ওয়াশিংটন যখন ইরানে যুদ্ধে প্রায় জিতে গেছে, তখন লন্ডনের সামরিক সহায়তার আর কোনো প্রয়োজন নেই। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের কড়া সমালোচনা করে এমনটাই বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শনিবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে বিদ্রূপ করে বলেন, এক সময়ের মহান মিত্র যুক্তরাজ্য এখন মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর কথা ভাবছে। কিন্তু যুদ্ধের এই পর্যায়ে তাদের এই সহায়তার দরকার নেই। ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যারা জোটে যোগ দিতে চায়, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার কোনো কারণ নেই।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে সম্ভাব্য মোতায়েনের জন্য তাদের একটি বিমানবাহী রণতরীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ব্রিটিশ ডেস্ট্রয়ার ‘এইচএমএস ড্রাগন’ সাইপ্রাসের উদ্দেশ্যে যাত্রার অপেক্ষায় রয়েছে। এর পরই এমন মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরাইলের যৌথ হামলার সময় সরাসরি অংশ না নেওয়ায় স্টারমারকে ‘উইনস্টন চার্চিল নন’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন ট্রাম্প। ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে দেরি করায় ট্রাম্প স্টারমারের ওপর চরম অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
স্টারমার ব্রিটিশ জনগণের উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ব্রিটেন সরাসরি হামলায় অংশ না নিলেও ওই অঞ্চলে আত্মরক্ষামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
‘যুদ্ধ শুরু করা সহজ, শেষ করা কঠিন’
লন্ডনের মেয়র সাদিক খান ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পক্ষ নিয়ে বলেছেন, ইরানের ওপর হামলায় যোগ না দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের চাপ উপেক্ষা করে স্টারমার একদম সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শনিবার এক বিবৃতিতে সাদিক খান জানান, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতাই যুক্তরাজ্যের জন্য মঙ্গলজনক, বিশৃঙ্খলা বা রক্তপাত কোনো সমাধান নয়। তিনি এই সংঘাতকে একটি ‘ইচ্ছাকৃত যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে সতর্ক করেন যে, এতে জড়িয়ে পড়লে কেবল সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আর অপ্রয়োজনীয় প্রাণহানিই বাড়বে। খবর সিএনএনের।

নিজস্ব সংবাদ : 























