইকিং’ আমাকে সবসময় কষ্ট দিত। তাই আমি আমার টিমকে বলি যে, আমি পোস্টার টাঙ্গাব না, উচ্চ শব্দে মাইকিংও করব না।’

উদ্বিগ্ন হন অনেক শুভাকাঙ্ক্ষীর সরল প্রশ্ন—পোস্টার না থাকলে মানুষ কীভাবে জানবে তিনি নির্বাচন করছেন? উত্তরে তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচনি প্রচারে তার নতুন সংযোজন ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’।

তিনি বলছেন, ‘আমরা ভাবতে থাকি, এসব দাপোট দেখানো কাজ না করেও নির্বাচনের মাঠে কীভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায়? একদম মূলে (Basic-এ) গিয়ে আমরা চিন্তা করলাম, মানুষ আসলে ভোট দেয় কেন? রাস্তায় বড় মিছিল দেখলে বা কানের কাছে মাইক বাজলেই কি আপনি কাউকে ভোট দেবেন? সম্ভবত না। বরং এতে বিরক্তি বাড়ে। মানুষ ভোট দেয় ‘বিশ্বাস’ থেকে। আর এই বিশ্বাসটা তৈরি হয় যখন আপনার পরিচিত কেউ (আপনার বন্ধু, আত্মীয় বা সহকর্মী) আপনাকে ফোন করে বলে, ‘দোস্ত, আমি ওনার ইশতেহার পড়েছি, মানুষটা সৎ। চলো এবার ওনাকে একটা সুযোগ দেই।’ এই ধরণের আন্তরিক কথোপকথন, হাজারটা পোস্টারের চেয়েও শক্তিশালী। আমাদের অনেক সমর্থক আছেন যারা হয়তো মিছিলে গিয়ে স্লোগান দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না, কিন্তু মনেপ্রাণে চান রাজনীতিতে একটা পরিবর্তন আসুক। তাদের জন্যই আমরা একটা পন্থা বের করার চিন্তা করি। সেখান থেকেই আসে আমাদের ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ এর আইডিয়াটা।’

তার ভাষ্য এই ‘প্রজেক্ট ঢাকা-৯’ এমন এক ক্যাম্পেইন মডেল, যেখানে স্লোগান বা শোডাউনের বদলে গুরুত্ব পাবে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বিশ্বাসভিত্তিক যোগাযোগ। তিনি বিশ্বাস করেন যদি প্রমাণ করা যায় যে কোটি টাকা খরচ,ভাড়া করা লোকের শোডাউন আর শব্দদূষণ ছাড়াও একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী জিততে পারেন, তাহলে ভবিষ্যতে রাজনীতিতে আসার সাহস পাবেন আরও অনেকে—যাদের টাকা বা পেশিশক্তি নেই, কিন্তু আছে যোগ্যতা।