ঢাকা ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা Logo অর্ধশতাধিক দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা ট্রাম্পের Logo স্বামীর সঙ্গে বিরোধ, ঘরে দেশীয় অস্ত্র থাকার কথা পুলিশকে বলে দিলেন স্ত্রী Logo নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে থেকে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক Logo স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে না, জানাল ইসি Logo পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধে আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট Logo সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে জড়িয়ে প্রকাশিত খবরের দিকে নজর রাখছে জামায়াত Logo শেখ হাসিনার লাশ বাংলাদেশে জানাজা পাবে না : সারোয়ার তুষার Logo স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে খুশির জোয়ারে ভাসছেন ফিলিস্তিনিরা Logo ১৭ বছর এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছে: নিপুণ রায়

ভারতে মুসলিম শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় মেডিকেল কলেজের স্বীকৃতি বাতিল!

  • নিজস্ব সংবাদ :
  • আপডেট সময় ০৬:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০৬ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
হিন্দুত্ববাদীদের বিক্ষোভের মুখে ভারতের একটি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্স পরিচালনার অনুমতি বাতিল করেছে ভারতের জাতীয় মেডিকেল কমিশন (এনএমসি)। অভিযোগ উঠেছে, মুসলিম শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে জম্মু ও কাশ্মীরের কাটরায় অবস্থিত শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এক্সেলেন্স (এসএমভিডিআইএমই)-এ। এ নিয়ে বিতর্কের ঝড় বইছে ভারতজুড়ে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এসএমভিডিআইএমই’র প্রথম এমবিবিএস ব্যাচে মোট ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জনই ছিলেন মুসলিম। এটি নিয়ে ‘শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী সংগ্রাম সমিতি’ নামে প্রায় ৬০টি আরএসএস ও বিজেপি-ঘনিষ্ঠ সংগঠন কলেজটির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। তারা মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিলের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল।

এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো, শিক্ষকসংখ্যা এবং ক্লিনিক্যাল সুবিধায় গুরুতর ঘাটতির কথা উল্লেখ করে এমবিবিএস কোর্স পরিচালনার অনুমতি বাতিল করে মোদি সরকার।

এনএমসি জানিয়েছে, চলতি মাসে আকস্মিক পরিদর্শনে তারা কলেজটির অবকাঠামো ও সুযোগ–সুবিধায় গুরুতর ঘাটতি পেয়েছে। তবে এসএমভিডিআইএমই কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদনকে ‘তথ্যবিরোধী’ ও ‘প্রহসন’ বলে দাবি করেছে।

তাদের অভিযোগ, পরিদর্শক দল আগে থেকেই কলেজটি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে এসেছিল, যাতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে আন্দোলনকারীদের তুষ্ট করা যায়।

জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এই সিদ্ধান্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং শীর্ষ প্রশাসনের দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। জম্মুতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যদি মেডিকেল কলেজে ঘাটতি থেকে থাকে, তাহলে শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে শুরু করে সবার কাছে জবাব চাইতে হবে। আপনারা একটি মেডিকেল কলেজ খুললেন, কিন্তু এনএমসি পরিদর্শনে তা পাস করতে পারলো না কেন?’

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাকিনা ইতোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের দ্রুত তাদের নিজ নিজ এলাকার নিকটবর্তী সরকারি মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা যায় এবং তাদের পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ একটি মেডিকেল কলেজ পাওয়ার জন্য লড়াই করে, আর এখানে আমরা যা পেয়েছিলাম, সেটি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য আন্দোলন করা হয়েছে—এটি দুর্ভাগ্যজনক।

জম্মু ও কাশ্মীরের শিবসেনা, আম আদমি পার্টি ও কংগ্রেসও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

কামাল হোসাইন

হ্যালো আমি কামাল হোসাইন, আমি গাইবান্ধা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছি। ২০১৭ সাল থেকে এই পত্রিকার সাথে কাজ করছি। এভাবে এখানে আপনার প্রতিনিধিদের সম্পর্কে কিছু লিখতে পারবেন।
জনপ্রিয় সংবাদ

সহজ হচ্ছে এনআইডি সংশোধন, প্রবাসীদের ভোটার নিবন্ধনে কমছে জটিলতা

ভারতে মুসলিম শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় মেডিকেল কলেজের স্বীকৃতি বাতিল!

আপডেট সময় ০৬:৩৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
হিন্দুত্ববাদীদের বিক্ষোভের মুখে ভারতের একটি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্স পরিচালনার অনুমতি বাতিল করেছে ভারতের জাতীয় মেডিকেল কমিশন (এনএমসি)। অভিযোগ উঠেছে, মুসলিম শিক্ষার্থী বেশি হওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে জম্মু ও কাশ্মীরের কাটরায় অবস্থিত শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল এক্সেলেন্স (এসএমভিডিআইএমই)-এ। এ নিয়ে বিতর্কের ঝড় বইছে ভারতজুড়ে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, এসএমভিডিআইএমই’র প্রথম এমবিবিএস ব্যাচে মোট ৫০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪৪ জনই ছিলেন মুসলিম। এটি নিয়ে ‘শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী সংগ্রাম সমিতি’ নামে প্রায় ৬০টি আরএসএস ও বিজেপি-ঘনিষ্ঠ সংগঠন কলেজটির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। তারা মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাতিলের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল।

এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামো, শিক্ষকসংখ্যা এবং ক্লিনিক্যাল সুবিধায় গুরুতর ঘাটতির কথা উল্লেখ করে এমবিবিএস কোর্স পরিচালনার অনুমতি বাতিল করে মোদি সরকার।

এনএমসি জানিয়েছে, চলতি মাসে আকস্মিক পরিদর্শনে তারা কলেজটির অবকাঠামো ও সুযোগ–সুবিধায় গুরুতর ঘাটতি পেয়েছে। তবে এসএমভিডিআইএমই কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদনকে ‘তথ্যবিরোধী’ ও ‘প্রহসন’ বলে দাবি করেছে।

তাদের অভিযোগ, পরিদর্শক দল আগে থেকেই কলেজটি বন্ধ করার উদ্দেশ্যে এসেছিল, যাতে মুসলিম শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে আন্দোলনকারীদের তুষ্ট করা যায়।

জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ এই সিদ্ধান্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং শীর্ষ প্রশাসনের দায় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন। জম্মুতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘যদি মেডিকেল কলেজে ঘাটতি থেকে থাকে, তাহলে শ্রী মাতা বৈষ্ণোদেবী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য থেকে শুরু করে সবার কাছে জবাব চাইতে হবে। আপনারা একটি মেডিকেল কলেজ খুললেন, কিন্তু এনএমসি পরিদর্শনে তা পাস করতে পারলো না কেন?’

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাকিনা ইতোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের দ্রুত তাদের নিজ নিজ এলাকার নিকটবর্তী সরকারি মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা যায় এবং তাদের পড়াশোনা যেন বন্ধ না হয়।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ একটি মেডিকেল কলেজ পাওয়ার জন্য লড়াই করে, আর এখানে আমরা যা পেয়েছিলাম, সেটি বন্ধ করে দেওয়ার জন্য আন্দোলন করা হয়েছে—এটি দুর্ভাগ্যজনক।

জম্মু ও কাশ্মীরের শিবসেনা, আম আদমি পার্টি ও কংগ্রেসও এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে।